kalerkantho

বুধবার । ৮ বৈশাখ ১৪২৮। ২১ এপ্রিল ২০২১। ৮ রমজান ১৪৪২

২৬০ বিদেশি হোম কোয়ারেন্টিনে

আরএনপিপি প্রকল্প : দেশি শ্রমিকদের টিকা দেওয়ার সুপারিশ

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি   

৮ এপ্রিল, ২০২১ ১৬:৫৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আরএনপিপি প্রকল্প : দেশি শ্রমিকদের টিকা দেওয়ার সুপারিশ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে (আরএনপিপি) কর্মরত বিদেশি ও দেশি শ্রমিকদের করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। টিকা দেওয়ার পরও প্রতিদিনই ২/৩ জন নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিদেশি শ্রমিকদের পাশাপাশি প্রকল্পে কর্মরত দেশি শ্রমিকদেরও টিকা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিকট সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে করোনা মহামারির মধ্যে ইউরোপ থেকে নতুন করে রূপপুর প্রকল্পে আসা ২৬০ জন নাগরিককে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের রাশিয়ান মূল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এটমস্ট্রোয়েক্সপোর্ট (এএসই) চিকিৎসক ডাক্তার ফকরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে এসব  তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত রাশিয়ানদের বসবাসকৃত গ্রিনসিটি পল্লীর প্রধান চিকিৎসক।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প (আরএনপিপি) সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রায় তিন হাজার ৫০০ জন বিদেশি নাগরিক এই প্রকল্পে কর্মরত রয়েছেন। প্রকল্প এলাকার এ বিশাল বিদেশি জনগোষ্ঠীর মধ্যে থেকে মাত্র এক হাজার জনকে রাশিয়ান স্পুটনিক ভি টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বাকি প্রায় আড়াই হাজার রাশিয়ান নাগরিক ও দেশীয় আরো প্রায় ১৬ হাজার শ্রমিক আরএনপিপিতে কর্মরত রয়েছে। তাদেরকে এখনো টিকার আওতায় আনা হয়নি।

সূত্র মতে, বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রথমদিকে ৪০ বছরের নিচে কাউকে করোনা টিকা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। আরএনপিপিতে কর্মরত বেশির ভাগ দেশি শ্রমিকদের বয়স ৪০ নিচে। তাই প্রাথমিকভাবে তাদের টিকার আওতায় আনা হয়নি। তবে সম্প্রতি প্রকল্পে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দিনকে দিন বাড়ছে। যা চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই জন্য বয়সের বাধ্যবাধকতা দূর করে কর্মরত ৪০ বছরের নিচের এ দেশীয় শ্রমিকদের কেউ করোনা টিকার আওতায় আনার জন্য ইতিমধ্যে সরকারের নিকট সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

দেশের সর্ববৃহৎ এ উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ২০ হাজার দেশি-বিদেশি শ্রমিক-কর্মচারী স্বাস্থ্যবিধি মেনে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। তবে স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকলেও প্রকল্পের কাজে কোনো ব্যাঘাত ঘটছে না বলেও সূত্রটি দাবি করেছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের আবাসিক এলাকা গ্রিন সিটি পল্লীর দ্বায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. ফখরুল ইসলাম জানান, গত মঙ্গলবার ইউরোপ থেকে রূপপুর প্রকল্পে কাজের জন্য নতুন করে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক এসেছেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই রাশিয়ান নাগরিক। তাদের প্রত্যেককে বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।

১৩ দিন পর তাদের নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষা করা হবে। রিপোর্ট নেগেটিভ আসলে তবেই তারা কাজে যোগ দিতে পারবেন। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকার তিনটি আলাদা স্থানে ২৬০ জন বিদেশিকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের নিয়মিত মেডিক্যাল মনিটরিং করা হচ্ছে। প্রকল্পের বিদেশি কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে তাকে প্রকল্পের অন্য সবার কাছ থেকে আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান এই চিকিৎসক।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার এফ এ আসমা খান জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় কর্মরত রাশিয়ানদের রাশিয়ান ভ্যাকসিন স্পুটনিক-ভি দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পে কর্মরত মেডিক্যাল টিমের সদস্যরা টিকা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ইতিমধ্যে এক হাজার বিদেশি শ্রমিক-কর্মচারীকে প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। টিকাদান কর্মসূচি চলমান রয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সাইট অফিস ইনচার্জ কে বি এম রুহুল কুদ্দুস  জানান, করোনার ঝুঁকি থাকলেও নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রকল্পে কাজ চলছে। ফলে কাজের বড় ধরনের কোনো সমস্যা এখনও হয়নি। প্রকল্পে কর্মরত প্রতিটি কর্মীর নিয়োমিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা