kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ বৈশাখ ১৪২৮। ২০ এপ্রিল ২০২১। ৭ রমজান ১৪৪২

হেফাজতের তাণ্ডবের ছবি শেয়ারের জের

ধর্মপাশায় ঢাবি ছাত্রলীগ নেতাকে লাঞ্ছিত করল আ.লীগ নেতার ছেলে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

৭ এপ্রিল, ২০২১ ১৩:০৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধর্মপাশায় ঢাবি ছাত্রলীগ নেতাকে লাঞ্ছিত করল আ.লীগ নেতার ছেলে

এ ছবিগুলো শেয়ার করেছিলেন ঢাবি ছাত্রলীগ নেতা

দেশব্যাপী হেফাজতে ইসলামের উগ্র কর্মীদের তাণ্ডবের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করায় সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক নেতা লাঞ্ছিত হয়েছেন। আর এ অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের ছেলে আল মোজাহিদের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ নেতার এই মাদরাসাপড়ুয়া ছেলে নিজ এলাকার ঢাবি ছাত্রলীগ নেতা আফজাল খানের প্রতি ব্যক্তিগত আক্রোশের প্রতিশোধ নিতে তার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ এনে মানুষকে উত্তেজিত করে হেনস্তা করেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এ ঘটনায় ওই ছাত্র ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। জয়শ্রী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম আলম স্থানীয় এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের সম্পর্কে চাচা হন। তিনি একসময় জামায়াতের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়শ্রী ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের আফজাল খান একজন মেধাবী ছাত্র। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের উপ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও স্যার এফ রহমান হলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার সঙ্গে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাদে হরিপুর সাতঘরিয়া গ্রামের আবুল হাসেম আলমের ছেলে সাবেক শিবির নেতা আল মোজাহিদের বিরোধ ছিল। সম্প্রতি ছাত্রলীগ নেতা আফজল খান দেশব্যাপী হেফাজতে ইসলামের উগ্র কর্মীদের হামলা ও আক্রমণের কিছু ছবি তার ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করেন। এই সুযোগককে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে আল মোজাহিদ ধর্ম অবমাননা এবং আল্লাহ-রাসূলের সমালোচনা হিসেবে প্রচার চালিয়ে এলাকাবাসীকে ক্ষুব্ধ করে তোলেন। জয়শ্রী বাজারে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাকে উদ্ধার করেন।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই আওয়ামী লীগ নেতা সম্পর্কে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের  চাচা। তিনি আগে উপজেলা জামায়াতের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগদান করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ বাগিয়ে নেন। তিনি আওয়ামী লীগের সুবিধা নিলেও আওয়ামী লীগের নীতি, আদর্শবিরোধী কাজ করে আওয়ামী লীগকে নানাভাবে সমালোচিত করছেন বলে নেতাকর্মীদের অভিযোগ। 

আবুল হাসেম আলমের পুত্র আবুল কাশেম নিজেকে এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের চাচাতো ভাই উল্লেখ করে বলেন, আফজল ফেইসবুকে কী লিখছে আমি দেখিনি। শুনেছি আল্লাহ-রাসূলের বিরোধিতা করে লিখেছেন। এ কারণে আমার ভাই মাদরাসার ছাত্র আল মোজাহিদ তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি করেছিল। এর জের ধরে কিছু মানুষ উত্তেজিত হয়ে তাকে লাঞ্ছিত করে। পরে তাকে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে রক্ষা করা হয়। বিষয়টি এখন নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে আমার বাবা কখনো জামায়াতে ছিলেন না।

এদিকে এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক সম্পাদক আল আমিন রহমান এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে জয়শ্রী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের ছেলে মিথ্যা অবমাননার অভিযোগ এনে জামাত শিবির নিয়ে ছাত্রলীগ নেতা আফজল খানকে জনসম্মুখে লাঞ্ছিত করেছে। স্থানীয় ওই আওয়ামী লীগ নেতাসহ ওই হেনস্তাকারীদের বিচার চাই। 

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ-১ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ধর্মপাশা থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমরা বিষয়টি শুনেছি। ওই ছাত্র অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা