kalerkantho

রবিবার । ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৩ জুন ২০২১। ১ জিলকদ ১৪৪২

ধসে পড়েছে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়ক

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৪ মার্চ, ২০২১ ১৯:৪৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ধসে পড়েছে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়ক

বন্দরে একজন ইটভাটার মালিক অপরিকল্পিতভাবে কৃষি জমির মাটি কেটে নেওয়ায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০ গ্রামবাসী চলাচলের সড়ক ধসে পড়েছে। মঙ্গলবার রাতে কামতাল-মালিভিটা মাদরাসা এলাকায় রাস্তা ধসের এ ঘটনা ঘটে।

উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হাতেম নিজ ইটভাটার জন্য গ্রামীণ উন্নয়ন অবকাঠামো সরকারি রাস্তাসংলগ্ন কৃষিজমি ২০০ ফুট গভীর করে মাটি কেটে নেওয়া ও সড়কের ওপর দিয়ে মাটিভর্তি ট্রাক চলাচলে সড়ক ধসে পড়ে বলে গ্রামবাসীর অভিযোগ। 

খবর পেয়ে বুধবার সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা সুলতানা নাসরিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় অভিযুক্ত যুবলীগ নেতাকে ৩ দিনের মধ্যে সড়ক মেরামত করতে নির্দেশ দেন।

গ্রামবাসী জানায়, উপজেলার ধামগড় ইউপির কামতাল, আড্ডা, শ্যামপুর, রায়েরবাগ, মালিভিটা, দশদোনাসহ ১০ গ্রামবাসী চলাচলের জন্য কামতাল মালিভিটা দাখিল মাদরাসা থেকে জাঙ্গালের বিলের ওপর দিয়ে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের সুন্দরবন পেট্রল পাম্প পর্যন্ত কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি নির্মাণ করে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান। নবনির্মিত সড়কের পাশে বন্দর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হাতেম এমবিএম নামে ইটভাটা স্থাপন করেন। এই ভাটার ইট তৈরির জন্য সড়কসংলগ্ন আশপাশের কৃষিজমির মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছিল। সড়কসংলগ্ন কৃষিজমি ২০০ ফুট নিচ থেকে মাটি উত্তোলনে গভীর গর্তে পরিণত হয়। এরপর এই সড়কের ওপর দিয়ে প্রতিদিন শতাধিক মাটিভর্তি ট্রাক চলাচল করছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর মাটি কেটে শ্রমিকরা চলে যাওয়ার পর জমিসহ প্রায় ৫০০ ফুট সড়ক গভীর গর্তে ধসে পড়ে।

ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ জানান, অপরিকল্পিতভাবে জমির মাটি নেওয়ায় গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়ে নবনির্মিত সড়ক ধসে পড়েছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। ইউএনও স্যার এসিল্যান্ড স্যারকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছেন। আগামী ৩ দিনের মধ্যে সড়ক মেরামত করতে তাগিদ দিয়েছেন।

বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শুক্লা সরকার বলেন, ঘটনাস্থলে এসিল্যান্ডকে পাঠানো হয়েছে। তাকে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নিদের্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারি রাস্তা নিজ স্বার্থের জন্য কেউ অপব্যবহার করলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে খন্দকার হাতেমের মুঠোফোনে ফোন করলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।



সাতদিনের সেরা