kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

ধর্মপাশায় শীলাবৃষ্টিতে ২ হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট

'শীলাবৃষ্টি আমার সব শেষ কইরা দিছে'

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি   

৯ এপ্রিল, ২০২১ ২১:১৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'শীলাবৃষ্টি আমার সব শেষ কইরা দিছে'

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় কালবৈশাখী ঝড় ও শীলাবৃষ্টির আঘাতে ৫টি ইউনিয়নের প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির পাকা ও আধা পাকা বোরো ধান সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এক আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও শীলা বৃষ্টিতে এ ফসলহানীর ঘটনাটি ঘটে।

এতে করে উপজেলা সদর ইউনিয়ন, সেলবরষ ইউনিয়ন, পাইকুরাটি ইউনিয়ন, সুখাইর-রাজাপুর উত্তর ইউনিয়ন ও মধ্যনগর ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষক তাদের বছরের একমাত্র বোরো ফসল হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

এদিকে, ফসলহানীর ঘটনায় এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কান্না ও আহাজারিতে পুরো হাওর এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামের কৃষক ইবাদুল ইসলাম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, বাড়ির পাশের কেউডির হাওর, কাডা আছরা হাওর ও মেধার হাওরে থাকা আমার প্রায় ১০ একর জমিতে এবার আমি দেড় লাখ টাকা ধার-দেনা করে বোরো আবাদ করেছিলাম। আমার সব জমির পাকতে শুরু করেছিল।

তিনি বলেন, আগামী ২-৩ দিনের মধ্যেই আমার জমির পাকা ধান কাটার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে বয়ে যাওয়া কাল বৈশাখী ঝড় ও শীলা বৃষ্টিতে আমার সব শেষ কইরা দিছে। এককেজি ধানও ঘরের তোলার মতো আর রইল না। এখন আমি কি করব কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।

উপজেলার সুখাইড়-রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের গুলুয়া গ্রামের ষাট উর্ধ্ব কৃষক ইদ্রিস মিয়া বলেন, ধারাম হাওরে আমার প্রায় ৪৫ একর জমিতে সাড়ে ৪ লাখ টাকা খরছ করে এবার বোরো আবাদ করেছি। শীলাবৃষ্টিতে আমার সব শেষ কইরা দিছে। আল্লাহ্ এইভাবে আমার সব শেষ না কইরা যদি আমারেই নিয়া যাইলেই পারত। এ কথা বলেই তিনি কাঁদতে থাকেন।

উপজলার সেলবরষ ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর হোসেন বলেন, কালবৈশাখী ঝড় ও শীলাবৃষ্টিতে আমার ইউনিয়নের কৃষকদের যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নেওয়ার মতো নয়। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদেরকে সরকারিভাবে যতটুকু সাহায্য করা প্রয়োজন এই কৃষকবান্ধব সরকার ততটুকুই সহায়তায় দিবে বলে আমি আশাবাদী।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো, নাজমুল ইসলাম বলেন, এবার চলতি বোরো মৌসুমে এ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৮টি বড় হাওরে মোট ৩১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, গত ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় বয়ে যাওয়া এক আকস্মিত গরম ঝড়ো হাওয়ায় আশপাশের বিভিন্ন উপজেলায় বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হলেও আমাদের এখানে তেমন ক্ষতি হয়নি। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও শীলাবৃষ্টিতে ওইসব এলাকার কৃষকের প্রায় ১ হাজার ৬ শত হেক্টর জমির পাকা ও আধা পাকা বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে। তবে শুক্রবার সকাল থেকেই আমিসহ আমার কার্যালয়ের সকল কর্মকর্তারাই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছি এবং কৃষকের সঠিক ক্ষয়-ক্ষতিকর সঠিক পরিমাপ নির্ণয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।



সাতদিনের সেরা