kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

নন্দীগ্রামে হচ্ছে না ২০০ বছরের ঐতিহ্য 'জামাই মেলা'

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি    

১০ এপ্রিল, ২০২১ ১২:৫২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নন্দীগ্রামে হচ্ছে না ২০০ বছরের ঐতিহ্য 'জামাই মেলা'

এটা ২০১৯ সালের জামাই মেলার দৃশ্য

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী দুটি ‘জামাই মেলা’ এবার হচ্ছে না। শনিবার সকালে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান থালতা মাজগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন।

জানা গেছে, প্রতিবছর বাংলা সনের চৈত্র মাসের শেষ দিন থেকে তিন দিনের এই মেলা হয়। নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা মাজগ্রাম ইউনিয়নের পাঠান গ্রামে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী এ মেলা ২০০ বছর ধরে হয়ে আসছে। প্রাচীন এ মেলায় লোকসমাগম বেড়ে যাওয়ায় পাশের নিমাইদীঘিতেও আরেকটি মেলা বসছে এক দশক ধরে। এই মেলার প্রধান আকর্ষণ জামাইদের মিষ্টি কেনা। মেলায় আড়াই কেজি ওজনের মিষ্টিসহ বাহারি মিষ্টি ওঠে। আর মেলার কাছে যেতেই বাতাসে বাহারি মিষ্টির মৌ মৌ ঘ্রাণ। এলাকার জামাইরা মেলায় গিয়ে মাটির হাঁড়ি ভরে মিষ্টি নেন। এ নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যান। কোন বাড়ির জামাই কত মিষ্টি কিনতে পারেন এ নিয়ে চলে প্রতিযোগিতা। এ জন্য স্থানীয়ভাবে এই দুটি মেলা ‘জামাই মেলা’ নামেই পরিচিত। এছাড়াও মেলায় ওঠে বাঁশ-বেত, বাঁশি, ধাতব কারুপণ্য ও মৃৎশিল্পসহ কারুশিল্পের সমারোহের পাশাপাশি থাকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

মেলা কমিটির সভাপতি ও ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে নন্দীগ্রাম উপজেলায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী দুটি ‘জামাই মেলা’ এবার হচ্ছে না। তাই মেলা বন্ধের বিষয়ে এলাকায় মাইকিং করে জানানো হয়েছে।

জানতে চাইলে থালতা মাজগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে মেলা, সামাজিক অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় সমাবেশসহ জনসমাগম-গণজমায়েত হয় এমন সকল কিছু পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখাসহ বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে প্রশাসন। এই নির্দেশনার পাশাপাশি মেলা কমিটির সিদ্ধান্ত ও সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে এবারো মেলা বন্ধ করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা