kalerkantho

রবিবার। ২৮ চৈত্র ১৪২৭। ১১ এপ্রিল ২০২১। ২৭ শাবান ১৪৪২

মির্জাপুর মহিলা কলেজ

উপবৃত্তির ফরম নিতে দিতে হলো যোগাযোগ ও অনলাইন ফি ২০০ টাকা

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

৯ এপ্রিল, ২০২১ ১২:২৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উপবৃত্তির ফরম নিতে দিতে হলো যোগাযোগ ও অনলাইন ফি ২০০ টাকা

ফাইল ছবি

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর মহিলা কলেজের এইচএসসি ও ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ২৯২ জন ছাত্রীকে উপবৃত্তির ফরম নিতে ২০০ টাকা করে যোগাযোগ ও অনলাইন ফি দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এইচএসসি প্রথম বর্ষের ২৬০ জন ও ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ৩২ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে উপবৃত্তির ফরম বাবদ ২০০ টাকা করে দিতে বাধ্য করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। বৃত্তির তালিকায় স্থান পাওয়ার আগেই তাদের ওই টাকা দিতে হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে কলেজের শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, মির্জাপুর মহিলা কলেজে এইচএসসি প্রথম বর্ষে তিন বিভাগে ২৬০ জন ও দ্বিতীয় বর্ষেও ২৬০ জন এবং ডিগ্রিতে তিন বর্ষে ১২০ জন ছাত্রী রয়েছেন। এর মধ্যে ডিগ্রি প্রথম বর্ষে ৩২ জন ছাত্রী আছেন। উপবৃত্তি পেতে কলেজ থেকে একটি ফরম সংগ্রহ করে তা জমা দিতে হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ উপবৃত্তি পেতে ওই ফরম অনলাইনে আবেদন জানাবে। এজন্য কলেজে অধ্যয়নরত এইচএসসি প্রথম বর্ষের ২৬০ জন ও ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ৩২ জন ছাত্রীকে ফরম দেয়া হয়। এ জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে যোগাযোগ ও অনলাইন খরচ বাবদ ২০০ টাকা করে নেয়া হয়। তবে কোনো কোনো ছাত্রী উপবৃত্তি পাবে তার কোনো নিশ্চয়তা না থাকলেও সকল ছাত্রীর কাছ থেকেই ফরম বাবদ ২০০ টাকা করে নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এতে কলেজের শিক্ষক, অভিভাবক ও ছাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, অধ্যক্ষ নিজের একক সিদ্ধান্তে এ টাকা নিয়েছেন। মহামারি এই করোনা মৌসুমে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নেয়া অমানবিক কাজ। এছাড়া অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে তারা জানান।

অভিভাবকরা জানান, কয় জন মেয়েকে উপবৃত্তি দেয়া হবে তার সঠিক তথ্য অধ্যক্ষ স্যার দিতে পারেননি। কিন্তু সকল ছাত্রীর কাছ থেকেই ২০০ টাকা করে নিয়েছেন। 

কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপবৃত্তির টাকা উত্তোলনের আগে ফরম পূরণ করতে হবে বলে কলেজ থেকে জানানো হয়েছিল। প্রত্যেক ছাত্রীকে ২০০ টাকা করে কলেজে জমা দিয়ে ফরম নিতে হয়েছে। এজন্য তাদের কোনো রশিদ দেওয়া হয়নি বলে জানান।

মির্জাপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, এইচএসসি প্রথম বর্ষের প্রায় ২৬০ জন ও ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ৩০ জন ছাত্রী উপবৃত্তির ফরম পূরণ করেছেন। এর মধ্যে এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্রীদের কাছ থেকে যোগাযোগ ও অনলাইন খরচ বাবদ ২০০ টাকা করে নেয়া হয়েছে। সকলেই উপবৃত্তি পাবেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, সকল ছাত্রীর ফরম পূরণ করতে বলেছে তাই করেছি। কয় জন পাবে তার সঠিক তথ্য জানা নেই বলে জানান।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।  

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ২০ ডিসেম্বর কলেজের মাঠে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির দুই স্কুলছাত্রী খেলছিল। অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ তাদের ডেকে কলেজের একটি কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। ঘটনা জানাজানির পর তাদের মায়েরা তৎকালীন মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০১৯ সালের ২৪ জুন অধ্যক্ষ হারুনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তখনকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছিলেন। এ নিয়ে কালের কণ্ঠ পত্রিকাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। গত বছর ৩০ জুন অধ্যক্ষ পুনরায় কলেজে যোগদান করেন। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা