kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

এমপি ও আ. লীগ সেক্রেটারি অনুপস্থিত!

এবার জোড়া খুন মামলার পুনঃতদন্ত চাইল আওয়ামী লীগ

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি   

১৬ মার্চ, ২০২১ ০০:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এবার জোড়া খুন মামলার পুনঃতদন্ত চাইল আওয়ামী লীগ

জোড়া খুনের মামলায় কারাবন্দী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি এম এ হালিমের ভাই স্থানীয় সাতমোড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ রানার মুক্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত বিশাল প্রতিবাদ সভা থেকে এবার মামলাটির পুনঃতদন্ত চাইল উপজেলা আওয়ামী লীগ।

সোমবার (১৫ মার্চ) নবীনগর বড় বাজারে মাসুদ রানার মুক্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় সভাপতির ভাষণে দলটির নবীনগর উপজেলা শাখার সভাপতি ও সাবেক সাংসদ ফয়জুর রহমান বাদল সরকারের কাছে জোর গলায় এ পুনঃতদন্তের দাবি জানান।

তবে বহুল আলোচিত এ প্রতিবাদ সভায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় সাংসদ এবাদুল করিম বুলবুল ও জোড়া খুন মামলার আসামি কারাবন্দি চেয়ারম্যান মাসুদ রানার বড় ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি এম এ হালিমকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি।

ওই প্রতিবাদ সভায় অন্যানের বক্তব্য রাখেন, উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান মনির, জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও নবীনগর পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট শিব শংকর দাস, জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য মো. জসিম উদ্দিন আহাম্মদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সুজিত কুমার দেব, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন সাদেক, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন চৌধুরী শাহান,  সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম শফিক, আওয়ামী লীগ নেতা প্রবীর ভট্টাচার্যসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মো. নাছির উদ্দিন।

প্রতিবাদ সভায় সভাপতির বক্তব্য প্রদানকালে সাবেক সাংসদ এক পর্যায়ে বলেন, 'শুনছি, নবীনগরে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি শিগগিরই ঘোষিত হতে যাচ্ছে। তবে ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রকে উপেক্ষা করে কোনো নতুন কমিটি ঘোষিত হলে আর এ নিয়ে আমার উপজেলায় কোনো বিশৃংখলা সৃষ্টি হলে সেটি কখনো মেনে নেওয়া হবে না এবং এর দায় সম্পূর্ণ জেলা ছাত্রলীগকেই বহন করতে হবে। পাশাপাশি মাসুদ রানার মুক্তির দাবিতে কেউ যেন ঘোলা পানিতে কোনো ধরনের মাছ শিকার করতে না পারে সেদিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখতে আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মীদের প্রতি জোর আহবান জানান, রাজনীতির পরিচ্ছন্ন ও জনপ্রিয় এই সাবেক সাংসদ ফয়জুর রহমান বাদল।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ১ মার্চ উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে সন্ধ্যায় স্থানীয় রছুল্লাবাদের 'হক ডাকাত' খ্যাত খন্দকার এনামুল হক ও তার ভায়রা ভাই বিজিবির সাবেক সদস্য ইয়াছিন মিয়াকে পিটিয়ে হত্যা করে গ্রামবাসী। পরে নিহত এনামুলের স্ত্রী তসলিমা বাদী হয়ে পার্শ্ববর্তী সাতমোড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদ রানাকে জোড়া খুনের মামলায় ২৫ নম্বর আসামি দিয়ে ২৬ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।

পরে সিআইডি মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে চেয়ারম্যান মাসুদ রানাকে ২৫ নম্বর থেকে ৩ নম্বর আসামিতে স্থানান্তরিত করে ২০১৮ সালে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। এ অবস্থায় গত ৮ মার্চ (সোমবার) এ মামলায় আত্মসমর্পণ  করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন চেয়ারম্যান মাসুদ রানা। 

কিন্তু বিজ্ঞ আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে মাসুদ রানাকে জেলাহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এরপর থেকে মাসুদ রানার মুক্তির দাবিতে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সংগঠন একের পর এক মানববন্ধন, বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সভাসহ নানা কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে।



সাতদিনের সেরা