kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

পাবনায় গুলিতে নিহত এসআই হাসান আলীর লাশ কেশবপুরে দাফন

ছেলের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি মা-বাবার

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি   

২২ মার্চ, ২০২১ ১১:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাবনায় গুলিতে নিহত এসআই হাসান আলীর লাশ কেশবপুরে দাফন

ছেলের লাশের সামনে ভ্যানচালক বাবার আহাজারি। ছবি: কালের কণ্ঠ

পাবনা জেলার আতাইকুলা থানায় গুলিতে নিহত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হাসান আলীর লাশ সোমবার (২২ মার্চ) ভোরেরাতে কেশবপুরের গ্রামের বাড়িতে পৌছালে গ্রামজুড়ে শোকের মাতম শুরু হয়। ভোর থেকে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মানুষ বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের ভ্যানচালক আব্দুর জব্বারের বাড়িতে তার ছেলে হাসান আলীর লাশ দেখার জন্য ভিড় জমায়।

বাড়ির উঠানে কফিনে রাখা ছেলের লাশ দেখে বাবা আব্দুর জব্বার ও মা আলেয়া বেগম আর্তনাদ করতে করতে বার বার বলতে থাকেন আমাদের ছেলে আত্মহত্যা করতে পারে না। ছেলের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত দাবি করেন তাঁরা।

পুলিশের দাবি, হাসান আলী শনিবার রাতে আতাইকুলা থানার ছাদের উপর নিজের রিভলবার দিয়ে মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন। রবিবার লাশের ময়না তদন্তের পর রাতে পাবনা পুলিশ লাইনে জানাজা শেষে অ্যাম্বুলেন্সে যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সঙ্গে আসেন পাবনা পুলিশ লাইনের উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলমসহ পুলিশের একটি দল।

সোমবার সকাল ৮ টায় গ্রামের বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে নিহত হাসান আলীর লাশ দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজায় অংশ নেন কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জসীম উদ্দীন, এলাকার চেয়ারম্যান আলা উদ্দীন, ইউপি সদস্য কামারুজ্জাম কামালসহ সর্বস্তরের মানুষ।

ছেলের লাশ দাফনের সময় বাবা ভ্যান চালক আব্দুর জব্বার বিলাপ করতে করতে বলেন, 'আমার ভ্যানে যাত্রীরা উঠার পর ভাড়া যা দেয় তাতেই সন্তষ্ট থাকি। কখনো কোন যাত্রীর সাথে মুখকালো হয়নি। সে ভাবেই আমার ছেলেকে বলে ছিলাম বাবা তুমি সৎ থেক। কখনও অসৎ ভাবে টাকা উপর্জন করো না। সৎ পথে থাকার কারণেই আমার বাবার মৃত্যু হয়েছে। যারা সৎ থাকে তাদের পদে পদে অসুবিধার সম্মুখিন হতে হয়।'

মা আলেয়া বেগম বিলাপ করতে করতে বলেন, 'শনিবার রাত ১২ টায় মোবাইল ফোনে ছেলের সঙ্গে তার কথা হয়। শুক্রবার খুলনায় তার বিসিএস পরীক্ষা ছিল। কিন্ত ছুটি না পাওয়ায় তার পরীক্ষা দেওয়া হলো না।' এ সময় মা কাঁদতে কাঁদতে আরো বলেন ছেলে তাকে জানিয়েছে আতাইকুলা থানার ওসি স্যার অন্যদের ছুটি দিলেও তাকে (ছেলে) ছুটি দেননি।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক আলাউদ্দীন বলেন, হাসান আলী তার ছাত্র ছিল। তার ব্যবহার ও মেধার কারণে সকলেই স্নেহ করতেন।

কেশবপুর সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আফসার উদ্দিন গাজী বলেন, হাসান আলীর মত সৎ ও ভদ্র ছেলে আর পাওয়া যাবে না। তার অকাল মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের সকল মানুষ শোকের ছায়া নেমে আসে।



সাতদিনের সেরা