kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত একুশে পদক প্রাপ্ত ফজলুর রহমান খান ফারুক

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

২২ মার্চ, ২০২১ ১৩:১২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত একুশে পদক প্রাপ্ত ফজলুর রহমান খান ফারুক

ফজলুর রহমান খান ফারুকের হাতে ক্রেস্ট তুলে দিচ্ছেন শুভসংঘ মির্জাপুর উপজেলা শাখা। ছবি: কালের কণ্ঠ

হাজারো মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন প্রবীণ রাজনীতিক ফজলুর রহমান খান ফারুক। মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য এ বছর তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় একুশে পদক পেয়েছেন। তাই মির্জাপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নাগরিক গণসংবর্ধনার আয়োজন করেছিল মির্জাপুর উপজেলা পরিষদ।

দৈনিক কালের কণ্ঠ পাঠক ফোরাম শুভসংঘ মির্জাপুর উপজেলা শাখা, মির্জাপুর প্রেসক্লাব, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে শতাধিক ক্রেস্ট ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

ফজলুর রহমান খান টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি ৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য ও দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৭৩ সালের নির্বাচনে মির্জাপুর থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

মির্জাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টুর সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা আক্তার শিফা বক্তব্য দেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাক সৈয়দ ওয়াহিদ ইকবাল অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। সন্ধায় কণ্ঠ শিল্পী বিন্দু কনা, সাব্বির আহমেদ, ঝিলমিল ও শামীমা আক্তার শিফা গান পরিবেশন করেন।

অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের দুই সহসভাপতি সুভাষ চন্দ্র সাহা, টাঙ্গাইল জেলা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লি: এর সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা খান আহমেদ শুভ, উয়ার্শী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম মল্লিক,দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল জেলা ক্লিনিক মালিক সমিতির সভাপতি এম শিবলি সাদিক, জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল, মির্জাপুর উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক শামীম আল মামুন, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিকেল চারটায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় উপজেলা পরিষদ চত্বর। কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে শুরু হয় সংবর্ধনা।

মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদ বলেন, 'জিয়া ও এরশাদ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন মন্ত্রীত্বের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিলো ফজলুর রহমান খান ফারুককে। সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে তিনি দৃঢ় ছিলেন। তিনি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগকে তার নেতৃত্বে সুসংহত রেখেছেন।'

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু বলেন, ‘ফজলুর রহমান খান ফারুক একজন ত্যাগী রাজনীতিক। ছাত্রজীবনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ছাত্রলীগের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। ছাত্রজীবন শেষে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অনেক জেল, জুলুম, নির্যাতন তাঁকে সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু কখনো তিনি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে তিনি এ অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে একুশে পদক দেওয়া হয়েছে।’

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ফজলুর রহমান খান ফারুক বলেন, ‘মির্জাপুরবাসী আমাকে যে ভালোবাসা সম্মান দিল, তাতে আমি অভিভূত। একুশে পদক প্রাপ্তিতে আমি যে সম্মান পেয়েছি সেই সম্মান মির্জাপুরবাসীর কপালে লেপন করে গেলাম। আপনাদের ভালোবাসা আমাকে আপনাদের কাছে চিরঋণী করে রাখবে।’ মির্জাপুরবাসীকে তিনি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান।

সংবর্ধনায় মির্জাপুর উপজেলার একটি পৌরসভা, ১৪টি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন, বিভিন্ন রাজনীতিক দলসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশ নেন।



সাতদিনের সেরা