kalerkantho

শনিবার । ২৫ বৈশাখ ১৪২৮। ৮ মে ২০২১। ২৫ রমজান ১৪৪২

শরণখোলায় পানিসংকট

এক পুকুরে ৩ গ্রামের ভরসা

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

৬ এপ্রিল, ২০২১ ১৬:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এক পুকুরে ৩ গ্রামের ভরসা

বাগেরহাটের শরণখোলায় খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শুষ্ক মৌসুম এবং বৃষ্টি না হওয়ায় বেশি ভাগ পুকুর শুকিয়ে গেছে। হাতেগোনা কয়েকটি পুকুরে পানি থকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য। সেসব পুকুরের অধিকাংশতেই নেই পিএসএফ। ফলে সেই পানি নিয়ে কোনো রকম বিশুদ্ধ না করেই সরাসরি পান করছে মানুষ। আবার শুধু ফিটকিরি দিয়েও অনেকে খাচ্ছে বলে জানা গেছে। এসব পুকুরে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে পানি নেওয়ার প্রতিযোগিতা।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চারটি ইউনিয়নে সরকারি-বেসরকারি মিলে ১১২৫টি পুকুরে পিএসএফ আছে। এর মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র ২২০টি পিএসএফ। শুষ্ক মৌসুম এবং বৃষ্টি না হওয়ায় বেশির ভাগ পুকুরে পর্যাপ্ত পানি নেই। যার কারণে সচলগুলোর মধ্যেও অনেক পিএসএফ এখন বন্ধ হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার শরণখোলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সুপেয় পানির চরম সংকটের চিত্র চোখে পড়ে। উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের চৌমোহনা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একটি পুকুরে নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন। ২০০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ১২০ ফুট প্রস্থের ওই পুকুরটিতে পাকা ঘাট নেই। নীল স্বচ্ছ জলের পুকুরে নেই একটি পিএসএফও। ছোট্ট একটি কাঠের সিঁড়ি দিয়ে মানুষ কলস ভরে পানি তুলে নিচ্ছে। এভাবে অপেক্ষা করে করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই পুকুর থেকে পানি নেয় পার্শ্ববর্তী তিন গ্রামের পাঁচ শতাধিক পরিবারের মানুষ।

প্রায় এক কিলোমিটার দূর থেকে ওই পুকুরে পানি নিতে আসা পশ্চিম খোন্তাকাটা গ্রামের জাহিদ বয়াতী বলেন, পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর খোন্তাকাটাসহ তিন গ্রামের ৫০০ থেকে ৬০০ পরিবারের কয়েক হাজার মানুষ চৌমোহনার মতিয়ার রহমান খানের এই পুকুরটির পানি খেয়ে বেঁচে আছে। আমরা এই পানি নিয়ে সরাসরি খাই। পুকুরে একটি পিএসএফ থাকলে বিশুদ্ধ পানি খেতে পারত সবাই।

দেড় কিলোমিটার দূর থেকে পানি নিতে আসেন উত্তর খোন্তাকাটা গ্রামের পারুল বেগম। তিনি বলেন, আমাদের বাড়ির আশপাশের কোনো পুকুরে পানি নেই। তাই এক কলসি পানির জন্য এত দূরে আসতে হয়। এই পানি ফিটকিরি দিয়ে খাই।

শরণখোলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান জানান, উপজেলার বেশির ভাগ পুকুরে পানি কম থাকায় সচল পিএসএফগুলোও কোনো কাজে আসছে না। অনাবৃষ্টির ফলে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। 

পানিসংকট নিরসনে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আটটি পুকুর খননকাজ চলছে। ১০টি সোলার পিএএসএফ চালু রয়েছে এবং ৯টির কাজ চলমান। এ ছাড়া বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য এইচ-টু জিরো ন্যানো টেকনোলজি ব্যবস্থার ১৮টির মধ্যে ১২টি চালু করা হয়েছে। তবুও এসব ব্যবস্থা এলাকার জনসংখ্যা এবং চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট না বলে জানান তিনি।



সাতদিনের সেরা