kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

নুসরাতের কবরে পিবিআইয়ের ফুলেল শ্রদ্ধা

সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি   

১০ এপ্রিল, ২০২১ ২০:০৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নুসরাতের কবরে পিবিআইয়ের ফুলেল শ্রদ্ধা

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত সেই মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার কবরে ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

আজ শনিবার বিকেলে পিবিআইর পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ও পরিদর্শক মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. শাহ আলমের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি দল নুসরাতের কবরে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান।

তাদের ফুলেল শ্রদ্ধায় লেখা ছিল "নুসরাতের আত্মার মাগফেরাত কামনায় পিবিআই'। এ সময় কবর জিয়ারতে অংশ নেন পিবিআই সদস্যরা। মোনাজাত পরিচালনা করেন পিবিআই পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান। তিনি মোনাজাতে নুসরাতের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

কবর জিয়ারত শেষে পিবিআইয়ের সদস্যরা নুসরাতের বাবা ও ভাইকে সান্ত্বনা দেন। তারা নুসরাতের বাড়িতে গিয়ে তার মা শিরিনা আখতারের সাথে কুশল বিনিময় করে তাকেও সান্ত্বনা প্রদান করেন। সেখানে কিছু সময় অতিবাহিত করেন।

এর আগে সকালে নুসরাতের নিজ বাড়িতে পরিবারের পক্ষ থেকে সীমিত পরিসরে কোরআন খতম, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সকালে মোনাজাত পরিচালনা করেন নুসরাত জাহান রাফির পিতা এ কে এম মুসা মানিক। মোনাজাতে অংশ নিয়ে পিতার সাথে উপস্থিত লোকজন কান্নায় ভেঙে পড়েন।

নুসরাতের বড় ভাই মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান নোমান তার প্রতিক্রায় জানান, আমরা মহান আল্লাহর দরবারে আমার বোনের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। আমরা বিচারিক আদালতে ন্যায়বিচার পেয়েছি। আমরা শুনেছি আসামিরা উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। শিগগিরই উচ্চ আদালতে আপিলের শুনানি শুরু হবে। উচ্চ আদালতের কাছেও আমরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশী। আদালত যে রায় দেন আমরা সে রায় মেনে নেব। আমাদের পরিবারের জন্য একমাত্র হুমকি আসামিদের স্বজন ও ক্যাডারদের ব্যবহৃত ফেসবুক। তাদের ফেসবুক আইডি থেকে আমাদের পরিবার ও আমার বোন নিয়ে বিষোদগার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

নুসরাতের পিতা এ কে এম মুসা মানিক বলেন, আমার মেয়ের জন্য দোয়া চাই। আমাদের দৃষ্টি এখন উচ্চ আদালতের দিকে। আদালতের রায়ের প্রতি আমরা সব সময় শ্রদ্ধাশীল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অতীতে যেমনি আমাদের পাশে ছিলেন, ভবিষ্যতেও থাকবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষার আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে গেলে হল থেকে ডেকে পাশের ভবনের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় তাকে তার সহপাঠীরা গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে হত্যার চেষ্টা চালায়। এতে তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়। ৯ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে নুসরাত জাহান রাফি। 



সাতদিনের সেরা