kalerkantho

মঙ্গলবার । ১ আষাঢ় ১৪২৮। ১৫ জুন ২০২১। ৩ জিলকদ ১৪৪২

বরখাস্ত হওয়া মাদরাসা শিক্ষকের কাণ্ড!

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

১৫ মার্চ, ২০২১ ১৭:৫৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বরখাস্ত হওয়া মাদরাসা শিক্ষকের কাণ্ড!

নওগাঁর রাণীনগরে একটি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মো. গুলজার রহমান স্থায়ীভাবে বরখাস্ত হওয়ার পরও প্রায় ৪ বছর ৪ মাস ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মাদরাসার প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির সিল স্বাক্ষর জাল করে প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার ৬০০ টাকা রাণীনগর সোনালী ব্যাংক বাজার শাখা থেকে উত্তোলন করেছেন। এমন একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর। 

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার পারইল ইউনিয়নের চকপারইল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার করজবাড়ি গ্রামের মৃত বছির উদ্দিনের ছেলে গুলজার রহমান গত ২৫-১২-১৯৮৩ সালে ওই প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পান। সেই মোতাবেক গত ০১-০২-১৯৮৪ সালে যোগদান করে পেশাদারিত্বের মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কিন্তু এক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। তার ইচ্ছে মতো মাদরাসায় আসা-যাওয়া, অনুপস্থিত থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণ দেখিয়ে গত ৩০-১০-২০১৬ তারিখে ওই মাদরাসার পরিচালনা কমিটি সরকারি বিধি অনুসরণ করে তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়। চাকরি চলে গেলেও এমপিওভুক্তির অংশের টাকা নিতে ৪ বছরের বেশি সময় ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, চকপারইল মাদরাসার বর্তমান প্রধান শিক্ষক ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতির সিল-স্বাক্ষর জাল করে প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার ৬০০ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেন। 

এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তদন্ত স্বাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি লিখিত অভিযোগ বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো. আল-আমিন হোসেন ও সভাপতি মো. রেঞ্জুদুল ইসলাম যৌথ স্বাক্ষরে সোমবার সকাল ১০ টায় রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে দাখিল করা হয়। 

এনিয়ে গুলজার রহমান জানান, আমি দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠানে শ্রম দিয়েছি। কিন্তু কমিটির কয়েক জন সদস্য আমার সঙ্গে অমানুসিক আচারণ করে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বরখাস্ত করে। আমি অনুদানভুক্ত এমপিও’র অংশের টাকা ব্যাংক থেকে তোলার সময় কারো সিল স্বাক্ষর জাল করিনি। বরং কমিটিই আমাকে বেতন দিয়েছে। 

চকপারইল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার প্রধান শিক্ষক আল-আমিন জানান, গুলজার রহমান স্থায়ীভাবে বরখাস্ত হওয়ার পর সরকারিবিধি মোতাবেক নতুন প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্তৃপক্ষ আমাকে নিয়োগ দেয়। গত সপ্তাহে আমি জানতে পারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-মামুন, আমার এবং মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. রেনজুদুল ইসলামের সিল-স্বাক্ষর জাল করে ৪ বছর ৪ মাস ধরে ব্যাংক থেকে ১ লাখ ১৭ হাজার ৬০০ টাকা উত্তোলন করেছেন বরখাস্তকৃত শিক্ষক গুলজার রহমান। এমনটা নিশ্চিত হওয়ার পর আমি বাদী হয়ে সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-মামুন জানান, এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত স্বাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



সাতদিনের সেরা