kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

মেডিক্যালে উত্তীর্ণ হয়েও ভর্তি অনিশ্চিত, দায়িত্ব নিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

১০ এপ্রিল, ২০২১ ২০:২৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মেডিক্যালে উত্তীর্ণ হয়েও ভর্তি অনিশ্চিত, দায়িত্ব নিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী

সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের হতদরিদ্র অদম্য মেধাবী যমজ সহোদরের পড়ালেখার দায়িত্ব নিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। এ ছাড়া মন্ত্রী তাদের জন্য শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে নগদ এক লাখ টাকা পাঠিয়েছেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর উপহার হিসেবে পাঠানো নগদ এক লাখ টাকা তাদের হাতে তুলে দেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের সদস্য ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাস্টার মো. আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মনোহরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আমিরুল ইসলাম, হাসনাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন, যুবলীগ নেতা আমির হোসেন প্রমুখ।

মনোহরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাস্টার মো. আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মেধাবী দুই সহোদরের সাফল্যের বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর নজরে আসলে তিনি এই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

এদিকে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অদম্য মেধাবী ওই দুই সহোদরকে পড়ালেখার জন্য কিছু আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের মানরা গ্রামের হতদরিদ্র সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক বিল্লাল মিয়ার যমজ দুই ছেলে মো. আরিফ হোসেন এবং শরীফ হোসেন। মেধাবী এই দুই সহোদরের কাছে হার মেনেছে দারিদ্র্যতা। দারিদ্র্যতা তাদের অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে পরাজিত হয়েছে। কোনোভাবেই তাদের দাবিয়ে রাখতে পারেনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের মনোহরগঞ্জ উপজেলার মান্দারগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় হতে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পায় সহোদর আরিফ ও শরিফ। ওই সময় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কুমিল্লা সরকারি সিটি কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হয়। সেখান থেকে এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পায় জমজ সহোদর।

তিন ভাই, এক বোনের মধ্যে যমজ দুই সহোদর বড়। ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম মাদরাসায় এবং বোন আমেনা আক্তার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে। একমাত্র উপার্জনক্ষম দরিদ্র বাবার আয়ে কোনো রকম সংসার চালিয়ে চার সন্তানের লেখাপড়ার ব্যয় বহন করতে হিমশিম খেতে হয়। এক কথায়-নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা।

এবার এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া আরিফ হোসেন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ এবং শরিফ হোসেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।

দুই সহোদর জানান, তারা চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চান। বাবার পরিশ্রম, মায়ের যত্ন আর শিক্ষকদের সহযোগিতা তাদের লেখাপড়ার সাহস যুগিয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এমপির কাছ থেকে উপহার পেয়ে তারা অত্যন্ত খুশি। তা ছাড়া, তাদের ভবিষ্যৎ পড়ালেখার দায়িত্ব নেওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর প্রতি বিনম্র কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের আমলে অর্থাভাবে কারও লেখাপড়া বন্ধ হয়নি। শিক্ষার সর্বস্তরে উপবৃত্তি, মেধাবৃত্তি চালুসহ সার্বিক উন্নয়নে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। তিনি আরো বলেন, অদম্য মেধাবী ওই দুই সহোদর আমাদের সন্তান। তারা আমাদের গর্ব। তারা দারিদ্র্যতার কাছে মাথানত করেনি। বরং; দারিদ্র্যতা তাদের অদম্য ইচ্ছার কাছে পরাজিত হয়েছে। মন্ত্রী তাদের ভবিষ্যতে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে অতীতের ন্যায় সকল প্রকার সহায়তার আশ্বাস দেন।

মন্ত্রীর প্রত্যাশা অদম্য মেধাবী ওই দুই সহোদর আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে আগামীদিনে মানুষের কল্যাণে নিজেদের বিলিয়ে দেবে।

যমজ দুই সহোদর আরিফ হোসেন ও শরিফ হোসেনের বাবা বিল্লাল মিয়া বলেন, আমার সন্তানদের পড়ালেখার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম অতীতের ন্যায় আবারো সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সে জন্য আমি ও আমার পরিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর কাছে চিরঋণী এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।



সাতদিনের সেরা