kalerkantho

সোমবার । ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৪ জুন ২০২১। ২ জিলকদ ১৪৪২

চাল আত্মসাতের অভিযোগে বরখাস্ত সেই চেয়ারম্যান পেলেন নৌকা

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

১৫ মার্চ, ২০২১ ২৩:৪৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চাল আত্মসাতের অভিযোগে বরখাস্ত সেই চেয়ারম্যান পেলেন নৌকা

জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী। ফাইল ছবি

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউপির নির্বাচনে নৌকা প্রতিক মনোনীত হয়েছেন চাল আত্মসাতের অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া সেই চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী। সোমবার  আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় দপ্তর সম্পাদক ব্যরিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত অনুলিপিতে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করে চেয়ারম্যান হন জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী। মানবিক সহায়তার ১৫ মেট্রিক টন চাল আত্মসাৎ করে কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে গত বছরের ২৮ এপ্রিল পেকুয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বাদি হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুলকে আসামি করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেন। 

চাল চুরির মামলাটি বর্তমানে পেকুয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাদির শাহ তদন্ত করছেন। উপ-পরিদর্শক বলেন, চাল আত্মসাতের মামলাটি এখনো তদন্তাধীন। তদন্তের স্বার্থে মামলার বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

এদিকে মামলা রুজু হওয়ার পর দিন ২৯ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলামকে সাময়িক বহিষ্কার করে। একই সঙ্গে ৩০ এপ্রিল তাকে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ টৈটং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকেও বহিষ্কার করে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তদন্তে জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক চাল আত্মসাতের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় গত বছরের ২৯ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাকে ওই পদ থেকে স্থায়ী বরখাস্ত করে চেয়ারম্যান পদ শূন্য ঘোষণা করে।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, চাল কেলেংকারির ঘটনার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় টৈটং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলামকে বরখাস্ত করার পর দল থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ কারণে জেলা থেকে সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থীদের যে তালিকা পাঠানো হয়েছে সেখানে জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীর নাম পাঠানো হয়নি।

তবে এ বিষয়ে জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী তার বিরুদ্ধে চাল কেলেংকারির অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন। তিনি এমনও দাবি করেন, তাকে মন্ত্রণালয় ও আওয়ামী লীগ থেকেও বহিষ্কারের বিষয়টিও সত্য নয়। পুরো ঘটনাটিকে তিনি ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন।

পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, জাহেদ জনপ্রিয় চেয়ারম্যান। তাঁর বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের যে অভিযোগ উঠেছিল তা মিথ্যা। চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহেদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। এ কারণে আওয়ামী লীগ জাহেদকে আবারও নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন দিয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কাশেম আরো জানান, পেকুয়া উপজেলার তদানীন্তন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইকা শাহাদত উক্ত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীকে অত্যন্ত কৌশলে দস্তখত আদায় করেই চাল আত্মসাতের ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে এসব প্রমাণিত হওয়ায় উক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও শাস্তিমূলক বদলি করা হয়।

এদিকে টৈটং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী টৈটং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শহিদুল্লাহ, পেকুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জুবাইদুল্লাহ লিটন ও পেকুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি মেহেদি হাসান ফরায়েজি বলেন, জাহেদের মনোনয়ন পাওয়াটা দুঃখজনক। তিনি মানবিক সহায়তার চাল আত্মসাতের অভিযোগে দল থেকে ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে বরখাস্ত হয়েছেন। যে পদটি থেকে তাকে সরকার বরখাস্ত করেছে, সে পদে আসীনের জন্য তাকে আবার মনোনয়ন দেওয়াটা মোটেই ভালো কাজ হয়নি। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের আবেদন, টৈটং ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীতা নিয়ে পুনঃসিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। 



সাতদিনের সেরা