kalerkantho

রবিবার । ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৩ জুন ২০২১। ১ জিলকদ ১৪৪২

শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌ-রুট

লকডাউন ঘোষণায় বেশি ভাড়া দিয়ে বাড়ি ফিরছে মানুষ

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি   

১২ এপ্রিল, ২০২১ ১৯:৪২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লকডাউন ঘোষণায় বেশি ভাড়া দিয়ে বাড়ি ফিরছে মানুষ

'সর্বাত্মক লকডাউনের' ঘোষণায় শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌ-রুটে উভয়মুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় পড়েছে। লঞ্চ বন্ধ থাকলেও ফেরি, স্পিডবোট, ট্রলারে হাজার হাজার যাত্রী গাদাগাদি ঠাসাঠাসি করে পারাপার হচ্ছে। ফেরিতে যাত্রীদের চাপ সামলাতে কম যানবাহন নিয়েই ফেরি পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহনে বাড়তি ভাড়া দিয়ে বাড়ি ফিরছে যাত্রীরা। কোথাও দেখা যায়নি স্বাস্থ্যবিধি মানার লক্ষণ।

এদিকে ফেরি চলাচল সীমিত থাকায় ঘাট এলাকায় পণ্যবাহী ট্রাকের জট রয়েছে। শতাধিক কাঁচামালবাহী ট্রাক আটকে মালে পচন ধরেছে। দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার কাঁচামালবাহী ট্রাক সঠিকভাবে পার হতে না পারায় দ্রব্যমূল্যে প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিনে একাধিক জানা যায়, ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক কঠোর লকডাউন ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ফলে সোমবার সকাল থেকেই শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটে দক্ষিণাঞ্চল ও ঢাকাগামী যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। শিমুলিয়া থেকে এ চাপ আরো বেশি ছিল। দুপুরের পর ভিড় উপচে পড়ায় রূপ নেয়। শিমুলিয়া থেকে বাংলাবাজার ঘাটে আসা প্রতিটি ফেরি ছিল যাত্রী ও যানবাহনে কানায় কানায় পূর্ণ। যাত্রী চাপে যানবাহন কম নিয়েই পার হতে বাধ্য হয় ফেরিগুলো। লঞ্চ বন্ধ থাকলেও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শিমুলিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা স্পিডবোট ও ট্রলারে পারাপার হয় শতশত যাত্রী। ঘাট এলাকায় এসে ইজিবাইক, সিএনজি, মোটরসাইকেলসহ বিকল্প যানবাহনে দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছান। ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে পৌঁছতে ৪ গুণেরও বেশি ভাড়া পড়ে যাচ্ছে। ঢাকা থেকে ৩ থেকে ৪ গুণ ভাড়া গুনে শিমুলিয়া থেকে স্পিডবোটে ভাড়া যাত্রী প্রতি নেওয়া হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। ট্রলারে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে দেড় শ টাকা। ঘাটে নেমে ইজিবাইক, সিএনজি, মোটরসাইকেলে বরিশালে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, গোপালগঞ্জ ৫০০ টাকা, খুলনা ৭০০ টাকা, মাদারীপুর ২০০ টাকা, বাগেরহাট ৬৫০ টাকাসহ প্রতিটি যানবাহনেই কয়েকগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এদিকে উভয় ঘাটেই যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

সপরিবারে ঢাকা থেকে বরিশালগামী ইউসুফ মিয়া বলেন, ঢাকা থেকে ঘাটে পৌঁছাতেই পকেটের টাকা ফুরিয়ে গেল। পরে আবার বিকাশে টাকা এনে বরিশাল রওনা দিচ্ছি। বাসে বরিশাল ভাড়া ১৮০ টাকা সিএনজিতে নিচ্ছে ৫০০ টাকা।

খুলনাগামী রুমা আক্তার বলেন, ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য শুরু হয়েছে। করোনা বাড়ার ভয়তে বাড়ি চলে যাচ্ছি।

কাশেম মিয়া নামের তরমুজ ব্যবসায়ী বলেন, ৩ গাড়ি তরমুজ নিয়ে ৩ দিন ধরে ঘাটে আটকা। ঢাকা যাব। ১টা পার হইছে। বাকিগুলো আটকা। তরমুজ নষ্ট হচ্ছে। এ কেমন আইন কাঁচামালও আটকে রাখে। এতে জনগণেরও লস ব্যবসায়ীদেরও লস। অনেক কাঁচামালের গাড়ি আটকা এতে তো ঢাকায় মালের দাম বেড়ে যাবে।

বিআইডাব্লিউটিসির বাংলাবাজার ঘাট ম্যানেজার মো. সালাহউদ্দিন বলেন, ফেরি চলাচল সীমিত করায় ঘাটে ট্রাকের দীর্ঘ সারি পড়েছে। আর জনগণকে আমরা স্বাস্থ্যবিধি বুঝানোর চেষ্টা করছি।



সাতদিনের সেরা