kalerkantho

বুধবার । ২ আষাঢ় ১৪২৮। ১৬ জুন ২০২১। ৪ জিলকদ ১৪৪২

অস্বাভাবিক ওজন নিয়ে জন্ম নিল শিশু

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

৩ এপ্রিল, ২০২১ ০১:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অস্বাভাবিক ওজন নিয়ে জন্ম নিল শিশু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অতিরিক্ত ওজন নিয়ে এক শিশু জন্ম নিয়েছে। শিশুটির ওজন পাঁচ কেজি ৭০০ গ্রাম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কুমারশীল মোড়ের হলিল্যাব হাসপাতাল ও ডায়গনস্টিক সেন্টারে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটি জন্ম নেয়। শিশুটির নাম রাখা হয়েছে মুয়াজ। মা ও শিশু দুজনই সুস্থ আছে।

স্থানীয় চিকিৎসকদের মতে, একটি শিশু সর্বোচ্চ আড়াই থেকে সাড়ে তিন কেজি ওজন নিয়ে জন্ম নিলে সেটিকে স্বাভাবিক ধরা নেওয়া হয়। এর আগে ২০০৭ ঢাকার উত্তরায় ছয় কেজি ওজন নিয়ে এক শিশু জন্ম নেয়। সেই হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্ম নেওয়া শিশুটি ওজনের দিক থেকে দ্বিতীয়।   
ওই বেসরকারি হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের অরুয়াইল গ্রামের আবুল বাশারের স্ত্রী তাসলিমা বেগমের (৩৮) প্রসবজনিত ব্যথা উঠে। পরিবারের লোকজন তাঁকে জেলা শহরের বেসরকারি হলিল্যাব হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান। ব্যথা বাড়তে থাকলে হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক ফৌজিয়া আক্তার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাসলিমার অস্ত্রোপচার শুরু করেন। পরে তাসলিমা ছেলে শিশুর জন্ম দেন। জন্মের পর হাসপাতালের চিকিৎসকরা শিশুটির ওজন মাপেন। ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুটির ওজন দেখায়, পাঁচ কেজি ৭০০ গ্রাম। তাসলিমা এর আগে স্বাভাবিক ওজনের আরো তিন শিশু জন্মগ্রহণ করেন।

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, কোনো নারী ৩৭ সপ্তাহের গর্ভবতী হলে সাধারণত আড়াই কেজি ওজনের শিশু জন্ম দিয়ে থাকেন। আর ৪০ সপ্তাহের গর্ভবতী হলে তিন থেকে সাড়ে তিন কেজি ওজনের শিশু জন্ম দেন। তবে গর্ভবতী নারী ও তার স্বামী সুঠাম দেহের অধিকারী হলে কেউ কেউ আবার চার থেকে সাড়ে চার কেজি ওজনের শিশুর জন্ম দেন। এছাড়া বাবা-মায়ের ডায়াবেটিকস হলে শিশুর অতিরিক্ত ওজন হয়। যাকে অতিরিক্ত ওজনের (অভার ওয়েট) শিশু বলা হয়। তবে ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুর ওজন পাঁচ কেজি বা এর বেশি হলে এটি ‘সেক্রোসেমিয়া’ বলা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনী বিভাগের প্রধান চিকিৎসক ও অস্ত্রোপচার করা ফৌজিয়া আক্তার বলেন, ‘এই শিশুর বেলায় ওজনের ঘটনাটি পুরোপুরি ব্যতিক্রম। কারণ তার মা ও বাবার শরীরের ওজন স্বাভাবিক এবং কারোরই ডায়াবেটিকস নেই। তাসলিমা যে ওজনের শিশুর জন্ম দিয়েছেন সেটিকে আমরা বেশি ওজনের শিশু বলে থাকি।’

তিনি বলেন, ‘গর্ভবতী অবস্থায় ওই নারী সুষম খাবার খেয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে তিনি আরো তিনটি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তিনটি সন্তানই তিনি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় (অস্ত্রোপচার ছাড়া) জন্ম দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় শিশু সন্তান জন্ম দেওয়ার চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হওয়ায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়।

হলিল্যাব হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবু কাউসার জানান, চিকিৎসকরা বলছেন এমন ওজন খুবই অস্বাভাবিক। হাসপাতালের ১০৩নং কক্ষে থাকা মা ও শিশু সুস্থ রয়েছেন। খবর পেয়ে অনেকে শিশুটিকে দেখতে হাসপাতালে আসছেন।



সাতদিনের সেরা