kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

হেফাজতের তাণ্ডব

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১৩ এপ্রিল, ২০২১ ০৮:২৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা

গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করেন রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। ছবি: কালের কণ্ঠ

হেফাজতের তাণ্ডবের শিকার ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে ঠিক কবে থেকে ট্রেন থামবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি খোদ রেলপথ মন্ত্রী মো:নুরুল ইসলাম সুজন। যে কারণে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ স্টেশনটিতে ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিয়ে একপ্রকার অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

গত ২৬ ও ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে তান্ডব চালানো হয়। এতে সিগন্যাল বোর্ডসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। হামলার পর থেকেই স্টেশনটিতে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। যে কারণে যাত্রীদের মাঝে দুর্ভোগ নেমে আসে।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তান্ডবের ঘটনায় আরো ২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়ালো ১০৪ এ। তবে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে হেফাজত ইসলামের উল্লেখযোগ্য কোনো নেতা নেই। সদর থানায় দায়ের হওয়া ৪৩ মামলায় ৮৪ জন, আশুগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া তিন মামলায় ১৩ জন, সরাইল থানায় দায়ের হওয়া দুই মামলায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে আখাউড়া রেলওয়ে থানায় দায়ের করা মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ৪৯ টি মামলায় ২৮৮ জন এজহারনামীয়সহ ৩৫ হাজার অজ্ঞাতনামাকে আসামি করা হয়।

অপরদিকে পুলিশ হামলার উস্কানিদাতাদের ধরতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া পোস্ট বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে। এ অবস্থায় অনেকে পোস্ট সরিয়েও ফেলছেন। তবে স্ক্রিনশট দেখে দেখে উস্কানিদাতাদেরকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ।

সোমবার (১২ এপ্রিল) ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনে এসে রেলপথ মন্ত্রী জানিয়েছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন যাত্রাবিরতি দিতে সব কিছু দ্রুত মেরামতের চেষ্টা চলছে। তবে এটা করতে কয়েক মাস সময় লাগবে। এজন্য এখানকার মানুষজনকে ধৈর্য্য ধরতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বিএপি-জামায়াত-হেফাজত ২০১৩-১৪ সালে আগুন জ্বালিয়ে এদেশকে ছারখার করেছে। একই শক্তি ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশন পুড়িয়েছে। তাদের আস্ফালন সরকারের বিরুদ্ধে না রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।’

মন্ত্রীর সঙ্গে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী স্থানীয়দের কাছ থেকে তাণ্ডবের বর্ণনা শুনেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্থ বিভিন্ন স্থাপনাও ঘুরে দেখেন।

প্রসঙ্গত, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত হেফাজত ইসলামের তাণ্ডবের ঘটনা ঘটে। ওই তিন দিনের তাণ্ডবে প্রায় একশ’র মতো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় পুলিশের গুলিতে অন্তত ১৩ জন মারা যায়।



সাতদিনের সেরা