kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ বৈশাখ ১৪২৮। ২২ এপ্রিল ২০২১। ৯ রমজান ১৪৪২

কুড়মালি ভাষায় ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ

সনাতন দাশ, তাড়াশ-রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ)   

৬ মার্চ, ২০২১ ২২:১৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কুড়মালি ভাষায় ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ কুড়মালি ভাষায় অনুবাদ করেছেন উজ্জ্বল মাহাতো। এটি ভিন্ন ভাষায় ১৩তম অনুবাদ এবং ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক ভাষায় প্রথম অনুবাদ।

উজ্জ্বল মাহাতো পেশায় একজন স্পেয়ার মেকানিক। নেশা তার মাতৃভাষা কুড়মালি ভাষাসাহিত্য নিয়ে গবেষণা। তার জন্ম সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পশ্চিম আটঘরিয়া গ্রামে। বাবা স্কুল শিক্ষক প্রয়াত দিলীপ মাহাতো ও মাতা প্রয়াত শকুন্তলা মাহাতো। তিনি পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ পাস করে বর্তমানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন।

২০১৩ সালে মাহাতো জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি সম্বলিত তার প্রথম উপন্যাস ‘কারাম’ প্রকাশিত হয়। ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক মাহাতো জনগোষ্ঠির ভাষা ও সংস্কৃতির বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে তিনি নিয়মিত লেখালেখি করে থাকেন। সম্প্রতি তার রচিত ‘কঁআথুয়েঁন: মাহাতো ডিকশনারি’ গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়ছে। 

এতে তিনি স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে প্রতিটি বিষয় ও শব্দ কুড়মালি, বাংলা ও ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন। আর এ বইয়েই তিনি সংযোজন করেছেন আমাদের জাতীয় সংগীত ও ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ কুড়মালি ভাষার অনুবাদ।

উজ্জ্বল মাহাতো কালের কণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও মরিশাসে প্রায় দুই কোটি মাহাতো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির বসবাস। তাদের মাতৃভাষা কুর্মি বা কুড়মালি।

কুড়মালি একটি স্বতন্ত্র ভাষা। যার রয়েছে নিজস্ব লিপি বা বর্ণমালা। কিন্তু সরকারি উদাসীনতায় সে লিপি আজো স্বীকৃতি পায়নি। অথচ আজও তারা নিজেদের মধ্যে মাতৃভাষায় কথা বলতে অভ্যস্থ। অন্যদের সাথে কথা বলার সময় তারা বাংলা ভাষাকে ব্যবহার করে থাকেন।

উজ্জ্বল মাহাতো আরো বলেন, হাজার বছরে বাঙালির নিজস্ব কোনো স্বাধীন রাষ্ট্র ছিল না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেমন প্রাদেশিক ভাষা বাংলাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। তেমনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র উপহার দিয়েছিলেন। আর এর মূল দিক নির্দেশনা ছিল এই  ৭ই মার্চের ভাষণ। এ কারণে আমার বইয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত জাতীয় সঙ্গীত ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ তাৎপর্য বিবেচনা করে কুড়মালি ভাষায় অনুবাদ করেছি। যা লাখ লাখ মাহাতো জনগোষ্ঠির মানুষেরা তাদের মাতৃভাষায় পড়ে জাতির জনক কে হৃদয়ে ধারণ করতে পারবেন।

‘কঁআথুয়েঁন: মাহাতো ডিকশনারি’ বইটিতে সংযুক্ত ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণটি অনুবাদ করতে সময় লেগেছে এক মাস। কেননা কুড়মালি ভাষায় চলনসই প্রতি শব্দ খুঁজে বের করতে হয়েছে বেশ সময় ধরে। বইমেলা উপলক্ষে ২০২০ সালে রুপম প্রকাশনী থেকে বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়। তবে তিনি এখনো বইটির কোনো কপি রাইট তৈরি করেননি।

৭ই মার্চের ভাষণ অনুবাদ করতে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কোনো অনুমোদন নিয়েছেন কিনা? জানতে চাইলে, লেখক বলেন, বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নামে কোনো প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনার নাম করণের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুমোদন নিতে হবে। তবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী নির্ভর যেকোনো ধরনের নাটক, লেখালেখি ও সাহিত্য কর্ম এবং ক্রিড়ানুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কোনো প্রকার অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। এ কারণে আমি এ ভাষণ অনুবাদের জন্য বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কাছে কোনো প্রকার আবেদন করিনি।

এ প্রসঙ্গে ভাষা ইনস্টিটিউটের সাবেক রিসার্স ফেলো ও বর্তমান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা ইনিস্টিটিউটের লেকচারার সোহান মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, আমার জানা মতে আর কোনো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির ভাষায় জাতির জনকের দেয়া ৭ই মার্চের ভাষণ অনুদিত হয়নি। সেদিক দিয়ে দেখলে এটিই প্রথম। কুড়মালি ভাষায় অনুবাদের মধ্য দিয়ে এটি ১৩তম অনুবাদ হিসেবে লেখক  উজ্জ্বল মাহাতো দাবি করেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা