kalerkantho

রবিবার। ২৮ চৈত্র ১৪২৭। ১১ এপ্রিল ২০২১। ২৭ শাবান ১৪৪২

নওগাঁয় পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষ : জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদকসহ আটক ১৬

নওগাঁ প্রতিনিধি   

৩০ মার্চ, ২০২১ ১৯:৫৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নওগাঁয় পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষ : জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদকসহ আটক ১৬

নওগাঁয় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশসহ অন্তত অর্ধশতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী আহত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে শহরের কেডির মোড় এলাকায় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক অ্যাড. রফিকসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশের গুলিতে হেফাজত কর্মীদের নিহতের ঘটনার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুর ১২টার দিকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করার চেষ্টা করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় উপস্থিত কিছু পুলিশ সদস্য তাদেরকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এক পর্যায়ে লাঠিচার্জ শুরু করলে বিএনপির নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। এ ঘটনার দুই-তিন মিনিট পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা আবারও জড়ো হয়ে দলীয় কার্যালয়ের পূর্ব দিক থেকে পুলিশ লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের অন্তত ২০ মিনিট ধরে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। এতে ব্রিজের মোড়-কলেজ মোড় সড়ক ও কেডির মোড়-ব্রিজের সড়ক দিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে নওগাঁ সদর থানা ও পুলিশ লাইনস থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হলে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাস্তা ছেড়ে দেয়।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করার চেষ্টা করি। কিন্তু পুলিশ কোনো কারণ ছাড়াই বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ শুরু করে।

বিএনপির নেতাকর্মীরা কেডির মোড় এলাকা থেকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিলে সেখানে পুলিশ টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও গুলি ছোঁড়ে। এতে আমিসহ দলের অন্তত ৩০/৪০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক কোহিনুর ইসলাম মিলি ও জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আজিজুল ইসলামকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অন্যদের নওগাঁ সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল আকতার বলেন, অনুমতি ছাড়াই বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল বের করার চেষ্টা করে। ব্যস্ততম সড়ক দিয়ে মিছিল নিয়ে যাবার চেষ্টা করলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাদেরকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিএনপির কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোঁড়ে। বিএনপির কর্মীদের হামলায় ৬/৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে জিজ্ঞসার জন্য ১৫/১৬ জনকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক অ্যাড. এ জেড এম রফিকুল আলমকে বেলা পৌনে ২টার সময় শহরের বাঙ্গবাড়ীয়ায় তার নিজ বাসভবন থেকে ৪০/৫০ জনের একটি পুলিশের টিম ঘেরাও করে তাকে গ্রেপ্তার করেছে বলে তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

অপরদিকে, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলু জানান, পুলিশের সাথে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের পর দুপুর ২টার দিকে পুলিশ শহরের তাজের মোড় এলাকার অন্বেষা নিশান ক্লাবে অভিযান চালিয়ে মুকুল হোসেন (৪৫), রেন্টু হোসেন (৪৪), সহিদুল ইসলাম (৪৬), আলাউদ্দিন বাবু (৫০), আনোয়ার হোসেন (৫০) এবং এনামুল হক (৩২) নামের ছয় জনকে আটক করে নিয়ে গেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা