kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ বৈশাখ ১৪২৮। ৭ মে ২০২১। ২৪ রমজান ১৪৪২

মা খুন, বাবা পলাতক, শিশুটির অভিভাবক হবেন কে...?

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

৬ এপ্রিল, ২০২১ ১৫:২৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মা খুন, বাবা পলাতক, শিশুটির অভিভাবক হবেন কে...?

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে খুন হওয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা খন্দকার রেদওয়ানা ইসলামের ১৬ দিনের শিশু কন্যাকে বৈধ অভিভাবকের কাছে বুঝিয়ে দিতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনির সভাপতিত্বে জেলা শিশু কল্যান বোর্ডের সভায় টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জনকে আহ্বায়ক করে এই কমিটি গঠন করা হয়।

জানা যায়, গত ২২ মার্চ কুমুদিনী হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কন্যাসন্তান প্রসব করেন খন্দকার রেদওয়ানা ইসলাম। ২৭ মার্চ শনিবার বিকেলে কুমুদিনী হাসপাতালের দোতলায় ১১ নম্বর কেবিনে রেদওয়ানা ইসলামকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে স্বামী দেলোয়ার হোসেন মিজান পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। জন্মের পর থেকেই ওই শিশু কন্যা কুমুদিনী হাসপাতালে নার্সদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এদিকে রেদওয়ানা ইসলামকে হত্যার ১১দিনেও পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী মিজানকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি বলে জানা গেছে।

এদিকে মায়ের মৃত্যুর পর শিশুটি অসুস্থ থাকায় শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রাখা হয়। শিশুটি সুস্থ হওয়ায় গত শনিবার হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে ছুটি দেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিভাবকের কাছে শিশুটিকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনকে অবহিত করেন।

শিশুটিকে বৈধ অভিভাবকের কাছে বুঝিয়ে দিতে গত বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনির সভাপতিত্বে জেলা শিশু কল্যান বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. শাহাবুদ্দিন খানকে আহ্বায়ক ও টাঙ্গাইল জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) মো. শাহ আলমকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্যের উপ-কমিটি গঠন করা হয়। 

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এস আকবর আলী খান ও জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা মিনু আনাহলি।

কুমুদিনী হাসপাতালের এজিএম (অপারেশন) অনিমেষ ভৌমিক জানান, শিশুটির অবস্থা ভালো রয়েছে। গত শনিবার ছুটি হলেও হাসপাতালের নার্সদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা প্রভেশন কর্মকর্তা ও জেলা শিশু কল্যান বোর্ডের সদস্য মো. মোতালের হোসেন জানান, উপকমিটির কাছে শিশুটির মামা খন্দকার আরশাদুল আবিদ শিশুটিকে পাওয়ার জন্য জানিয়েছেন। এই উপকমিটি গত রবিবার একটি সভা করেছেন। সভার সিদ্ধান্ত এই সপ্তাহের মধ্যে জেলা শিশু কল্যান বোর্ডের সভাপতি জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনির কাছে সুপারিশ জানাবেন। ওই সুপারিশ পত্র পাওয়ার পর জেলা শিশু কল্যান বোর্ডের সভায় বৈধ অভিভাবকের কাছে শিশুকন্যাকে বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।



সাতদিনের সেরা