kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ বৈশাখ ১৪২৮। ৭ মে ২০২১। ২৪ রমজান ১৪৪২

মাটিরাঙ্গার তবলছড়ি ও তাইন্দং এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব

বাঙালিদের মারধর, দোকানে আগুন ও গুলিবর্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ এপ্রিল, ২০২১ ১৯:২২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাটিরাঙ্গার তবলছড়ি ও তাইন্দং এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব

সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব চিত্র।

খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার তবলছড়ি ও তাইন্দং এলাকাস্থ শুকনাছড়ি, ইসলামপুর, লাইফুপারা ও পংবাড়ী এলাকায় গত রবিবার ও সোমবার স্থানীয় বাঙালিদের ওপর ইউপিডিএফ (প্রসিত) দলের সন্ত্রাসীরা নৃশংস হামলা করেছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। বাঙালিদের আশঙ্কা সেখানে সেনাক্যাম্প পুনর্বহাল না করা হলে যে কোনো মুহূর্তে আবারও হামলা হতে পারে। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, এ সন্ত্রাসী দলটি স্থানীয় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে বেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি এবং বাঙালিদের এলাকা থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করে আসছিল। এর চূড়ান্ত রূপ নেয় গত রবিবার। এদিন আনুমানিক সকাল সাড়ে দশটার দিকে লাইফুকারবারি পাড়া এলাকায় কচু ক্ষেতে কর্মরত ২০ থেকে ২৫ জন বাঙালিকে আকস্মিকভাবে ১২ থেকে ১৫ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী ঘেরাও করে মারধর করে এবং ১৫ থেকে ২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় চারজন স্থানীয় বাঙালি গুরুতর আহত হন। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। 

এরপর গত সোমবার সন্ত্রাসীরা সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে আবার বাঙালি গ্রামে প্রবেশ করে বাঙালিদের বেধড়ক মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেয়। একই দিনে রাত ৯ টার দিকে আবারও বাঙালি গ্রামে ৫০ থেকে ৬০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী হানা দেয় এবং বাঙালিদের মারধর ও ঘরবাড়ি হতে বের করে দেয়। পরে খবরটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে মুসলিমপাড়া, ইসলামপুর, শুকনাছড়িসহ আশে পাশের গ্রাম থেকে বাঙালিরা একত্রিত হয় তাইন্দং বাজারে এবং তারা ধাওয়া দিলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় মুসলিমপাড়ার পংবাড়ী এলাকার বাঙালি মফিজ মিয়ার দখলীকৃত সেগুন বাগানের তিন শতাধিক সেগুন গাছ কেটে দেয়। এরপর নিরীহ আনু মিয়ার চায়ের দোকান রাত সাড়ে ১২ টার সময় পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে তবলছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক। 

মাটিরাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী মঙ্গলবার কালের কণ্ঠকে বলেন, পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা এ বিষয়ে বৈঠক করে করণীয় নির্ধারণ করেছেন। 

স্থানীয় বাঙ্গালিরা মনে করেন, সেনাক্যাম্প প্রত্যাহারের ফলে পাহাড়ে এই সন্ত্রাসী দলের হামলা বেড়েছে। পাহাড়ে বর্তমানে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে সন্ত্রাসীরা নির্বিঘ্নে বাঙালিদের ওপর হামলা করার সাহস পাচ্ছে। 
পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান আলকাছ আল মামুন ভুঁইয়া এ বিষয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, বাঙালিরা যাতে তাদের ক্ষেতের ফসল ঘরে তুলতে না পারে এবং এলাকা ছাড়া হয় তার জন্য পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। প্রথমে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা চাঁদা দাবি করে। পরে বলে দেয় বাঙালিরা তাদের ক্ষেতে যেতে পারবে না। ব্রাশ ফায়ার করে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়। হামলার সময় আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়াও তাঁদের হাতে রামদা ছিল। বর্তমান পরিস্থিতি থমথমে। এলাকায় সেনা ক্যাম্প না হলে ওরা আবারও হামলা চালাবে। 

প্রসঙ্গত, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ২৪০টি সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার করে নেয়। জানা যায়, সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল ও পেট্রোলিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আজ স্থানীয় সংসদ সদস্য, রিজিয়ন কমান্ডার, জোন কমান্ডার ও জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।



সাতদিনের সেরা