kalerkantho

বুধবার । ২ আষাঢ় ১৪২৮। ১৬ জুন ২০২১। ৪ জিলকদ ১৪৪২

স্ত্রীর চোখের আলো কেড়ে নিতে চেয়েছিল যৌতুক লোভী স্বামী!

কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি    

১৫ মার্চ, ২০২১ ১৮:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্ত্রীর চোখের আলো কেড়ে নিতে চেয়েছিল যৌতুক লোভী স্বামী!

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ডাসার থানায় যৌতুকের জন্য সাদিয়া (২১) নামের এক গৃহবধূর চোখ তুলে ফেলার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটলেও সোমবার সকালে ভুক্তভোগীর পরিবার এ নির্যাতনের তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনায় ওই ভুক্তভোগীর পরিবার কালকিনি উপজেলার ডাসার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। 

ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, কালকিনি উপজেলার ডাসার থানার গোপালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম বনগ্রাম গ্রামের কৃষক বারেক চৌকিদারের মেয়ে সাদিয়া বেগমের সঙ্গে একই থানার বালিগ্রাম ইউনিয়নের ঘুঙ্গিয়াকুল গ্রামের কাসেম মোল্লার প্রবাসী ছেলে নাসির মোল্লার এক বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় স্বামী নাসির মোল্লা স্ত্রী সাদিয়া বেগমকে যৌতুকের টাকার জন্য চাপ দিতে  থাকে। কিন্তু সাদিয়ার পরিবার দরিদ্র হওয়ায় যৌতুকের টাকা দিতে ব্যর্থ হয়। আর এই কারণে যৌতুক লোভী স্বামী নাসির মোল্লা ক্ষিপ্ত হয়ে গত শনিবার দুপুরে পরিবারের লোকজন নিয়ে সাদিয়ার দু’চোখ তুলে ফেলার চেষ্ট ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে। পরে ডাসার থানা পুলিশের সহযোগীতায় নির্যাতিতার পরিবার গুরুতর আহত অবস্থায় গৃহবধূকে সাদিয়াকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এই ঘটনায় নির্যাতিত সাদিয়ার মা পারভীন বেগম বাদী হয়ে মেয়ের স্বামী নাসির মোল্লাসহ ৮ জনকে আসামি করে ডাসার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে, ঘটনার পর থেকে সাদিয়ার স্বামী ও শশুর বাড়ির লোকজন পালাতক রয়েছেন। 

মামলার বাদী পরভীন বেগম কান্না জরিত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়ে জামাই নাসিরের দাবী করা যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় আমার মেয়েকে দিনের পর দিন প্রচণ্ড মারধর করতো। তার পরিবারের লোকজন নিয়ে আমার মেয়ের দু’চোখ তুলে ফেলার চেষ্টা করে। তাই আমি তাদের নামে মামলা করেছি। 

এ বিষয় কথা বলতে অভিযুক্ত নাসির মোল্লার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

কালকিনি উপজেলার ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসানুজ্জামান বলেন, এই ঘটনায় তারা (পরিবারের লোকজন) ত্রিপল নাইনে ফোন দিলে আমরা খবর পাই। পরে এসআই রিপনকে পাঠিয়ে ওই গৃহবধূকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছি। গৃহবধূর পরিবারের দাবি, মেয়ে জামাই যৌতুকের জন্য মেয়ের চোখে আঙ্গুল দিয়ে চোখ উঠানোর চেষ্টা করে। এ ব্যাপারে একটি নিয়মিত মামলা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা