kalerkantho

রবিবার। ৫ বৈশাখ ১৪২৮। ১৮ এপ্রিল ২০২১। ৫ রমজান ১৪৪২

'আমরা সাহায্য চাই না, পাকা রাস্তা চাই'

শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি   

৩০ মার্চ, ২০২১ ১৪:৩২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'আমরা সাহায্য চাই না, পাকা রাস্তা চাই'

'আমরা মেলা কষ্টে আছি। নির্বাচন এলে মেম্বার চেয়ারম্যানরা কয় রাস্তাডা পাকা কইরা দিমু। পরে আর দেয় না। বর্ষা আইলে পোলাপান স্কুলে যাইতে পারে না। আমরা চলাচল করতে পারি না।' কথাগুলো বলছিলেন রানীশিমুল গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল্লাহ মিয়া। তার মতো স্থানীয় বাসিন্দা গ্রাম্য পুলিশ রাম প্রসাদ, আকরাম হোসেন, মমিনুল হক,  প্রমেলা রবিদাস, সাবিনাসহ রানীশিমুল ও বিলাসপুর গ্রামবাসীদের দাবি, 'আমরা সাহায্য চাই না, পাকা রাস্তা চাই।' 

এটি দুই উপজেলার সংযোগ সড়ক। সড়কটির কিছু অংশ ধসে গেছে। গত বছরের পাহাড়ি ঢলে গর্তে আজও মাটি ভরাট হয়নি। ফলে সেই থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ। যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন শেরপুরের শ্রীবরদীর রানীশিমুল ও ঝিনাইগাতীর বিলাসপুর গ্রামবাসীরা। সড়কটি পাকা করণসহ ব্রিজ নির্মাণের দাবি তুলে আসছেন আগে থেকেই। আজও তা রয়েছে উপেক্ষিত। সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণের দাবি আরো জোড়ালো হচ্ছে। গত রবিবার (২৯ মার্চ) সরেজমিন গেলে স্থানীয় লোকজন, চলাচলকারী ও জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে উঠে আসে এমন তথ্য। 

রানীশিমুল ও বিলাসপুর গ্রামবাসী জানায়, প্রায় ২০ বছর আগে আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি নির্মিত হয়। কাঁচা সড়ক হওয়ায় প্রতিবছর পাহাড়ি ঢলে বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়। এসব গর্ত স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও লোকজন মাটি ভরাট করে চলাচল করেন। গত বছর পাহাড়ি ঢলে রানীশিমুল গ্রামের সড়কে গ্রাম্য পুলিশ রাম প্রসাদের বাড়ির পাশে ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই বন্ধ হয় ছোট যানবাহন চলাচল। হেঁটে চলাও অনেকটাই কষ্টকর। দুই গ্রামবাসীসহ প্রতিদিন শত শত লোক চলাচল করেন প্রায় পাঁচ থেকে সাত কিলোমিটার সড়ক ঘুরে। শুকনা মৌসুমে কোনোমতে হেঁটে যাতায়াত করা যায়। তবে বর্ষা এলে এই সড়কে কেউ চলাচল করতে পারেন না। প্রায় সবটুকু সড়কেই থাকে হাঁটু পানি আর কাঁদা। শিশুরা স্কুলে যেতে পারে না। ধান, চাল ও সবজি পরিবহনে পড়েন চরম বিপাকে। এসব বিক্রি করতে হয় অর্ধেক দামে। 

গ্রাম্য মাতব্বর মিস্টার মিয়া বলেন, নির্বাচন এলে চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীরা রাস্তা কইরা দিবার চায়। পরে আর মনে থাহে না। গ্রামবাসীদের দাবি, এবার সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণের। তাদের মতে, মাত্র আড়াই কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ হলে যোগ হবে চারটি গ্রামবাসীর চলাচলে নতুন মাত্রা। বদলে যাবে গ্রামের চিত্র। রানীশিমুল ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ রানা বলেন, সড়কটি খুবই জনগুরুত্বপূর্ণ। বরাদ্দের অভাবে নির্মাণ করতে পারি নাই। তবে চাহিদা দেওয়া আছে। বরাদ্দ হলেই পাকাকরণ হবে সড়কটি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা