kalerkantho

রবিবার । ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৩ জুন ২০২১। ১ জিলকদ ১৪৪২

ভিসি কলিমউল্লাহর দুর্নীতি : ৩৫ জনের সাক্ষ্য নিল তদন্ত দল

রংপুর অফিস   

১৫ মার্চ, ২০২১ ১৯:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভিসি কলিমউল্লাহর দুর্নীতি : ৩৫ জনের সাক্ষ্য নিল তদন্ত দল

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) গঠিত তদন্ত কমিটি। রবিবার দুপুর একটায় তদন্তকাজ শুরু করে রাত ১০টা পর্যন্ত টানা ১০ ঘণ্টা তদন্তে বিশ্ববিদ্যলয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচাীরসহ ৩৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। তবে ক্যাম্পাসে আসেননি উপাচার্য।

শুরুতে শিক্ষকদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি কমলেশ চন্দ্র রায় ও সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান স্বাক্ষরিত ২০১৯ সালে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পাঠানো উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনীত ৪৫টি অভিযোগের বিষয়ে ইউজিসির দলটি তদন্তে এলেও পরে অধিকার সুরক্ষা পরিষদের করা সব অভিযোগের বিষয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ ও নথিপত্র সংগ্রহ করে তদন্ত কমিটি।

ক্যাম্পাসে উপাচার্যের অনুপস্থিতি, বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও ডিন নিয়োগে নিয়ম ভঙ্গ করা হয়েছে কিনা, নিয়োগ কমিটি এবং নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো অনিয়ম আছে কিনা এবং যত অনিয়মের অভিযোগ এসেছে সব কিছুই খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউজিসির তদন্ত কমিটির প্রধান বিশ্বজিৎ চন্দ।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা সাত শিক্ষক ও কয়েকজন কর্মকর্তার বিভিন্ন সময়ে দেওয়া ১১১টি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে এসেছি। উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে অবস্থান না করার বিষয়টি প্রধান অভিযোগ। এ ছাড়া বিভিন্নজনের দায়িত্ব উপাচার্য একাই পালন করেন, ইচ্ছে মতো নিয়োগ দেন, এরকম অনেক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তদন্ত শেষে উপাচার্যসহ অন্যদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

তদন্তে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, লিয়াজোঁ অফিসে দুর্নীতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক প্রশাসনিক ও একাডেমিক পদ ধরে রাখা, আইন লঙ্ঘন করে বিভাগীয় প্রধান নিয়োগ, জনবল নিয়োগে ইউজিসির নির্দেশনা উপেক্ষা, নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতিসহ উপাচার্যের স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তদন্ত করেন ইউজিসির দল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান বলেন, উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনা ১১১টি অভিযোগের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা অমান্য করে ক্যাম্পাসে ধারাবাহিক অনুপস্থিতি, ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া, ইউজিসির নির্দেশনা অমান্য করে জনবল নিয়োগ, শিক্ষক ও জনবল নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়ম, নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি হয়েও অনুপস্থিত থাকা।

তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষ্য এবং দালিলিক প্রমাণ দিয়ে এসে অধিকার সুরক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মতিউর রহমান বলেন, আমরা দালিলিক প্রমাণ দিয়েছি। এ ছাড়া উপাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে। সে কারণে আমরা আশা করি তাকে অপসারণ করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়াও তার সাথে যেসব শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী জড়িত তাদেরকে চাকরিচ্যুত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে আর কেউ উচ্চ বিদ্যাপীঠকে এভাবে নষ্ট করতে না পারে।

এর আগে গতকাল রবিবার বেলা পৌনে ১২টায় ইউজিসির তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দের নেতৃত্বে ইউজিসির সিনিয়র সহকারী সচিব জামাল উদ্দিন এবং ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আবু তাহের ক্যাম্পাসে পৌঁছান। প্রশাসনিক ভবনের সিন্ডিকেট রুমে ১০ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার তদন্ত শেষে রাত ১০টায় বেরিয়ে যায় দলটি।



সাতদিনের সেরা