kalerkantho

সোমবার । ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৪ জুন ২০২১। ২ জিলকদ ১৪৪২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের তাণ্ডব : পৌরসভার ক্ষতি ১০০ কোটি!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

৩ এপ্রিল, ২০২১ ১৯:২৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের তাণ্ডব : পৌরসভার ক্ষতি ১০০ কোটি!

হেফাজতের তাণ্ডবের পর গত এক সপ্তাহ ধরে তালাবদ্ধ রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা কার্যালয়। সেই সঙ্গে বন্ধ রয়েছে প্রতিদিনকার সেবা কার্যক্রম। বিশেষ করে বাসা-বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ না করা ও সড়ক, ড্রেন পরিস্কার না করায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

পৌরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ক্ষতির বিষয়গুলো দেখে না যাওয়া পর্যন্ত সব ধরণের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে। পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে সাংবাদিকদেরকে জানানো হয়েছে। তবে এত বেশি ক্ষতি তুলে ধরায় এ নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ক্ষতি বিষয়ে শনিবার দুপুরে পৌর এলাকার পাইকপাড়ার নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন পৌর মেয়র নায়ার কবির। এ সময় মেয়রের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পৌরসভার সচিব মো. শামসুদ্দিন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তাণ্ডবে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। 

পৌরসভার একটি সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য মতে, ভবন ও আসবাবপত্র পুড়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। এর মধ্যে মূলভবন পুড়ে ক্ষতি হয়েছে পাঁচ কোটি টাকা। পৌর ভবনের আসবাবপত্র/ডেকোরেশন পুড়ে ক্ষতি হয়েছে ৫০ লাখ টাকা, ২০টি স্টিলের আলমিরা পুড়ে ১০ লাখ টাকা, ২৫টি কাঠের আলমারি পুড়ে ২০ লাখ টাকা, ১৮টি ডেস্কটপ কম্পিউটার পুড়ে ১৬ লাখ টাকা, পাঁচটি ল্যাপটপ সাড়ে তিন লাখ টাকা, চারটি ফটোকপি মেশিন ছয় লাখ টাকা, ৩৪টি টেবিল ১৭ লাখ টাকা, সাতটি সেক্রেটারিয়েট টেবিল সাত লাখ টাকা, চেয়ার ১১৪টি প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা, দুই টন এসি পাঁচটি ৩০ লাখ টাকা, স্বাস্থ্য শাখার ১২টি ডিপ ফ্রিজ ১২ লাখ টাকা, নরমাল ফ্রিজ চারটি দেড় লাখ টাকা, ভ্যাকসিন পাঁচ কোটি, সিলিং ফ্যান ২০টি, স্টোরে রক্ষিত ১০ হাজার এলইডি বাতি ৩৫ লাখ টাকা, ৫০০টি এলইডি টিউবলাইট তিন লাখ টাকা, ৩০০০টি বাতি শেড ৩০ লাখ টাকা, বৈদ্যুতিক তার ৫০ কয়েল ৫০ লাখ টাকা, ৫০ লাখ টাকার কঞ্জারভেন্সি মালামাল (শাবল, বেলচা, ঝাড়ু, টুকরি, ঘামবুট ব্লিচিং পাউডার, মশক নিধনের ফগার মেশিন পাঁচটি), ৫০ লাখ টাকার পৌর ভবনের ইলেক্ট্রিফিকেশন ক্ষতি হয়। 

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক তালিকায় বিভিন্ন গাড়ি পুড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রায় আড়াই কোটি টাকার তিনটি রোডরোলার, ৩৫ লাখ টাকার মশক নিধন গাড়ি, ১৪ লাখ টাকার ২০টি রিক্সা ভ্যান, ভান্ডারে রক্ষিত তিন কোটি টাকার খুচরা যন্ত্রাংশ, বিভিন্ন ডকুমেন্ট পুড়ে প্রায় ত্রিশ কোটি টাকার ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর বাইরে পৌরসভার মালিকানাধীন সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তনের ছয় কোটি টাকার ভবন, ১১ লাখ টাকা মূল্যের ৫৫০টি চেয়ার, ১০ লাখ টাকার ২০ সেট সোফা, এক কোটি টাকা মূল্যের ২০টি পাঁচ টনের এসি, ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ১০টি দুই টনের এসি, ছয় লাখ টাকা মূল্যের ১৫০ টি সিলিংফ্যান আগুনে পুড়ে যায়। 

পৌরসভার এত ক্ষতির ফিরিস্থির কথা জেনে অনেকেই এ নিয়ে সমালোচনা করছেন। সুশীল সমাজের একাধিক প্রতিনিধি বিষয়টিকে হাস্যকর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। উদ্দেশ্যমূলকভাবেই অতিরিক্ত ক্ষতি দেখানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে আজ শনিবার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ১৪ সদস্যের একটি দল নিয়ে তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত প্রেস ক্লাবে এসে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।



সাতদিনের সেরা