kalerkantho

সোমবার । ৬ বৈশাখ ১৪২৮। ১৯ এপ্রিল ২০২১। ৬ রমজান ১৪৪২

'আধা ঘণ্টার গরম বাতাসে আমার সব শেষ'

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি   

৫ এপ্রিল, ২০২১ ১৫:৫৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'আধা ঘণ্টার গরম বাতাসে আমার সব শেষ'

‘গতকাল রবিবার বিকেলে ক্ষেতে গিয়া দেখছি ধান সব সবুজ। আজ সোমবার সকালে ধানক্ষেতে গিয়া দেখি সব ধান সাদা। ছয় বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করছিলাম। আধা ঘণ্টার গরম বাতাসে আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমি এখন কী করব, ছাওয়াল-মাইয়া নিয়া কী খাইয়া বাচঁপো, বুঝে উঠতে পারছি না’ - কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কান্দি ইউয়িনের ভেন্নাবাড়ি গ্রামের কৃষক সুবরণ বিশ্বাস।

কৃষক সুবরণ বিশ্বাসের মতো কান্দি ইউনিয়নের তালপুকুরিয়া গ্রামের কিশোর বাড়ৈ, পিঞ্জুরী ইউনিয়নের পুণ্যবতী গ্রামের অলিউল্লাহ হাওলাদার, সরোয়ার হাওলাদার তাদের ক্ষেতের ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

গতকাল রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে কোটালীপাড়া উপজেলার কান্দি ইউনিয়নসহ কয়েকটি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে গরম হাওয়া বয়ে যায়। আধা ঘণ্টা ধরে চলা এ গরম হাওয়ায় উপজেলার কান্দি, পিঞ্জুরী, হিরণ ও আমতলী ইউনিয়নের প্রায় ছয় থেকে সাত শ হেক্টর জমির বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে বলে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে। নষ্ট হয়ে যাওয়া ধানের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। তবে ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিসার নিটুল রায়।

পুণ্যবতী গ্রামের কৃষক অলিউল্লাহ হাওলাদার বলেন, আমি এবার ১৭ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছি। গতকাল বিকেলে অধিকাংশ জমিই ঘুরে দেখেছি। সব জমির ধান ভালো ছিল। আজ সকালে ক্ষেতে গিয়ে দেখি সব ধান নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু আমার জমির ধানই নয়, পুরো পুণ্যবতী গ্রামের দক্ষিণ পাশের সব বিলের ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পরিবারগুলোতে বইছে কান্নার রোল। আমরা এখন কী করব ভেবে পাচ্ছি না।

আমতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হান্নান শেখ বলেন, আজ সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আমার সঙ্গে প্রায় অর্ধশত কৃষকের কথা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, আমতলী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া বিলে তাদের জমির ধান এক রাতেই নষ্ট হয়ে গেছে। এসব কৃষক আগামী বছর কী খেয়ে বাঁচবে তা নিয়ে তাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। অধিকাংশ কৃষকেরই কৃষিঋণ রয়েছে। আমি চাইব সরকার যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব কৃষকের পাশে দাঁড়ায়।

উপজেলা কৃষি অফিসার নিটুল রায় বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা প্রায় ছয় থেকে সাত শ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। এতে কৃষকদের প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হবে। তবে ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে। সে বিষয়ে আমরা মাঠে কাজ করছি।

কৃষিঋণ মওকুফসহ কৃষকরা যাতে এ ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারে সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা