kalerkantho

বুধবার । ৮ বৈশাখ ১৪২৮। ২১ এপ্রিল ২০২১। ৮ রমজান ১৪৪২

ভ্যানের ব্যাটারিটি বিক্রি করা হয়, এর জন্য শফিকুলকে মেরে মাটিচাপা দেয় তারা!

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

২০ মার্চ, ২০২১ ১৪:৪৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভ্যানের ব্যাটারিটি বিক্রি করা হয়, এর জন্য শফিকুলকে মেরে মাটিচাপা দেয় তারা!

গ্রেপ্তারকৃত দুই মাদকসেবী ছবুর মিয়া (৪৯) ও মামুন মিয়া (১৯)

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অটোভ্যানের কারণে জীবন দিতে হয়েছে ভ্যানচালক শফিকুলকে। কয়েকজন মিলে ভ্যান চুরির উদ্দেশ্যে সাড়ে পাঁচ মাস আগে শফিকুলকে খুন করে মাটি চাপা দেন। পুলিশ এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মামুন মিয়া (১৯) ও ছবুর মিয়া (৪৯) নামে দুই মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা টাঙ্গাইলের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দিতে হত্যার বর্ণনা দেন। আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা হাসনাত তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। মামুন মির্জাপুর উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের নবগ্রাম গ্রামের চান মিয়ার ছেলে এবং ছবুর মিয়া একই গ্রামের ছেলামত আলীর ছেলে।

জানা গেছে, শফিকুল ইসলাম পেশায় একজন অটোভ্যানচালক। তিনি প্রতিদিনের ন্যায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর ভ্যান চালাতে সকালে বাড়ি থেকে বের হন। ওইদিন সন্ধ্যার পর থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। শফিকুলের আত্মীয়রা মস্তামাপুর খেয়াঘাট থেকে তার ভ্যানটি উদ্ধার করে। পরে শফিকুলের চাচা শিপন মিয়া ৩০ সেপ্টেম্বর মির্জাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ডায়েরি নম্বর- ২২৩৩। গত ৫ মার্চ শফিকুলের মা চম্পা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের নামে থানায় মামলা করেন। মামলা নম্বর ০৬। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. নাসিরুজ্জামান তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ১০ মার্চ মামুন মিয়া (১৯) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারকৃত নাসির রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন। তারা কয়েকজনে মিলে শফিকুলের অটোভ্যানটি নেয়ার জন্য তাকে অপহরণ করে হত্যার পর নবগ্রাম গ্রামে মাটিতে পুঁতে রাখেন। অটোভ্যানের ব্যাটারি খুলে রেখে ভ্যানটি মস্তমাপুর খেয়াঘাটে ফেলে রাখেন তারা। পরে ব্যাটারি অন্যত্র বিক্রি করে দেন। মামুনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১১ মার্চ বৃহস্পতিবার পুলিশ মাটি খুঁড়ে শফিকুলের কঙ্কাল উদ্ধার করেন।

১৫ মার্চ এ হত্যার সাথে জড়িত থাকার অপরাধে ছবুর মিয়া (৪৯) নামে আরেকজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে ১৬ মার্চ আদালতে পাঠানো হলে আদালতের বিচারক দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ১৮ মার্চ তাদের আদালতে হাজির করলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা হাসনাত তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. নাসিরুজ্জামান জানান, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘটনার সাথে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা শফিকুলের অটোভ্যানটি চুরির উদ্দেশ্যে খুন করেছেন বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনার সাথে জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা