kalerkantho

শনিবার । ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১২ জুন ২০২১। ৩০ শাওয়াল ১৪৪২

দুই মাস ধরে ‘দশ নম্বর মহাবিপদ সংকেত’ পাচ্ছিলেন তিনি, অবশেষে...

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

১৮ মার্চ, ২০২১ ১৮:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুই মাস ধরে ‘দশ নম্বর মহাবিপদ সংকেত’ পাচ্ছিলেন তিনি, অবশেষে...

ভাইয়ের সঙ্গে সীমানা ছাড়াও একটি মাদরাসায় চাকরির প্রার্থী হয়ে বিরোধ চলছিল ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা রসুলপুর গ্রামের আনিছুর রহমান চৌধুরী (৪৯) নামে এক ব্যক্তির। আর মাদরাসার ঘটনা নিয়ে মামলা করলে তা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেয় প্রতিপক্ষ। কিন্তু কোনো ধরনের ফলাফল না পেয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি ছাড়াও গত দুই মাস ধরে নিজের বাড়ির বসতঘর ও শ্বশুড়বাড়িতে পাওয়া যেত 'মামলার ফলাফল চাকরি নয়, দশ নম্বর মহাবিপদ সংকেত' লেখা বেশ কয়েকটি চিরকুট। আর তা বাস্তবে রূপ নেয় হত্যার মধ্য দিয়ে। 

গত সোমবার রাতে বাড়ি যাওয়ার পথে আনিছুর রহমানকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। দুই দিন পর বৃহস্পতিবার মামলা করা হয় নিহতের ছোট ভাই হাবিবুর রহমান, মাদরাসার শিক্ষক এমদাদুল ও তাঁর ছেলে তৌহিদুল ও সভাপতি জুয়েলের বিরুদ্ধে। মামলায় ছোট ভাই হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত আনিছুর রহমানের বাড়ি নান্দাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর রসুলপুর গ্রামে। নিহতের বাড়ি গিয়ে জানা যায়, আনিছুর গত সোমবার পাশের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রায়ের বাজার থেকে সাইকেল চালিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। জঙ্গলের ভেতর দিয়ে যাতায়াতের রাস্তা ধরে যাওয়ার আততায়ীরা বাঁশঝাড়ের একটি বাঁশ কেটে তাঁর পথরোধ করে। তিনি পড়ে থাকা বাঁশ ডিঙিয়ে বাড়িতে যাওয়ার সময় তাঁকে মাথায় কোপ দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। তাঁর শরীরে একাধিক জখমের চিহ্ন রয়েছে। পাশের বাড়ির এক ব্যক্তি গুরুতর আহত তাঁকে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এর মধ্যে ছোট ভাই হাবিবুর রহমান রক্তমাখা জামা ও লুঙ্গি পরা অবস্থায় হাসপাতালে না গিয়ে থানায় এসে ভাইয়ের লাশের সন্ধান করেন। তখন পুলিশের সন্দেহ হলে তাকে আটক করা হয়। এর মধ্যেই খবর আসে দুর্বৃত্তদের হাতে কোপানো সেই আনিছুর মারা গেছেন। 

নিহতের স্ত্রী জানান, তাদের ঘরের দরজার সামনে তাঁর দেবর হাবিবুর রহমান একটি টয়লেট তৈরি করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এ নিয়ে তার স্বামীর সাথে তার দেবরের বিবাধ চলছিল। ওই দেবর বিভিন্ন সময় তাঁর স্বামীকে গালিগালাজ ছাড়াও শরীরেও হাত দিয়েছে। তা ছাড়া ইদানীং পাশের কেন্দুয়া উপজেলার গাড়াদিয়া এলাকার একটি মদরাসায় শিক্ষকতা নিয়ে আদালতে মামলা চলছিল। ওই মাদরাসার একটি পক্ষের পক্ষ নিয়ে এই মামলা প্রত্যাহার করতে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিল দেবর। গত প্রায় দুই মাস ধরে বসতঘরের মধ্যে হত্যার হুমকি দিয়ে বেশ কয়েকটি চিরকুটও পাওয়া গেছে। তাতে লেখা রয়েছে 'মামলার ফলাফল চাকরি নয়, বিপদ সংকেত, বিপদ সংকেত, দশ নম্বর মহাবিপদ সংকেত'।



সাতদিনের সেরা