kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ বৈশাখ ১৪২৮। ২২ এপ্রিল ২০২১। ৯ রমজান ১৪৪২

ফেরিওয়ালা থেকে উদ্যোক্তা

বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি   

১০ মার্চ, ২০২১ ১৯:১১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফেরিওয়ালা থেকে উদ্যোক্তা

এক সময় ৫০০ গ্রাম কালোজিরার তেল নিয়ে ফেরি করে বাড়ি বাড়ি বিক্রি করতেন লিয়াকত আলী পলাশ। বর্তমানে তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় বেড়ে ওঠা সৈয়দ লিয়াকত আলী পলাশ কালো জিরা, অষ্ট মঙ্গলা তেলসহ বিভিন্ন ভেষজ তেল উৎপাদনকারী ও উদ্ভাবন করেন। তার জন্মস্থান আলফাডাঙ্গা উপজেলার সীমানা ঘেঁষা মধুমতি নদীর তীরবর্তী নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার চরবগজুড়ি গ্রামে।

এই অঞ্চলে কালোজিরা তেল, অষ্ট মঙ্গলা তেল, নিমতেল ও তিল তেলসহ প্রায় ১১টি পণ্য নিজে গবেষণা করে উদ্ভাবন করেছেন তিনি। উদ্ভাবন করেছেন এক নতুন ধারার চিকিৎসা পদ্ধতি যে পদ্ধতিতে মানুষের শরীরে রোগ নিরাময় রোগ প্রতিরোধ ও রূপচর্চায় অন্যন্য ভূমিকা পালনের পাশাপাশি জাতিকে ওষুধ নির্ভরতার হাত থেকে মুক্তি দিতে সাড়া জাগিয়েছেন সৈয়দ লিয়াকত আলী পলাশ। তিনি এখন এসব তেল তৈরি করতে গড়ে তুলেছেন একটি কারখানা। যা গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া বরাশুর গ্রামে। সেখানে প্রায় শতাধিক মানুষ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এসব পণ্য প্রায় এক হাজার ৩০০ দোকানের মাধ্যমে ১৫ লক্ষাধিক মানুষের মাঝে বাজারজাত করে সুনাম অর্জন করেছেন। নিজের শ্রমঘামে তিনি এখন একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে বনে গেছেন।

তার উদ্যেক্তা হওয়ার পেছনে রয়েছে কঠোর অধ্যাবসায়। প্রাইমারির গণ্ডি পার হতেই বাবা মারা যান। আর কোনোভাই না থাকায় সংসারের দায়িত্ব পড়ে তার ওপর। পরের বাসায় কাজ করে পড়ালেখা করেছেন ১৯৮৮ সালে আলফাডাঙ্গার পানাইল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে এইচএসসি ও বিএ পাস করেন নড়াইল ভিক্টেরিয়া কলেজ থেকে। এরপর ঢাকাতে চলে যান চাকরি করার জন্য। অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তিনি কাজ করেছেন। পরিশেষে ২০০৪ সালে ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের কালো জিরা তেল (নাইজেলা) ট্রেইনার হয়ে কাজ করেন। সেখান থেকে নির্ভেজাল ভেজষ কালোজিরা তেল তৈরি করে মানুষের দৌড়গড়ায় পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। বুকের মাঝে সেই স্বপ্ন লালন করে ২০১৩ সালে ৫০০ গ্রাম কালোজিরা তেল নিয়ে ফেরি করে বিক্রি শুরু করে আজ গড়ে তোলেছেন ‘অভিজাত মার্কেটিং গ্রুপ’। বর্তমান এই প্রতিষ্ঠানে ১১টি পণ্য রয়েছে। মধু, কালোজিরা তেল, অষ্ট মঙ্গলা তেল, নিম তেল, তিল তেল, সরিষার তেল, ডায়ামিন পাউডার, ম্যাজিক পাউডার, ত্রিফলা পাউডার ও রূপশ্রী ক্রিম। তবে তিনি আরো কিছু নতুন পণ্য শিগগির মানুষের সামনে আমদানি করবেন।

ভেষজ তেলে উপকার পাওয়া আলফাডাঙ্গার ইকবাল হোসেন জানান, লিয়াকত ভাইয়ের উদ্ভাবন করা তেলে আমার অনেক উপকার হয়েছে। শুনেছি অনেক মানুষ বিভিন্ন রোগ থেকে এই তেল ব্যবহার করে পরিত্রাণ পেয়েছেন।

সৈয়দ লিয়াকত আলী পলাশ জানান, আমার উদ্ভাভিত পণ্য মানুষের শরীরে রোগ নিরাময় করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং রূপ চর্চার কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। শুধু তাই নয় করোনাকালে এই প্রতিষ্ঠানের ভেষজ কিছু পণ্য ব্যবহার করে অনেক করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী উপকার পেয়েছেন। আমার কম্পানির নাম দেওয়া হয়েছে ‘অভিজাত মার্কেটিং গ্রুপ’। আমাদের তৈরি আল-মদিনা ব্যান্ডের পণ্য সামগ্রী ইতোমধ্যে স্বদেশ পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে মানুষের মধ্যে ব্যবহার হচ্ছে। এসব পণ্য পৌঁছে দিতে খুলনা জেলার টুথপাড়া এলাকায় ‘আল-মদিনা হেল্দী ওয়েল অ্যান্ড ফুড’ নামে একটি শোরুম রয়েছে। আমার লক্ষ্য বাংলাদেশের প্রতিটি জেলাতে একটি করে শোরুম গড়ে তুলব। মানুষের সেবার পাশাপাশি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। সৈয়দ লিয়াকত আলী (পলাশ) আশা করেন, সরকার থেকে সার্বিক সহযোগিতা পেলে আমার পরিশ্রম দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি আরো বেগবান হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা