kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

কালের কণ্ঠে সংবাদের পর ঘর পাচ্ছেন সেই চা বিক্রেতা জয়নব

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি   

২২ মার্চ, ২০২১ ০০:০৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কালের কণ্ঠে সংবাদের পর ঘর পাচ্ছেন সেই চা বিক্রেতা জয়নব

কালের কণ্ঠে (৫ মার্চ) জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের করগ্রামে মৃত হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী জয়নব বেগমকে নিয়ে 'ভিক্ষা করি না, হাট-বাজারে চা বিক্রি করে পেটের ভাত জুটে' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর ঘর পাচ্ছেন সেই চা বিক্রেতা জয়নব বেওয়া। 

প্রকাশিত সংবাদটি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় উপকমিটির সদস্য ফজলুল হকের হৃদয়ে নাড়া দেয়। সংবাদটি প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রটোকল অফিসার ও বর্তমানে লসঅ্যাঞ্জেলেসে কমার্শিয়াল কাউন্সেলর এস এম খুরশীদ উল আলমের নজরে দেন তিনি।

পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশে কনস্যুলেট অফিসের কনসাল জেনারেল তারেক মোহাম্মদ ও কমার্শিয়াল কাউন্সেলর এস এম খুরশীদ উল আলমের সহায়তায় জয়নবকে পাকা ঘর করে দিতে উদ্যোগ নেন তারা।

আজ রবিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিহাব উদ্দিন আহমদ চা বিক্রেতা জয়নবের বাড়িতে গিয়ে দুর্যোগ সহনীয় একটি ঘর তৈরি শুরু করেন। সেই সঙ্গে তার খোঁজ-খবর ও সরকারি বিভিন্ন সহায়তার আশ্বাস দেন।

চা বিক্রেতা জয়নব বেওয়া ঘর পাওয়ার কথা শুনে আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলেন, বাপ-মরা মেয়েকে নিয়ে ভাঙা একটি ঘরে থাকছি। পেটের ভাত জোগানোর জন্য হাট বাজারে ঘুরে ঘুরে চা বিক্রি করি। সাংবাদিকরা আমার কষ্ট দেখে, নিউজ করার পর যারা আমাকে ঘর দিচ্ছে তাদের জন্য আচঁল পেতে দোয়া করব। আল্লাহ যেন তাদের সব সময় সহায় হন। মা-মেয়েসহ পাকা ঘরে থাকতে পারব সেটা কোনো দিন ভাবতে পারি নাই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিহাব উদ্দিন আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ভিক্ষা করি না, হাট-বাজারে চা বিক্রি করে পেটের ভাত জুটে' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশে কনস্যুলেট অফিসের কনসাল জেনারেল তারেক মোহাম্মদ ও কমার্শিয়াল কাউন্সিলর এস এম খুরশীদ উল আলমের সহায়তায় চা বিক্রেতা জয়নব ও তার মেয়েকে একটি পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। এক লাখ ৯০ হাজার টাকার মধ্যে দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি পাকা ঘর, রান্নাঘর, সঙ্গে বাথরুমও থাকবে।

পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন সহায়তাও জয়নবকে দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে অসহায় চা বিক্রেতা জয়নবকে নিয়ে সংবাদটি প্রকাশ করার জন্য কালের কণ্ঠ'র কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রতিনিধি মমিনুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানান।

জানা যায় যে দুবেলা দুমুঠো ভাতের জন্য বিভিন্ন হাট-বাজারে ঘুরে ঘুরে চা বিক্রি করে মানবেতর জীবন যাপন করছে বিধবা জয়নব বেওয়া। অল্প বয়সেই স্বামী হারিয়ে টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। আবাদি জমি ও টাকা-পয়সা না থাকায় একমাত্র দোচালা টিনের জরাজীর্ণ ঘরে মা-মেয়েসহ বসবাস করছে।

জয়নবের বিয়ের এক বছরের মাথায় কোল আলো করে জন্ম নেয় একটি মেয়ে। মেয়ে অধরা আক্তারের বয়স যখন এক অর্থাৎ জয়নবের বিয়ের দুই বছরের মাথায় তাঁর স্বামী হেলাল উদ্দিন স্ট্রোক করে মারা যান। ১২ বছর বয়সী মেয়েটি সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। শুরু থেকেই সংসারে দুর্ভোগ। অনেক কষ্টে প্রায় ১০ বছর আগে ছোট একটি দোচালা ঘর বানিয়েছিলেন, জীর্ণশীর্ণ সেই ঘরেই কোনো রকমে থাকছেন মা-মেয়ে। সংসার চালাতে কখনো অন্যের বাড়িতে কাজ করেন, কখনো রাস্তায় মাটি কাটেন।

করোনাকালে কোনো বাসাবাড়িতে কাজ না পেয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েন- কিভাবে বাঁচবেন। উপায়ান্তর না পেয়ে অবশেষে অন্যের কিনে দেওয়া ফ্লাস্ক হাতে নিয়ে নেমে পড়েন বিভিন্ন বাজারে ও রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে চা বিক্রি করতে। এই চা বিক্রির সামান্য কিছু আয় দিয়েই খুব কষ্টে করে চলছে জয়নব ও মেয়ের সংসার।



সাতদিনের সেরা