• ই-পেপার

চলে গেলেন ভাষাসৈনিক ইউসুফ হোসেন কালু

বরিশালে বাসার এসির ভেতর থেকে ৪টি সাপ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
বরিশালে বাসার এসির ভেতর থেকে ৪টি সাপ উদ্ধার
ছবি : কালের কণ্ঠ

বরিশালে একটি বাসার বেডরুমের এসির ইনডোর ইউনিট থেকে চারটি সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।

সামাজিক বন বিভাগের বরিশাল সদর রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, চারটি সাপ উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে রবিবার সকালে সাপগুলোকে নিরাপদ বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের কর্ণকাঠি গ্রামের হাজীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা জীবুল হক সেন্টুর বাড়ির বেডরুমের এসি থেকে সাপগুলো উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে বন্য প্রাণী উদ্ধারকারী সংগঠন এনিম্যাল লাভার্স অব পটুয়াখালীর সদস্যরা।

বাড়ির মালিক জীবুল হক সেন্টু জানান, শুক্রবার রাতে তিনি বেডরুমের এসির নিচের অংশে একটি সাপের লেজ দেখতে পান। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি পরিবারের সদস্যদের সতর্ক করেন এবং ওই কক্ষে প্রবেশ বন্ধ রাখেন।

পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করা হলে এনিম্যাল লাভার্স অব পটুয়াখালীর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর শনিবার বিকেলে সংগঠনটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

সংগঠনটির পরিচালক আসাদুল্লাহ হাসান মুসা বলেন, দীর্ঘ চেষ্টার পর চারটি সাপ জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসির আউটডোর ইউনিটে থাকা আরো একটি সাপ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরো জানান, এসির ভেতরের উষ্ণ ও নিরাপদ পরিবেশের কারণে সাপগুলো সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে চারটি এবং নগরীর সাগরদী এলাকায় একটি সাপ উদ্ধার করা হয়েছিল।

ময়লা থেকে উৎপাদন হবে জৈব সার ও বায়োগ্যাস

মাদারীপুর প্রতিনিধি
ময়লা থেকে উৎপাদন হবে জৈব সার ও বায়োগ্যাস
সংগৃহীত ছবি

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে একটি সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট। এটি চালু হলে বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার ও বায়োগ্যাস তৈরি করা হবে। স্বল্পদামে এই সার কৃষি জমিতে ব্যবহার করতে পারবেন প্রান্তিক চাষিরা। এতে যেমন ফসল উৎপাদন বাড়বে, তেমনি তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব পৌর শহর গড়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, শিবচর পৌরসভার চরশাম্যাইল ও শ্যামাইল মৌজায় ২ দশমিক ৬৮ একর জমিতে ২০২৩ সালে এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিটের নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ১২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে টার্ন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করে। মোট জমির ১ দশমিক ৫৪ একর ব্যক্তি মালিকানাধীন আর বাকি ১ দশমিক ১৪ একর খাস জমিতে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। প্রকল্প শুরু হওয়ার আগেই ব্যক্তি মালিকানা ১ দশমিক ৫৪ একর জমি অধিগ্রহণ কাজ শেষ করে জনস্বাস্থ্য বিভাগ। অধিগ্রহণের পর ইতোমধ্যে নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষা। তবে অধিগ্রহণের ৩ বছর পার হলেও এখনো ক্ষতি পূরণের কোনো টাকা পাননি ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকরা।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, শিবচর পৌরসভার বাসাবাড়ি থেকে প্রতিদিন ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে এই ইউনিটের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করে উৎপাদন করা হবে জৈব সার। বায়ুদূষণ রোধ এবং পরিবেশবান্ধব পৌর শহর গড়ে তুলতেই এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উপজেলা পর্যায়ে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের অর্থায়নে প্রথম দুই বছর জৈব সার উৎপাদন করবে। এরপর সরকারিভাবে এই সার উৎপাদন করা হবে।

 
 
স্থানীয় বাসিন্দা আলী আকবর বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে শিবচরে ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা সমস্যা ছিল। এই প্রকল্প চালু হলে শহর আরো পরিচ্ছন্ন হবে। এছাড়া অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।’

কৃষক হামেদ শিকদার বলেন, ‘বর্তমানে রাসায়নিক সারের দাম অনেক বেশি। যদি এই প্রকল্প থেকে উৎপাদিত জৈব সার স্বল্পমূল্যে পাওয়া যায়, তাহলে আমাদের চাষাবাদের খরচ কমবে। জৈব সার ব্যবহারে জমির উর্বরতা বাড়বে ও মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। এতে ভালো ফলনের পাশাপাশি আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যাবে। আমরা প্রকল্পটি দ্রুত চালু করার দাবি জানাই।’

উপশহরের বাসিন্দা আলী আকবর খান বলেন, ‘উপশহরে শেষ মাথা দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়। দুর্গন্ধে ঠিকমতো নিঃশ্বাস নেওয়া যায় না। শিশুরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এমনকি দুর্গন্ধের কারণে মসজিদে নামাজ আদায় করতেও সমস্যা হয়। তাই দ্রুত আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করে আমাদের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই।’

শিবচর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী শামীমা নাসরিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রকল্পটি চালু হলে শিবচর পৌরসভার চেহারা পাল্টে যাবে। সড়কে আর ময়লা থাকবে না। বাসাবাড়ি থেকে সংগ্রহ করা আবর্জনা এখানে আনা হবে, প্রক্রিয়াজাত হয়ে তৈরি হবে জৈব সার। সাধারণ কৃষকরা কম খরচে সার কিনে জমিতে ব্যবহার করতে পারবে। সব মিলিয়ে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার মানে বড় পরিবর্তন আসবে।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘প্রকল্পটির নির্মাণকাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।’

কমলনগর

বিদ্যুতের ‘ভূতুড়ে’ বিলে আতঙ্ক ঘরে ঘরে

কারো কারো বিল পাঁচগুণেরও বেশি দ্রুত বিষয়টির সমাধান দাবি

রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
বিদ্যুতের ‘ভূতুড়ে’ বিলে আতঙ্ক ঘরে ঘরে

গত মাসে গ্রাহক আলাউদ্দিনের বিদ্যুৎ বিল এসেছিল ৬৭৭ টাকা। চলতি মাসে এসেছে দুই হাজার ৩৭৭ টাকা। একইভাবে বেলাল হোসেনের ৩০০ টাকার জায়গায় এ মাসে এসেছে এক হাজার ৭০০ টাকা। 

শুধু আলাউদ্দিন আর বেলাল হোসেন নয়, এমন ‘ভূতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিল এসেছে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার অধিকাংশ গ্রাহকের। পল্লী বিদ্যুতের এমন অস্বাভাবিক বিল নিয়ে আতঙ্ক কাজ করছে তাদের মধ্যে। 

আদনান শরীফ নামের এক বাসিন্দা জানান, গত মাসে তার বিদ্যুৎ বিল এসেছিল যেখানে এক হাজার ৫০০ টাকা, এ মাসে সেখানে এসেছে সাত হাজার ১৯০ টাকা। মোস্তাফিজুর রহমান নামের এক গ্রাহকের গত মাসে যেখানে এসেছিল ৫০০ টাকা, এ মাসে সেখানে এসেছে এক হাজার ৫০০। আওলাদ হোসেনের গত মাসে এসেছিল ৪৫০ টাকা, এ মাসে এসেছে এক হাজার ৮০০ টাকা। 

গ্রাহকরা বলছেন, এ মাসে ‘ভূতুড়ে’ বিল নিয়ে গোটা উপজেলার গ্রাহকদের সঙ্গে বিদ্যুতের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বাগবিতণ্ডা  হচ্ছে। চলছে নেট দুনিয়ায় সমালোচনার ঝড়। এ ব্যাপারে  কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। এতে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে গ্রাহকদের মধ্যে।

গ্রাহকদের অভিযোগ, হঠাৎ করেই দ্বিগুণ-তিনগুণ এমনকি কারো কারো পাঁচগুণেরও বেশি বিল এসেছে চলতি মাসে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে ব্যাপক সমালোচনা। গ্রাহকরা বিলের কপি ফেসবুকে প্রকাশ করে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত ও সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, যেসব পরিবারে বিদ্যুৎ ব্যবহার একই রকম রয়েছে, তাদেরও আগের মাসের তুলনায় অনেক বেশি বিল এসেছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ জানাতে গেলে যথাযথ সেবা না পেয়ে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে তাদের।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কমলনগরের বিভিন্ন গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডিতে এ নিয়ে অসংখ্য পোস্ট দেখা গেছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, নিয়মিত লোডশেডিংয়ের মধ্যেও কিভাবে এত বেশি বিদ্যুৎ বিল আসছে- তা নিয়ে। কেউ কেউ মিটার রিডিংয়ের অসংগতি ও গড় বিল করার অভিযোগও তুলেছেন।

কমলনগর উপজেলা পল্লী বিদুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের অধীনে প্রায় ৬১ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। চলতি মাসে অধিকাংশ গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিলে দুই তিনগুণ টাকা আসায় গত তিন দিন ধরে চলছে প্রতিবাদ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে। অনেকেই দ্রুত বিল সংশোধন ও সঠিক মিটার রিডিং অনুযায়ী নতুন বিল প্রস্তুতের দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে কমলনগর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘কোনো কোনো ক্ষেত্রে মিটার রিডিংয়ের ভুল বা সমন্বয়ের কারণে বিল বেশি আসতে পারে। অভিযোগ পেলে যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে। এ নিয়ে এত হৈচৈ করার কোনো মানে হয় না ‘গ্রাহকদের বিলের সঙ্গে মিটার রিডিং মিলিয়ে দেখারও পরামর্শ দেন এ কর্মকর্তা।

নাটোরে পুকুর থেকে রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার

নাটোর প্রতিনিধি
নাটোরে পুকুর থেকে রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

নাটোরে শহরের বনবেলঘড়িয়া এলাকার এক পুকুর থেকে কমর কুমার দাস (৩৮) নামে এক রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (২৮ জুন) সকাল ৯টার দিকে শহরের বনবেলঘড়িয়া এলাকার এক পুকুরে মরদেহটি ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা।

নাটোর সদর থানার ওসি অসীম মনসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কমর শহরের লেংগুরিয়া মধ্যপাড়া বিহারিপাড়া এলাকার মৃত হীরা লালা দাসের ছেলে। তিনি রিকশাচালক ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রবিবার সকালে পুকুরে কিছু ভাসতে দেখে স্থানীয়রা কাছে গিয়ে দেখেন এক ব্যক্তির মরদেহ। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানালে ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করেন। মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে স্বজনরা ছুটে এসে কমরের মরদেহ বলে শনাক্ত করেন। নিহত ব্যক্তি মাদকাসক্ত ছিলেন। রাতে বাড়ি ফেরার পথে পুকুরে ডুবে তার মৃত্যু হতে পারে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন।

নাটোর সদর থানার ওসি অসীম মনসুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নাটোর মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

চলে গেলেন ভাষাসৈনিক ইউসুফ হোসেন কালু | কালের কণ্ঠ