kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

ভাইস চেয়ারম্যানের হাতে প্রধান শিক্ষককে মারধর

অবশেষে নবীনগরের আর এন টি বিদ্যালয়ের 'সভাপতি' হলেন ইউএনও

গৌরাঙ্গ দেবনাথ অপু, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)   

৬ এপ্রিল, ২০২১ ০২:০২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবশেষে নবীনগরের আর এন টি বিদ্যালয়ের 'সভাপতি' হলেন ইউএনও

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেপুর আর এন টি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আল আমীন খান প্রকাশ্যে দিবালোকে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সাদেকের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার পর অবশেষে ইউএনও একরামুল ছিদ্দিককে ওই বিদ্যালয়ের এডহক কমিটিতে 'সভাপতি' নির্বাচিত করা হয়েছে।

স্থানীয় জনমনে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সোমবার (৫ এপ্রিল) কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত স্কুলপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে প্রধান শিক্ষকের কাছে সভাপতি মনোনয়ন দেওয়া বোর্ডের পাঠানো ওই চিঠিকে স্বাগত জানানোর ঘটনাটি ইতিমধ্যেই ফেসবুকে এটি ভাইরাল হয়ে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের একজন বিদ্যালয় পরিদর্শকের স্বাক্ষরযুক্ত ওই চিঠিতে নবীনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একরামুল ছিদ্দিককে বিদ্যালয়টির সভাপতি মনোনয়নসহ মোট চারজনকে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ওই চিঠিতে বোর্ড কর্তৃক সভাপতি মনোনয়নের পাশাপাশি পদাধিকার বলে বিদ্যালয়টির সদস্য সচিব মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বিদ্যালয়ের লাঞ্ছিত হওয়া প্রধান শিক্ষক আল আমীন খানকে।

এছাড়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত সদস্য হিসেবে শাহীন আরা বেগম (শিক্ষক প্রতিনিধি) ও ইউএনও'র মনোনীত সদস্য হিসেবে রাশিদা ছিদ্দিকাকে (অভিভাবক প্রতিনিধি) নির্বাচিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আল আমীন খানকে বারবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

তবে নবীনগরের ইউএনও একরামুল ছিদ্দিক রাতে কালের কণ্ঠকে মুঠোফোনে বলেন, 'আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ডের চিঠি আমি এখনো পাইনি। তবে দুপুরে প্রধান শিক্ষক ওই চিঠির কথা আমাকে ফোনে জানিয়েছেন। এছাড়া ফেসবুকে পোস্ট করা ওই চিঠিটি আমার নজরে এসেছে।'

প্রসঙ্গত, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সাদেককে বিদ্যালয়টির এডহক কমিটিতে 'সভাপতি' নির্বাচিত করার নিমিত্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় এমপি এবাদুল করিম বুলবুল গত ফেব্রুয়ারি মাসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একটি 'ডিও' দেন। কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমপি'র ডিওকে উপেক্ষা করে কমিটির নাম জমা দিতে দেরী করায়, গত ১৬ মার্চ উপজেলা পরিষদ গেটে দিনে-দুপুরে প্রধান শিক্ষক আল আমীন খানকে মারধর করেন ভাইস চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সাদেক।

এ ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি নিয়ে কালের কণ্ঠে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর গত ২০ মার্চ বর্তমান সাংসদ এবাদুল করিম বুলবুল ও সাবেক সাংসদ ফয়জুর রহমান বাদলসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক সালিসি সভায় হামলাকারী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সাদেক ও হামলার শিকার প্রধান শিক্ষক আল আমীন খানকে 'করমর্দন' করিয়ে ন্যাক্কারজনক ওই ঘটনাটির নিষ্পত্তি করা হয়। পাশাপাশি সভায় প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলাকারী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাদেককেই বিদ্যালয়টির এডহক কমিটিতে 'সভাপতি' মনোনয়ন দেওয়ার পূর্বঘোষিত এমপির সিদ্ধান্তটিকে বহাল রাখা হয়।

তবে প্রধান শিক্ষককে মারধরের ঘটনার এমন নির্লজ্জ নিষ্পত্তি এবং ভাইস চেয়ারম্যানকেই সভাপতি মনোনয়ন দেওয়ার অপ্রত্যাশিত খবরে নবীনগরের সন্তান, জনপ্রিয় চ্যানেল টোয়েন্টিফোর টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক আবদুল কাইয়ুম তুহিন সেসময় কালের কণ্ঠকে বলেছিলেন, 'এই ধরনের নিষ্পত্তিটি আমাদেরকে খুবই লজ্জিত ও হতবাক করেছে। আমি মনে করি, হামলাকারীকে অবশ্যই আইনের আওতায় দেওয়া দরকার ছিল। কারণ, একজন প্রধান শিক্ষককে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনার এমন দুঃখজনক নিষ্পত্তি কোনোভাবেই কোনো সুস্থ বিবেকবান মানুষের কাছে কাম্য ছিল না।'

এদিকে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সোমবার (৫/৪) সাংসদ এবাদুল করিম বুলবুলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাঁর বক্তব্য নেওয়া যায়নি।



সাতদিনের সেরা