kalerkantho

বুধবার । ৮ বৈশাখ ১৪২৮। ২১ এপ্রিল ২০২১। ৮ রমজান ১৪৪২

কুড়িগ্রাম খাদ্য অধিদপ্তর

‘মধু’ খাওয়ার লোভে বদলি আদেশ মানছেন না প্রহরীরা!

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম   

১ এপ্রিল, ২০২১ ১৭:১৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘মধু’ খাওয়ার লোভে বদলি আদেশ মানছেন না প্রহরীরা!

কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের আওতায় চারটি এলএসডি অফিসের কর্মরত চারজন নিরাপত্তা প্রহরীর বিরুদ্ধে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। খাদ্য অধিদপ্তরের এক আদেশে গত বছর ১৫ অক্টোবর ওই চার প্রহরীকে অন্যত্র বদলি করা হলেও দীর্ঘ পাঁচ মাসেও তারা কর্মস্থলে ত্যাগ করেননি। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে ম্যানেজ করে ওই চার প্রহরী সরকারি আদেশ অমান্য করেছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

চাকরিবিধি কেন মানছেন না তারা- এ বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা গেছে অবৈধ আয়ের ঘটনা। খাদ্য অধিদপ্তরের একজন জানান, জেলা সদর এলএসডি অফিসের দুই প্রহরীকে বদলি করা হয়েছে কিন্তু তারা কর্মস্থল ছাড়ছেন না। এর কারণে জেলা শহরে আবৈধ আয়ের পরিমাণ বেশি। গুদামে বস্তা ঢুকলেও কমিশন দিতে হয় আবার বের হলেও কমিশন দিতে হয়। ওই কমিশন গুদাম কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা প্রহরী ভাগাভাগি করে নেন। এই 'মধু' খাওয়া কি কেউ ছাড়তে চায়? এমন অবস্থা হয়েছে ওই চারজনের।

আজ বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা সদর এলএসডি অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী হেলিম উদ্দিন তালুকদার থেকে নাগেশ্বরী এলএসডি অফিসে বদলি করা হয়। একইভাবে জয়মনিরহাট এলএসডির রমজান আলীকে নাগেশ্বরী, নাগেশ্বরীর তৌহিদুল হককে জেলা সদর এবং নাগেশ্বরী মাহাবুর রহমানকে জয়মনিরহাট এলএসডি অফিসে বদলি করা হয়। একই তারিখে বদলিকৃত ওই চার প্রহরীর মধ্যে মাহাবুর রহমান নতুন কর্মস্থল জয়মনিরহাট এলএসডি অফিসে যোগদান করতে গেলে তাকে অফিসে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। জয়মনিরহাট এলএসডি কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা প্রহরী ওই ঘটনা ঘটান বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন মাহাবুর রহমান।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জয়মনিরহাট গুদাম কর্মকর্তা মামুন হোসেন বলেন, ‘আগের প্রহরী অবমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে আরেকজন তো যোগদান করার সুযোগ নেই। আমি বদলি হয়ে আসা মাহাবুর রহমানকে অপেক্ষা করতে বলেছি'।

অপরদিকে নিরাপত্তা প্রহরী রহমান আলী বলেন, ‘আমাকে এখান থেকে বদলি করা হয়েছে এটা সত্য কিন্তু আমি ওই বদলি বাতিলের আবেদন করেছি। এ কারণে নতুন মাহাবুর রহমানকে আমি নিষেধ করে বলেছি কয়েকটা দিন অপেক্ষা করুন'।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু বক্কর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এ ধরনের তথ্য আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব'।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা