kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

বাঘার চরাঞ্চলে এক যুবক খুন, অপরজন 'গুম'

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি    

২৫ মার্চ, ২০২১ ১১:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাঘার চরাঞ্চলে এক যুবক খুন, অপরজন 'গুম'

রাজশাহীর বাঘার পদ্মার চরাঞ্চলে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ৪ জন গুলিবিদ্ধের ২৮ দিন পর ইব্রাহিম নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। একই সাথে  মোশারফ নামে অপর এক যুবককে তুলে নিয়ে গুম করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার (২৪ মার্চ) রাতে চরাঞ্চলের চৌমাদিয়া বাজারে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় চৌমাদিয়া বাজারে এক চায়ের দোকান থেকে বাড়ি ফিরছিলেন ইব্রাহিম এবং মোশারফ হোসেন। এ সময় ওই এলাকার জিয়া এবং আব্দুর রশিদের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল সেখানে এসে প্রথমে ইব্রাহিমকে গুলি করে হত্যা করে। অতঃপর তার পায়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। নিহত ইব্রাহিমের পিতার নাম হাবি দেওয়ান বলে জানা গেছে। একই সাথে ওই গ্রামের মোশারফ নামে অপর এক যুবককে তুলে নিয়ে যান তারা। মোশারফের পিতার নাম শুকচাঁন আলী। 

প্রসঙ্গত, বাঘা থানার চৌমাদিয়া চরাঞ্চলে দিদার ব্যাপারীর গম ক্ষেতের পাশে মজনু দর্জির কলার বাগান রয়েছে। ওই বাগানের পাশে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে দিদার ব্যাপারী তার লোকজন নিয়ে জমির আগাছা পরিষ্কারের জন্যে আগুন দেন। এতে মজনুর কলার বাগানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে কলার বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার এক পর্যায়ে সন্ধ্যা ৭টার সময় চৌমাদিয়া বাজারে দিদার ব্যাপারীকে চড়-থাপ্পড় মারেন মজনু দর্জি। 

এরই জের ধরে ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকে মজনু দর্জি বাগান পরিচর্যা করতে গেলে দিদার ব্যাপারী তার লোকজন নিয়ে অতর্কিত মজনু দর্জির ওপরে হামলা চালান। এ খবর পেয়ে মজনুর লোকজন  ঘটনাস্থালে এগিয়ে এলে তাদের সকলের ওপরে পরিকল্পিতভাবে হামলা এবং গুলিবর্ষণ করে দিদার ব্যাপারীর লোকজন। এতে লিটন (২৯), আব্দুর রাজ্জাক (৩৩), মরিয়ম বেগম (৪৫) ও দুলাল ব্যাপরী গুলিবিদ্ধ হন। একই সাথে হাসুয়ার কোপ খেয়ে আহত হন ইদ্রিশ আলী (৩০) ইয়াদ আলী দর্জি (৪২) এবং ইব্রাহিম (২৮)। 

এ ঘটনায় ওইদিন সন্ধ্যায় বাঘা থানায় ১৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন আহত ইয়ার হোসেনের বড় ভাই আব্দুর রহমান মেম্বার। এ মামলায় পুলিশ আব্দুর রশিদ নামে এক আসামির বাড়ি থেকে ১২ বোতল ফেন্সিডিল জব্দ এবং বিজিবির এক সেট পোশাক উদ্ধারসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- চরাঞ্চলের চৌমাদিয়া গ্রামের হাকিম ব্যাপারীর ছেলে আলাউদ্দিন (২৩), আব্দুল জলিল ব্যাপারির ছেলে আসাদ ব্যাপারী (৪০) ও রশিদ  আলীর স্ত্রী রুবি আক্তার (২৭)।

সর্বশেষ ঘটনার ২৮ দিন পর দিদার ব্যাপারী পক্ষের লোকজন ফের মজনু দর্জির পক্ষের দু’জনের ওপর হামলা চালান। এতে ইব্রাহিম (৩৫) নামে একজন ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান এবং অপরজন মোশারফ হোসেনকে তারা তুলে নিয়ে যান।
 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় লোকজনসহ চকরাজাপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান জানান, দিদার ব্যাপারীর পক্ষের লোকজন মাদক ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত। তাদেরকে সহায়তা দিয়ে থাকে স্থানীয় বর্ডার গার্ড বিজিবি’র লোকজন।

এ ব্যাপারে আজ বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) নিহতের ভাই সলিমান বাদী হয়ে বাঘা থানা মামলা করেছেন।  
 
বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আব্দুল বারী বলেন, নিহতের ভাই বাদী হয়ে একজনকে খুন এবং অপরজনকে গুমের বিষয়ে মামলা করেছেন। 



সাতদিনের সেরা