kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

ভাতার ব্যবস্থা করলেন ইউএনও

বাড়ির পাশে অসহায় বিধবা অথচ চোখে পড়ল না চেয়ারম্যানের

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

২৪ মার্চ, ২০২১ ১৭:৪০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাড়ির পাশে অসহায় বিধবা অথচ চোখে পড়ল না চেয়ারম্যানের

বর্তমান চেয়ারম্যানের বাড়ির লাগোয়া বিধবা সাহারা খাতুন (৮২) ও একমাত্র ছেলে বাকপ্রতিবন্ধী জমির উদ্দিন (৩০) থাকেন। মা ভিক্ষাবৃত্তি ও ছেলে ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করেন। দিন আনতে পান্তা ফুরালেও কখনও খোঁজ নেয়নি কেউ। অথচ সরকার শতভাগ ভাতার ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু ভাগ্যে জোটেনি মা-ছেলের। অবশেষে এই হতভাগাদের বুধবার ভাতার ব্যবস্থা করে দিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। ঘটনাটি ময়মনসিংহের নান্দাইলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিধবা সাহারা খাতুন হচ্ছেন উপজেলার সিংদই গ্রামের মৃত হাছান আলীর স্ত্রী ও তাদের একমাত্র ছেলে জমির উদ্দিন। দিনমজুর স্বামী মারা যাওয়ার পর সহায় সম্বলহীন অসহায় সাহারা খাতুন ছেলেকে নিয়ে বেকায়দায় পড়েন। এ অবস্থায় নিজে ভিক্ষা করে সন্তানকে নিয়ে কোনোমতে জীবন পার করছেন। এর মধ্যে সরকার এ সব অসহায়দের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করলেও কখনো ভাগ্যে জোটেনি। বেশ কয়েকবার স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বার ছাড়াও সরকারি দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের দ্বারস্থ হলেও কোনো কাজে আসেনি।

সাহারা খাতুন জানান, চোখের সামনে বিত্তশালী অনেকেই সরকারি বরাদ্দ পেলেও নিজে কখনো পাননি। এ নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের কাছে গেলে খরচ লাগবে বলে তাড়িয়ে দেয়। খরচ যোগাড় করতে না পারায় বিভিন্ন ভাতা ছাড়াও ঘর, ভিজিডি-ভিজিএফ ও হতদরিদ্রদের জন্য ১০ টাকা কেজির চালের কার্ড পাননি। এ অবস্থায় ব্যর্থ হয়ে আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। এর মধ্যে স্থানীয় এক সাংবাদিক এম সাইফুল্লাহর মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এরশাদ উদ্দিনের কাছে খবর পৌঁছে। ইউএনও তাৎক্ষণিক ডেকে নিয়ে মা-ছেলের ভাতার ব্যবস্থা ছাড়াও নিজের মানবিক ফান্ডের নগদ টাকা ও পরবর্তী ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

এ বিষয়ে আঁচারগাও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন কাইয়ুম বলেন, ওই নারী আমার সাথে যোগাযোগ করেন নাই।

ভাতার বই পেয়ে সাহারা খুশিতে কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, আমি কি সত্যিই অহন টেহা পাইয়াম। তা অইলে অতোদিন অইলো না কেরে? এই স্যারে (ইউএনও) কিবায় করলাইন। এ সময় বৃদ্ধা আনন্দে আত্মহারা হয়ে ইউএনও মাথায় হাত বুলিয়ে দেন।



সাতদিনের সেরা