kalerkantho

রবিবার। ২৮ চৈত্র ১৪২৭। ১১ এপ্রিল ২০২১। ২৭ শাবান ১৪৪২

লকডাউন বিড়ম্ভনা

'স্যার লোক লাগবো? কাজ বুঝে যা পারেন দিয়েন'

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

৭ এপ্রিল, ২০২১ ১৮:০৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'স্যার লোক লাগবো? কাজ বুঝে যা পারেন দিয়েন'

মন মরা অবস্থা, জীর্ণ-শীর্ণ শরীরে লুঙ্গির সাথে গেঞ্জি বা শার্ট পরিহিত। কারো হাতে কোদাল আবার কারো হাতে কাজ করার অন্য কোনো সরঞ্জাম। কাজের সন্ধানে অপেক্ষায় আছে কেউ- যদি তাদের নেয়। অপরদিকে পাশেই আরেক চিত্র ওষুধ কম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ দলবেঁধে ক্লিনিকের সামনে অপেক্ষায় আছে চিকিৎসকদের সাথে দেখা করতে। কিন্তু বর্তমান সময়ের এই লকডাউনের মধ্যে কেউ কাজ চেয়ে পাচ্ছেন না আবার কাজ থাকলেও অলস দিন পার করছেন।

আজ বুধবার সকালে এ ধরনের দৃশ্য দেখা গেছে ময়মনসিংহ জেলা সদরের চরপাড়া মোড় এলাকায়।

সেখানে উপস্থিত থেকে দেখা গেছে, বন্ধ দোকানের সামনে ড্রেনের স্লাবের ওপর বসে এদিক-সেদিক দলবেঁধে জটলা করে দাঁড়িয়ে আছে ২০/২৫ জন বিভিন্ন বয়সের লোক। কেউ হাতে নিয়ে এসেছেন কোদাল, কারো হাতে দা বা অন্যান্য যন্ত্রপাতি। কাছে যাওয়া মাত্রই জটলা থেকে কাছে এসে জিজ্ঞাস করছেন, 'স্যার লোক লাগবো? কাজ বুঝে যা পারেন দিয়েন, কথা কঅন লাগতো না'।

লাগবে না জেনে গেলেই মন খারাপ করে আগত অন্য একজনকে ঘিরে ধরছে। এভাবেই কাজের সন্ধ্যানে ব্যতিব্যস্ত তারা। প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করেও তাদের ভাগ্যে জোটেনি কোনো কাজ। আর সে সময় পাশেই একটি ক্লিনিকের সামনে মোটরসাইকেল থেকে নেমে পর্যায়ক্রমে আসছেন চাকচিক্য সাজে সজ্জিত হয়ে বিভিন্ন ওষুধ কম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভগণ। তারা ওই সময়ের মধ্যে একজন চিকিৎসকের দেখা পাননি।

তাদের অনেকেই বলেন, চিকিৎসক আসবেন ভেবেই তার সাথে সাক্ষাত করতেই এখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবস্থান করেও দেখা পাচ্ছেন না। কখন দেখা পাবেন আদৌ পাবেন কি-না তা বলা মুশকিল। তারপরও হাল ছাড়ছেন না।

এখানে উপস্থিত সীমান্ত ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের এক দারোয়ান জানান, লকডাউনের কারণে চিকিৎসকদের আসার সময়ের কোনো ঠিক নেই। কেউ যেকোনো সময় একবার আসেন আবার অনেকেই আসেন না। জরুরি রোগীরাও দূর-দূরান্ত থেকে এসে ফিরে যাচ্ছেন।

সামিউল হাসান নামে একটি ওষুধ কম্পানির কর্মী জানান, তাকে প্রতিদিনই এখানে আসতে হচ্ছে। এটা অফিসের নির্দেশ। ফলে চিকিৎসক না পেয়ে এক রকম অলস দিন পার করছি।

অন্যদিকে ত্রিশাল থেকে আসা জমির ও নয়ন মিয়া জানান, তাদের সংসারে ৫-৬ জন সদস্য। তাদের আহার যোগাড় করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় স্থানীয়ভাবে কোনো কাজ তারা করতে পারছে না। তাই বাধ্য হয়েই শহরমুখী হচ্ছেন। যদি কাজ পাওয়া যায়- এই আশায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা