kalerkantho

রবিবার । ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৩ জুন ২০২১। ১ জিলকদ ১৪৪২

তাড়াশে ঘুষ চেয়ে ইউপি সদস্যের তাগাদা!

'সরকারের দেওয়া ঘর আমার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে'

তাড়াশ-রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১২ এপ্রিল, ২০২১ ২০:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'সরকারের দেওয়া ঘর আমার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে'

'জায়গা আছে ঘর নাই' প্রকল্পের আওতায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার অসহায় দুই ব্যক্তি ঘর নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। আর ইউপি সদস্যদের চাহিদামতো ঘুষের টাকা দিতে না পারায় তাদের প্রতিনিয়ত তাগাদার অত্যাচারে অতিষ্ঠ করে তুলেছেন। এর প্রতিকার চেয়ে ঘর পাওয়া রোজিনা ও নুর ইসলাম তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে সূত্রে জানা গেছে, তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের পংরৌহালী গ্রামের রোজিনা খাতুন ও নুরুল ইসলাম সরকারি ঘরের জন্য তাড়াশ ইউএনও বরাবর আবেদন করেন। যা যাচাই বাচাই শেষে তাদের নামে সরকারিভাবে ঘর বরাদ্দও দেওয়া হয় এবং ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়। কিন্তু ঘর নির্মাণ শেষ হলে ওই ইউনিয়নের (১, ২ ও ৩) সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য লতা পারভীন ও একই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক সরকারি ঘর পাওয়া দরিদ্র নুরুল ইসলাম ও রোজিনার নিকট থেকে ঘর আনতে তাদের টাকা খরচ হয়েছে বলে তাদের দুজনের প্রত্যকের নিকট থেকে ৩০ হাজার করে টাকা করে উৎকোচ দাবি করেন। আর টাকা না দিলে ঘর ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হবে মর্মে অভিযোগ করেন নুরুল ইসলাম ও রোজিনা খাতুন।

রোজিনা খাতুন অভিযোগ করে জানান, ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক ও লতা খাতুন প্রতিনিয়তই আমার নিকট থেকে ওই ঘুষের ৩০ হাজার টাকার জন্য তাগাদার পাশাপাশি সে টাকা না দিলে দেখে নেওয়াসহ নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছেন।

এদিকে আরেক সরকারি ঘর পাওয়া নুরুল ইসলাম জানান, সরকারের দেওয়া ঘর এখন আমার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ইউপি সদস্য লতা ও আব্দুল খালেক আমার কাছে ঘুষ বাবদ ৩০ হাজার টাকা দাবি করছেন। আর সরকারি ঘর আনতে তাদের অনেক টাকা খরচ হয়েছে বলে তারা এ ঘুষ চাচ্ছেন।

তা ছাড়া তারা আমাকে বলছেন, ওই টাকা না দিলে মামলা করে হয়রানি করা হবে। এ ছাড়া অপর ইউপি সদস্য লতা বেগম বলেছেন ঘরের জন্য ৩০ হাজার টাকা না দিলে আমার নামে থাকা বয়স্ক ভাতার কার্ডও বাতিল করে দেবেন। তাই বাধ্য হয়ে আমি তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি।

এ অভিযোগ প্রসঙ্গে নওগাঁ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক বলেন, সব মিথ্যা কথা। আমি তাদের নিকট থেকে কোনো টাকা চাই নাই। সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্যা লতা খাতুন বলেন, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেজবাউল করিম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। লকডাউনের পর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা