kalerkantho

রবিবার । ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৩ জুন ২০২১। ১ জিলকদ ১৪৪২

আ. লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে নিহত ২

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল   

১২ এপ্রিল, ২০২১ ০৩:৩৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আ. লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে নিহত ২

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ উলানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বিরোধের জের ধরে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর (স্বতন্ত্র) সমর্থকদের সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ছয়জন।

গত শনিবার গভীর রাতে এবং গতকাল রবিবার ভোরে উলানিয়া ইউনিয়নের পূর্ব ও পশ্চিম সুলতানী গ্রামে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় গতকাল বিকেল পর্যন্ত পুলিশ উভয় পক্ষের আটজনকে আটক করেছে। আটককৃতরা সবাই সরকারদলীয় নেতাকর্মী।

নিহতরা হলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রুমা আক্তার সরদারের সমর্থক সাইফুল সরদার (২৮) ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কাজী আব্দুল হালিম মিলন চৌধুরীর চাচাতো ভাই সাঈদ চৌধুরী (২২)। সাইফুল ইউনিয়নের আশা গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে। সাঈদ একই ইউনিয়নের পশ্চিম সুলতানী গ্রামের কাইয়ুম চৌধুরীর ছেলে। দুজনই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর মেহেন্দীগঞ্জের উত্তর ও দক্ষিণ উলানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। প্রচার চলছিল। কিন্তু সীমানা নিয়ে জটিলতার কারণে এক বাসিন্দার উচ্চ আদলতে করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন ওই দুটি ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত করে। এর জন্য দুই প্রার্থী একে অন্যকে দায়ী করেন। এরপর তাঁদের সমর্থকদের মধ্যে বেশ কয়েকবার হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সেই ঘটনার জের ধরে সর্বশেষ সংঘর্ষে দুজন নিহত হলেন।

নিহত সাইফুল সরদারের স্ত্রী খাদিজা বেগম সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, শনিবার গভীর রাতে কাজী আব্দুল হালিম মিলন চৌধুরী ও তাঁর সমর্থকরা রামদাসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে পূর্ব সুলতানী গ্রামে রুমা আক্তার সরদারের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এ সময় তাঁর স্বামী সাইফুল সরদারকে কালীগঞ্জ সেতুর পাশের এলাকায় ধরে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া মিলন চৌধুরীর সমর্থকরা কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর করে এবং সে কাজে কতটুকু কিভাবে সহযোগিতা করবে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। সিদ্ধান্ত হলে তাঁদের কাজ প্রকাশ্যে আসবে।

তবে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা হেফাজত মোকাবেলায় নিজেদের দলীয় কঠোর অবস্থানের কথা বললেও মাঠে নেতাদের ব্যক্তিগত হেফাজতবিরোধী শক্ত অবস্থান দেখা যাচ্ছে না। তরুণ দু-একজন নেতা-মন্ত্রী হেফাজতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করলেও অন্যরা নীরবতা পালন করছেন। মামুনুলের অনুসারীরা যখন ফেসবুকে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে, সরকারকে তুলাধোনা করছে, তখন বেশ কয়েকজন নেতাকে ফেসবুকে ব্যক্তিগত ছবি ও আত্মপ্রচারের নানা সংবাদ শেয়ার করতে দেখা যায়। হরহামেশা ফেসবুকে নানা রাজনৈতিক বক্তব্য দেন এমন দুই ডজন কেন্দ্রীয় নেতার ফেসবুক ঘেঁটে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহে হেফাজতের নেতাকর্মীদের অপকর্ম নিয়ে তাঁদের কোনো বক্তব্য নেই। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় হেফাজতের নেতাকর্মীরা তাণ্ডব চালিয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করলেও এগুলো নিয়ে ফেসবুকে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই বেশির ভাগ কেন্দ্রীয় নেতার।

করোনার কারণে মাঠের রাজনীতি বন্ধ। ফলে ফেসবুকে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী হেফাজতের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে পোস্ট দিচ্ছেন। এমন পোস্ট দিয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন একাধিক নেতা। সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে গ্রেপ্তার হন স্থানীয় যুবলীগ নেতা এমাদ আহমেদ। সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় নির্যাতনের শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা আফজাল খান।



সাতদিনের সেরা