kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ বৈশাখ ১৪২৮। ২০ এপ্রিল ২০২১। ৭ রমজান ১৪৪২

বাতাসে উড়ে গেল মুজিববর্ষের ঘরের চাল, রাতেই চলল মেরামত

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি   

৫ এপ্রিল, ২০২১ ২১:৪৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাতাসে উড়ে গেল মুজিববর্ষের ঘরের চাল, রাতেই চলল মেরামত

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় গতকাল রবিবার দুপুর থেকে আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা দেখা দেয়। কালবৈশাখী ঝড়ের আগমনী বার্তায় ভয় ও শঙ্কায় সময় কাটতে থাকে সাধারণ মানুষের। বিকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও হালকা বাতাস বইতে শুরু করে। সন্ধ্যার দিকে বাতাসের গতি কিছুটা বাড়ে। অবশ্য শেষ পর্যন্ত কালবৈশাখীর তাণ্ডব দেখা যায়নি। তাই উপজেলার কোথাও তেমন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে এমন বাতাসেই পাবনার ভাঙ্গুড়ায় লামকান গ্রামে মুজিববর্ষ উপলক্ষে নির্মিত গৃহহীনদের একটি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে রাতের আঁধারেই ক্ষতিগ্রস্ত ঘরটি মেরামত করা হয়। এ ঘটনায় ঘর নির্মাণ কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

অষ্টমনিষা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের শাহনগর গ্রামের ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অফিসের কর্মকর্তারা শুধু অভিযোগ করেন যে জনপ্রতিনিধিরা নিম্নমানের উন্নয়নমূলক কাজ করে। কিন্তু হালকা বাতাসে ঘরের চাল উড়ে যাওয়ার ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তাদের কাজের মান নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা পিআইও অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ করা হবে।

সূত্র জানায়, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ভাঙ্গুড়ায় গৃহহীনদের জন্য দশটি ঘর নির্মাণ করা হয়। উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের লামকান গ্রামে সাতটি ও মন্ডতোষ ইউনিয়নের টুনিপাড়া গ্রামে তিনটি ঘর নির্মাণ করা হয়। গত মাসে এসব ঘরের নির্মাণকাজ শেষ হয়। ঘর নির্মাণ প্রকল্পের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হলেও নির্মাণ কাজের সার্বিক তদারকি করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপ-প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম। তিনি চুক্তিভিত্তিক নিজস্ব লোকজন দিয়ে এসব ঘর নির্মাণ করান। ভাঙ্গুড়া বাজারে বসবাসরত গৃহহীনদের মাঝে এই ঘরগুলো বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে গৃহহীন পরিবারগুলো সপরিবারে এখনো নিয়মিত এসব ঘরে বসবাস করতে শুরু করেনি। এ কারণে ঝড়ের সময় ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

আজ সোমবার সকালে লামকান গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মর্জিনা খাতুন নামে এক নারীর নামে বরাদ্দকৃত ঘরটির টিনের চাল উড়ে গেছে। এ ছাড়া ঘরের একটি পিলার ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। রবিবার রাতেই প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের লোকজন মিস্ত্রি নিয়ে গিয়ে ঘরটির চাল ও পিলার মেরামত করে দেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মধ্যরাত পর্যন্ত মিস্ত্রিরা সেখানে কাজ করেন।

মর্জিনা খাতুন বলেন, তারা এখনো নিয়মিত ঘরে বসবাস শুরু করেননি। ঘটনার দিন তিনিসহ পরিবারের অন্যরা এক আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। তাই ঝড়ে ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তারা বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুস্থির কুমার বলেন, মেঘের গর্জন দেখে মনে ভয় হচ্ছিল। তবে ঝড়ের বাতাসের গতিবেগ ছিল খুবই হালকা। এই বাতাসে আধাপাকা ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা নয়। 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপ-প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম ঘরের চাল উড়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে ঘরের চাল উড়ে যেতেই পারে। এটা ঠিক করে দেয়া হয়েছে। তবে ঘর নির্মাণ কাজের মান ভাল ছিল বলে তিনি দাবি করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা