kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ বৈশাখ ১৪২৮। ২০ এপ্রিল ২০২১। ৭ রমজান ১৪৪২

নিষ্ঠুর বাবা! মায়ের কোল থেকে সন্তানকে ডোবায়...

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, রংপুর   

১০ মার্চ, ২০২১ ১৭:১২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নিষ্ঠুর বাবা! মায়ের কোল থেকে সন্তানকে ডোবায়...

তিনটি পুত্রের পর একটি কন্যা সন্তানের অপেক্ষায় ছিলেন বাবা হামিদুর রহমান। আশা ছিল এবারের সন্তানটি হবে মেয়ে। কিন্তু স্ত্রী ফরিদা বেগম হাসপাতালে চতুর্থ সন্তানটিও ছেলে জন্ম দেন। এতে ক্ষুব্দ ছিলেন হামিদুর রহমান। ৪৮ দিনের মাথায় ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুটিকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে হত্যার পর বাড়ির পাশে একটি ডোবায় ফেলে দেন তিনি। পরে এলাকায় প্রচার চালান জ্বীন বা ভুতে তুলে নিয়ে তার সন্তানকে হত্যা করেছে। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার (৮ মার্চ) রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা গোপীনাথপুর ইউনিয়নের আরাজী দিলালপুর বানিয়াপাড়ায়।

পুলিশ ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে বাবা ও মাকে আটক করে। পরে শিশুটির হত্যার আসল রহস্য উন্মোচন হয়। গতকাল মঙ্গলবার (৯ মার্চ) রংপুরের বদরগঞ্জ আমলী আদালতের বিজ্ঞ বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় শিশুটির বাবা হামিদুর রহমান। এ সময় তিনি নিজের সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। 

এ ঘটনায় শিশুটির দাদা নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে বদরগঞ্জ থানায় ছেলে হামিদুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

বদরগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘মেয়ে সন্তানের আশায় পর পর চারটি ছেলের জন্ম হওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিল শিশুটির বাবা হামিদুর। সিজারের সময় রংপুরে মেডিক্যালে অপর এক প্রসূতি মায়ের সঙ্গে হামিদুর সন্তান বদলের মৌখিক চুক্তি করেন। ওই মহিলার আগের তিন জমজ কন্যার পর চতুর্থটিও মেয়ে জন্ম হয়। পরে তিনি তার কন্যা সন্তানটি বদল করতে চায়নি। এতে মনে মনে ক্ষুদ্ধ ছিল ঘাতক হামিদুর। আদালতে সে সন্তান হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।'

মামলা সুত্রে জানা যায়, শিশুটির মা ফরিদা বেগম গত রবিবার সন্ধ্যায় ঘুমন্ত শিশু সুইম বাবুকে ঘরে রেখে কাজের জন্য কিছু সময়ে বাইরে যান। ফিরে এসে দেখেন ঘর অন্ধকার। কিন্তু শিশুটি নেই। পরে হামিদুর রহমানকে খবর দেওয়া হয়। তাৎক্ষণিকভাবে নিখোঁজের বিষয়টি জানানো হয় স্থানীয় পুলিশকে। সারারাত কোথাও শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরের দিন সোমবার ভোরের দিকে বাড়ির পাশে একটি ডোবার কিনারে শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।

পরে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ওই সময় শিশুটির মা ফরিদা বেগম ও বাবা হামিদুর রহমানকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। এক পর্যায়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে হামিদুর নিজের সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

এদিকে স্বজনরা জানায়, হামিদুর রহমান পার্শ্ববর্তী পার্বতীপুর উপজেলায় একটি স্বর্ণের দোকানের কর্মচারি। তার আশা ছিল এবারের সন্তানটি হবে পুত্র। কিন্তু ছেলের জন্ম হওয়ায় ক্ষুদ্ধ হন তিনি। জন্মের পর থেকে শিশুটিকে হত্যার পরিকল্পনা করে সে। ঘটনার দিন তিনি কর্মস্থল থেকে আগাম ছুটি নিয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরেন। পরে তিনি লালদীঘি হাটে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। কিন্তু তিনি হাটে না গিয়ে গোপনে বাড়ির এক কোনে অন্ধকারে লুকিয়ে ছিলেন। স্ত্রী ফরিদা বেগম শিশুটিকে ঘরে রেখে বাইরে যায়। ওই সময় ঘুমন্ত শিশুটিকে ঘর থেকে এনে হত্যার পর ডোবায় ফেলে আবারও হাটে চলে আসেন তিনি। এর কিছুক্ষণ পর ফরিদা ঘরে গিয়ে কোলের সন্তানকে না পেয়ে হামিদুরকে খবর দেন। কিছুক্ষণ পর এসে হামিদুর স্ত্রী বলেন হয়তো জ্বীন বা ভুতে শিশুটি নিয়ে গেছে। পরে ফেরত দিয়ে যাবে বলে স্ত্রীকে শান্তনা দেন। 

সন্তান হারিয়ে ফরিদা বেগম বলেন, ‘আগের তিন ছেলে জন্ম হলেও আমি পরেরটি বদল করতে রাজী হইনি। কিন্তু আমার স্বামী চতুর্থ ছেলেকে যে গোপনে হত্যার পরিকল্পনা করবে তা ধারণা ছিল না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা