kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

বাহুবলে মা-মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা? রহস্য উদঘাটনের পথে পুলিশ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৮ মার্চ, ২০২১ ১৯:২৪ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বাহুবলে মা-মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা? রহস্য উদঘাটনের পথে পুলিশ

হবিগঞ্জের বাহুবলে গভীর রাতে মা মেয়েকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোররাতে উপজেলার পুটিজুরী ইউনিয়নের দ্বিগাম্বর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন উপজেলার পুটিজুরী ইউনিয়নের লামাপুটিজুরী গ্রামের সঞ্জিত দাসের স্ত্রী অঞ্জলী দাস (৩৫) ও তার মেয়ে পূজা দাস (৮)। পূজা- কালীবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্রী। 

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ধর্ষণের পর এই হত্যার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তবে পুলিশ এখনও কোনো তথ্য দিচ্ছে না। তারা বলছে তারা এই রহস্য উদঘাটনের দারপ্রান্তে রয়েছেন। শুক্রবার যে কোনো সময় সাংবাদিকদেরকে প্রেসব্রিফিংএ সব তথ্য জানানো হবে। এই ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন ও ওই বিল্ডিংয়ের ২য় তলার ভাড়াটিয়া ও দ্বিগাম্বর বাজারের কাঁচা মালের আড়তের শ্রমিক আমীর আলীকে (৩৫) আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে বাহুবল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লামাপুটিজুরী গ্রামের সঞ্জিত দাস কাঁচা মালের ব্যবসা করেন। তিনি স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে দ্বিগাম্বর বাজারে তিন তলা একটি বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।  ঘটনার দিন রাতে তিনি ব্যবসার কাজে সুনামগঞ্জে অবস্থান করছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোরে তিনি বাসায় এসে দেখেন তার স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। 

সঞ্জিত দাস জানান, তিনি শতভাগ নিশ্চিত তার প্রতিবেশী আমীর আলী এই ঘটনা ঘটিয়েছে। ওই দিন রাত ৪টা ৪৩ মিনিটে আমির আলী আমাকে ফোন দিয়ে বলেন, তার ঘর চুরি হয়েছে, ঘরে থাকা সেলাই মেশিনসহ সব চুরি করে নিয়ে গেছে। সবাই তার বাসায় এসেছে কিন্তু আমার স্ত্রী নাকি ঘরে আসেনি।

সঞ্জিত দাস বলেন, দরজার পাশে আমীর আলী ও তার সহযোগীদের নাড়াচাড়া বুঝতে পেরে আমার স্ত্রী রাত সাড়ে ৩টার দিকে আমাকে ফোন দিয়ে বলে আমি যেন তাড়াতাড়ি ফিরে আসি। তার বাসায় ভয় করছে। তখন আমি বলি এতদূর থেকে আমি কিভাবে আসব। তিনি বলেন, ‘‘আমি জানতে পেরেছি আমীর আলী পুলিশকে বলেছে, ‘সে ও তার ৩ সহযোগী কৌশলে আমার বাসায় প্রবেশ করে স্ত্রীকে ধর্ষণ করার পর ছুড়ি দিয়ে স্ত্রী ও সন্তানকে জবাই করে হত্যা করেছে।’ সে ওই দিন রাতে আমার স্ত্রীকে ফোন করে তার পরিচয় দিয়ে তার বাসায় চুরি হয়েছে বলে দরজা খোলার জন্য অনুরোধ করে। আমার স্ত্রী এতে রাজি না হলেও বারবার সে ফোন করে একই কথা বললে একপর্যায়ে আমার স্ত্রী দরজা খুললে আমীর আলীসহ ৪ জন ঘরে প্রবেশ এই ঘটনা ঘটিয়েছে। স্ত্রীর গলাকাটা থাকলেও সন্তানের মাথাটি আলাদা হয়ে যায়। আমীর আলী আমার স্ত্রীর গায়ে হাত দিতে গেলে ধস্তাধস্তি হয়। এতে তার বাম হাতের আঙ্গুলে একটি কামড়ের আঘাত রয়েছে। আমার স্ত্রী তার ইজ্জত রক্ষার জন্য শেষ চেষ্টা হিসেবে এই কামড় দেয় বলে আমার ধারণা। পরে লাফ দিয়ে নিচে নামতে গিয়ে আমীর আলী হয়তবা আহত হয়েছে।’’

তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার সবছেয়ে দুঃখ আমার ৮ বছরের মেয়েটির জন্য। ও ছোট মেয়ে। সে কি বুঝে। কিন্তু তাকে এভাবে কেউ হত্যা করতে পারে তা কল্পনাও করতে পারি না। আমি সব হারিয়ে এখন নিঃস্ব। আমি এই ঘটনার বিচার চাই। 

যার বিরুদ্ধে সন্দেহের তীর সেই আমীর আলীর বাড়ী সুনামগঞ্জে। তিনি বাহুবলে বিয়ে করে ওই বাজারে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকেন। বাজারে তিনি ট্রাকে মাল বোঝাই ও খালাসের শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। এই ঘটনার খবর পেয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার পারভেজ আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আমরা রহস্য উদঘাটনের শেষ প্রান্তে রয়েছি। 

এদিকে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলার সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল এই মা মেয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। কেউ কেউ ধারণা করেন গত কয়েকদিনের সাম্প্রদায়ীক দাঙ্গার প্রভাবে এই হত্যাকাণ্ড। আবার কেউ কেউ ধারণা করেন ডাকাতি করতে গিয়ে এই ঘটনা ঘটেছে। আবার কেউ কেউ ধারণা করেন ধর্ষণের পর এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে। তবে পুলিশ সাম্প্রদায়ীক দাঙ্গা বা ডাকাতির সম্ভাবনা নাকচ করে দেয়। কিন্তু ধর্ষণের বিষয়টি পরীক্ষা ছাড়া বলা যাবে বলে মন্তব্য করেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার পারভেজ আলম চৌধুরী। অঞ্জলী দাসের মরদেহটি বিবস্ত্র অবস্থায় পাওয়ায় এই ধারণাটিকেই সঠিক বলে মনে করছেন সবাই। তার স্বামী সঞ্জিত দাসেরও একই ধারণা। এ ছাড়াও ঘরে থাকা নগদ ২২ হাজার টাকা ও স্বার্ণালংকার অক্ষত থাকায় ডাকাতির সম্ভাবনা সবাই নাকচ করে দেন। 

দ্বিগাম্বর বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় পাল বলেন, আমরা এই ঘটনায় স্তম্ভিত। বাজারে রিতিমত আতংক বিরাজ করছে। আমরা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূক বিচার চাই।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা বলেন, আমরা মোটামুটি রহস্য উদঘাটনের শেষ পর্যায়ে রয়েছি। তদন্তের স্বার্থে এখন কোনো তথ্য প্রদান করা যাবে না। আমরা শুক্রবার প্রেসব্রিফিংএ সবকিছু জানাতে পারব বলে আশাবাদী।



সাতদিনের সেরা