kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

নিবন্ধন জালিয়াতি করে টিকা নিল ৬০ ব্যক্তি!

বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি   

৪ এপ্রিল, ২০২১ ১৮:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিবন্ধন জালিয়াতি করে টিকা নিল ৬০ ব্যক্তি!

প্রতীকী ছবি

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে করোনা টিকার নিবন্ধন জালিয়াতি করে টিকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ৬০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা অধকাংশই বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক। এ ঘটনায় মো. মনিরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. শাহজাহান আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, প্রথম দফায় কভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদানের নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বরাদ্ধ ছিল ৭ হাজার ৩৬৩টি ভ্যাকসিন। উপজেলায় এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ৮০০ জন নিবন্ধন করেন। এর মধ্যে নবাবগঞ্জ উপজেলায় চাহিদা অনুযায়ী টিকা শেষ হয়েছে। চাহিদার তুলনায় অনলাইন ডাটাবেইজে টিকা পেতে আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় বেশ কয়েক দিন ধরে নবাবগঞ্জ উপজেলায় টিকা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা টিকা শেষে টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দেওয়ার সময় গরমিল পরিলক্ষিত হয়। আব্দুল খালেক এবং আব্দুল বাকি নামের দুই ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের সংখ্যা ব্যবহার করে কয়েক দিন ধরে টিকা নিবন্ধন হওয়ায় বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়।

এর পর থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রতিটি ভ্যাকসিন দেওয়ার আগে পুনরায় অনলাইনে যাচাই করা শুরু করে। এর অংশ হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন নিতে আসা ব্যক্তির নিবন্ধন ভুয়া বলে শনাক্ত করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. শাহজাহান আলী জানান, ভুয়া নিবন্ধনধারী এক ব্যক্তির টিকা দিতে এলে নিবন্ধনের উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়। ওই ব্যক্তি উপজেলা পরিষদ চত্বরের গেট সংলগ্ন মনিরুল ইসলাম মনির পেপার হাউস থেকে নিবন্ধন করার কথা জানান।

তিনি আরো জানান, তিনিসহ বেশ কয়েকজন ভুয়া নিবন্ধন দিয়ে টিকা নেওয়া ব্যক্তি উক্ত ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নিবন্ধনের কাগজ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। সর্বমোট ৬০ জন ব্যক্তি ভুয়া নিবন্ধনে টিকা গ্রহণ করেছেন। পরে ভুয়া নিবন্ধন করার অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট (ইউএনও) মোছা. নাজমুন নাহার মনির পেপার হাউসের স্বত্বাধিকারী মো. মনিরুল ইসলামকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। মনিরুল ইসলাম উপজেলার শাল্টি মুরাদপুর গ্রামের মো. আফছার আলীর ছেলে।

জালিয়াতি করে টিকা গ্রহণকারী কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শিক্ষক হিসেবে টিকা পেতে অনলাইন ডাটাবেইজে বেশ কয়েকটি শ্রেণি উল্লেখ করা হয়েছে। যে শ্রেণির মধ্যে বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকরা পড়ে না। তাই টিকা পেতে এমন কৌশল অবলম্বন করে তারা।

অভিযুক্ত ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বলেন, আমি সত্যিই লজ্জিত, করোনার ভুয়া নিবন্ধনের কাগজ তৈরির বিষয়কে কেন্দ্র করে জহুরুল নামে দোকানের কর্মচারীকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. নাজমুন নাহার জানান, ভুয়া নিবন্ধনের কাগজ তৈরির অভিযোগে মনিরুল ইসলামের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং তাকে পরবর্তী সময়ে এমন কাজ না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, নিবন্ধন জালিয়াতির বিষয়ে জেনেছি। বিষয়টি দেখার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনার পর জেলার প্রতিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিকা দানের বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা