kalerkantho

শুক্রবার । ৪ আষাঢ় ১৪২৮। ১৮ জুন ২০২১। ৬ জিলকদ ১৪৪২

মহেশখালীতে ৬ লাখ ২২ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, দুজন গুলিবিদ্ধ

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার    

২৯ মার্চ, ২০২১ ১৮:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মহেশখালীতে ৬ লাখ ২২ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, দুজন গুলিবিদ্ধ

মহেশখালী দ্বীপে উদ্ধার হলো ৬ লাখ ২২ হাজার ইয়াবা। যার বাজারমূল্য প্রায় ৯ কোটি টাকা। পুলিশ এই ইয়াবা উদ্ধার করেছে মহেশখালীর মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধ মামলার অন্যতম পলাতক আসামি মৌলভী জাকারিয়ার পুত্র এবং চিহ্নিত ইয়াবা কারবারি সালাহ উদ্দিনের প্রাইভেট কার থেকে। 

রবিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এত বড় ইয়াবার চালান মহেশখালী থেকে এটাই প্রথম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে স্থানীয়রা ধারণা করছেন, টেকনাফ থেকে পাচারকারীরা মহেশখালীকেই এবার ইয়াবা পাচারের নিরাপদ স্থান মনে করছে।

মহেশখালী থানা পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার ২৯ মার্চ রাত ২টায় মহেশখালী পৌরসভার সিকদার পাড়ার সালাহ উদ্দিন সিকদারের বাড়ির গ্যারেজে রাখা গাড়ির ভেতর থেকে এ ইয়াবাগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। 

জানা যায়, রাত ১টার সময় সিকদার পাড়ার সালাহ উদ্দীন সিকদারের নেতৃত্বে একদল লোক মেয়র মকছুদ মিয়ার অফিসে হামলা চালায়। এতে নুর হোসেন ও কাউছার নামের দুজন গুলিবিদ্ধ এবং সামসুদ্দিন ও ভুবন নামের দুজন আহত হয়। 

ঘটনার কিছুক্ষণ পর রাত ২টার দিকে সালাহ উদ্দীনের গ্যারেজে আগুন জ্বলতে দেখে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভানোর পর মহেশখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালিয়ে পোড়া গাড়ির ভেতর থেকে ৬ লাখ ২২ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে। এ সময় ২ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা আগুনে পুড়ে যায় এবং আগুনে ৩টি মোটরসাইকেল ও একটি প্রাইভেট কার পুড়েছে। তবে আগুনের সূত্রপাত কিভাবে হয়েছে তা জানা যায়নি। 

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, পৌর মেয়র মকছুদ মিয়ার অফিসের সামনে তার লোকজন সালাহ উদ্দীনের সিএনজিকে থামিয়ে তল্লাশি করার চেষ্টা করে। এ সময় সালাহ উদ্দীন অস্ত্র বের করে গুলি করে। তবে মেয়রের লোকজন জানান, মেয়রকে হত্যা করার জন্য সালাহ উদ্দীন দলবল নিয়ে অতর্কিত এসে হামলা করেছে। সংবাদ পেয়ে মহেশখালী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় রাস্তায় গুলির খোসা পাওয়া যায় বলে জানা যায়। 

খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, অভিযুক্ত সালাহ উদ্দীনের পিতা মৌলভী জাকারিয়া সিকদার মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধ মামলার ২ নম্বর আসামি এবং মেয়রের চাচাতো ভাই। তিনি এখন পলাতক। জমিজমা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আরেক রাজাকারপুত্র মেয়র মকছুদ মিয়া ও সালাহ উদ্দিন সিকদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের সূত্রেই এ ঘটনা ঘটতে পারে। 

অপরদিকে সালাহ উদ্দীনের গ্যারেজে আগুন ধরে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার পুড়ে যাওয়া এবং পোড়া গাড়ি থেকে ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ব্যাপক তদন্তে নেমেছে। মহেশখালী থানার ওসি মো. আবদুল হাই বলেন, রাতে মেয়রের ওপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় সালাহ উদ্দিন সিকদারের বাড়িতে আগুন লাগার খবর শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুনে পোড়া প্রাইভেট কার তল্লাশি করে বিশেষ কায়দায় রাখা ইয়াবাগুলো উদ্ধার করে। পুলিশ এই বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করছে।



সাতদিনের সেরা