kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ বৈশাখ ১৪২৮। ২২ এপ্রিল ২০২১। ৯ রমজান ১৪৪২

পুনর্বাসন-ক্ষতিপূরণ না পেলে পাকশী না ছাড়ার অঙ্গীকার!

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি   

৮ মার্চ, ২০২১ ২১:৩৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পুনর্বাসন-ক্ষতিপূরণ না পেলে পাকশী না ছাড়ার অঙ্গীকার!

পুনর্বাসন-ক্ষতিপূরণ দিলে উঠে যাব, না দিলে কখনোই উঠব না। পাকশী ছাড়ব না। জোর করে নিজের জন্মস্থান থেকে অবৈধভাবে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করা হলে তা শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে। আগামীকালই (মঙ্গলবার) নয়, যেকোনো দিন বা সময়ই অবৈধভাবে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করা হলে তার ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করার ঘোষণা ও অঙ্গীকার করেছে পাকশী উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি।

আজ সোমবার বিকেলে পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) কার্যালয়সংলগ্ন আমতলা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পাকশী রেলভূমিতে বসবাসরত জনবসতিদের সংগঠন পাকশী উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির প্রতিবাদ সভা থেকে এ ঘোষণা ও অঙ্গীকার করা হয়।

এর আগে পাকশীর রেলওয়ে ভূমিতে বসবাসকৃত কয়েকশত নারী পুরুষ, শিশু ও কিশোররা মাথায় সাদা (কাফনের) কাপড় বেঁধে হাতে ফেস্টুন ও ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে প্রতিবাদ সভাস্থলে আসে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম রফির সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রশিদুল্লাহ, পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুল ইসলাম হব্বুল, পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বাবু মন্ডল, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, পাবনা জেলা জাসদ সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক মেম্বার জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, আওয়ামী লীগ নেতা রওশন আলম, সাবেক যুবলীগ নেতা সাইফুজ্জামান পিন্টু, ইউপি সদস্য মনোয়ার হোসেন লিটন, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হালিম মিঠু প্রমুখ।

সিরাজুল ইসলাম শিরু গোল্ডের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, মানবতার মা, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়েছেন। হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচরে স্থায়ীভাবে বসতি গড়ে দিয়েছেন। খাদ্যের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। দুস্থদের বসবাসের জন্য বাড়ি তৈরি করে দিচ্ছেন। ভূমিহীনদের জমি ও ঘর প্রদান করছেন। সেখানে আমরা পাকশীবাসী রয়েছে উচ্ছেদ আতঙ্কে। বারবার আমাদের উচ্ছেদ করার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। চিঠি প্রদান করা হচ্ছে। এখন আমরা আতঙ্কিত। অসহায়। দিশেহারা।

বক্তারা আরো বলেন, আমরা কয়েক প্রজন্ম ধরে পাকশীতে বসবাস করছি। তাই পাকশীতে বসবাস আমাদের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পাকশী সৌন্দর্য ও মুক্তিযোদ্ধাদের চারণভূমি। এক সময় ঢাকার সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডই এই পাকশীতে পালন করা হতো। সেই পাকশী আজকে আমাদের অবৈধভাবে ছাড়তে হবে; এটা মেনে নেওয়া হবে না। আমরা পারমাণবিক প্রকল্পের বিরুদ্ধে নই। আমরা সহযোগিতা করতে চাই। তবে আমাদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পাবনা জেলা পরিষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম বাবু মন্ডল জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য সেনাবাহিনীর ফোর্স বেইজ ক্যাম্প স্থাপনের জন্য রেলওয়ে থেকে জমি প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ পাকশীতে কয়েক প্রজন্ম ধরে বসবাসকৃত মানুষের কথা বিবেচনা না করে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাকশী থেকে উচ্ছেদ করা হলে দুস্থ, সহায় সম্বলহীন মানুষরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ এমন পরিবারও রয়েছে যাদের বসত বাড়ি পাকশী থেকে ভেঙে নিতে বা অন্য কোথাও বসতি গড়ে তোলার আর্থিক কোনো সুব্যবস্থা নেই। তাই তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া অত্যাবশ্যক। তাই যতক্ষণ পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা না করা হবে ততোক্ষণ পাকশী ছাড়া হবে না।

শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. রশিদুল্লাহ বলেন, পাকশীবাসীর দুর্দশার কথা স্থানীয় সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাসের মাধ্যমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। বিষয়টি তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জানাবেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু এখন এই কবি মন্ত্রীর কাছে গেলেই আমাদেরকে তার কবিতা ধরিয়ে দেন। এখন আমাদের ফোনও রিসিভ করেন না। অথচ এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এক সময় আমাদের নেতাকর্মীদের মোটর সাইকেলে চড়ে কবি মন্ত্রী বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছেন। কবি মন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের সফল ভোগ করা থেকে পাকশীবাসীকে বঞ্চিত করার অপচেষ্টা করছেন বলেও মন্তব্য করেন।

পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা (ডিইও) মো. নুরুজ্জামান জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য সেনাবাহিনীর চাহিদাকৃত জমি রেলওয়ে প্রদান করেছে। সেই জমি বুঝিয়ে দিতেই উচ্ছেদ করার প্রয়োজন পড়ছে। তবে স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়টি সরকার কিভাবে দেখবে সেটা সরকারের বিষয় বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা