kalerkantho

সোমবার । ৬ বৈশাখ ১৪২৮। ১৯ এপ্রিল ২০২১। ৬ রমজান ১৪৪২

২ লাখ টাকার অভাবে পা হারাবে কলেজছাত্র আরিফ?

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

৭ এপ্রিল, ২০২১ ১৯:৪২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২ লাখ টাকার অভাবে পা হারাবে কলেজছাত্র আরিফ?

লক্ষ্মীপুরে বন্ধুর বাবার জানাজায় যাওয়ার পথে কলেজছাত্র আরিফ হোসেন সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছে, তার ডান পায়ের গোড়ালি উল্টে যাওয়াসহ হাড়ে তিনটি ভাঙা রয়েছে। এতে দ্রুত অপারেশন না করা গেলে পা কেটে ফেলতে হবে।

এদিকে টাকার অভাবে পা হারালে মেধাবী ছাত্র আরিফের ভবিষ্যত অন্ধকার হয়ে যাবে। এ জন্য সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে অপারেশনের মাধ্যমে আরিফ নিজের পায়ে আবারো দাঁড়াতে পারবে। স্বাভাবিকতায় ফিরবে তার জীবন।

আরিফ লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের মিয়ারবেড়ি এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান কামাল সড়কের বাসিন্দা কৃষক মো. সিরাজের ছেলে। তারা ৫ বোন ও দুই ভাই। বোনরা বিবাহিত। তার বড় ভাই মো. শাহিন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে কোনোরকম সংসার চালায়।

অভাব-অনটনের সংসারে কৃষক বাবার পক্ষে আরিফের অপারেশনের ব্যবস্থা করা একেবারেই অসম্ভব। এ জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সহযোগিতা চেয়ে আকুতি জানানো হয়েছে। অর্থিক সহযোগিতার জন্য ০১৮২৪০২৬৮৯৩ (বিকাশ ও নগদ ব্যক্তিগত) এবং ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংক শাখার হিসাব নাম- বিবি কুসুম, নম্বর- ২০৫০৭৭৭০২২৪০১৫৩০৫ (তোরাবগঞ্জ এজেন্ট ব্যাংক শাখা) দেওয়া হয়েছে।

পরিবার সূত্র জানায়, গত ৫ মার্চ কমলনগর উপজেলার চর লরেঞ্চ গ্রামে বন্ধু রাশেদের বাবার জানাযার নামাজে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে আরিফ বের হয়। তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকের সঙ্গে সামনের ডানপাশে বসা ছিল। তার ডান পা বাইরে ছিল। পথিমধ্যে করইতলা বাজারে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের সঙ্গে অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এতে আরিফের ডান পা গুরুতর জখম হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে আরিফ রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ওই হাসপাতালের চিকিৎসক অর্থোপেডিক সার্জেন্ট একেএম নিজাম উল ইসলামের বরাত দিয়ে পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, আরিফের ডান পায়ের হাড় তিন অংশে ভেঙে গেছে। পায়ের গোড়ালিও উল্টে গেছে। যত দ্রুত তার অপারেশন করতে হবে। তা না হলেও পা কেটে ফেলতে হবে।

আরিফের বোন বিবি কুসুম বলেন, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন অপারেশন করতে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লাগবে। এরসঙ্গে প্রয়োজনীয় ওষধ ও অপারেশন ব্যয়ও আছে। ২ লাখ টাকা হলে সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে। কিন্তু দরিদ্র কৃষক বাবা ও রিকশা চালক ভাইয়ের পক্ষে এতো টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়। এজন্য বিত্তবানসহ সমাজের সকল মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মানিক মিয়া জানান, ঘটনাটি খোঁজ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পরিবারটিকে সহযোগিতা করা হবে।

ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব নুরুল হুদা বলেন, বিষয়টি আমাদেরকে কেউ জানায়নি। এনিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের সহযোগীতার চেষ্টা করা হবে।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নুরুল ইসলাম পাটওয়ারী বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী আমার সহযোগিতা করতে পারি। যদি ওই কলেজছাত্রকে সরকারি কোনো হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করানো হয়, তাহলে আমরা অবশ্যই সহযোগিতা করব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা