kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

অনাবৃষ্টিতে হুমকির মুখে চা শিল্প

হবিগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি   

৬ মার্চ, ২০২১ ১৩:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অনাবৃষ্টিতে হুমকির মুখে চা শিল্প

হবিগঞ্জ তথা বৃহত্তর সিলেটের চা শিল্প এবার বৃষ্টির অভাবে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এখন পর্যন্ত শুরু হয়নি নতুন মৌসুম। সেচের অভাবে গাছের পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দেখা দিয়েছে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ।

চা বাগান শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে আগাম বৃষ্টি আসায় উৎপাদন মৌসুম শুরু হলে সারাদেশে চায়ের বাম্পার ফলন হয়। ২০২০ সালেও ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে বৃষ্টি হলে যথাসময়ে মৌসুম শুরু হয় এবং ভালো ফলন হয়। সাধারণত মার্চের প্রথম দিকেই শুরু হয় চায়ের নতুন মৌসুম। যদি ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে বৃষ্টি আসে তাকে চা বাগানে বলা হয় ‘গোল্ডেন সাওয়ার’। এ বছর গোল্ডেন শাওয়ারের দেখা তো মেলেইনি, বরং গত ৫ মাস ধরে কোনো বৃষ্টিই হয়নি।

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সুরামা চা বাগানের ব্যবস্থাপক আবুল কাশেস বলেন, ৫ মাস ধরে কোনো বৃষ্টি নেই। পানির রিজার্ভারও শেষ হয়েছে। ফলে সেচ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। অল্প সেচ দিয়ে কোনভাবে নতুন লাগানো গাছগুলোকে রক্ষা করা হয়েছে। এখন বৃষ্টি না আসলে বাগানের বড় ধরনের ক্ষতি হবে। সাম্প্রতিককালে এ ধরনের অনাবৃষ্টির দেখা মেলেনি চা শিল্পে।

চুনারুঘাট উপজেলার চানপুর চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক সরওয়ার রেজা চৌধুরী জানান, এবার দেরিতে বৃষ্টি হওয়াও এখন পর্যন্ত প্রতিটি বাগানের উৎপাদন ৪০-৫০ হাজার কেজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টি আসতে বিলম্ব হলে এই ক্ষতি আরো বাড়বে। বিশেষ করে নতুন করে লাগানো গাছ এবং স্প্রুনিং করা গাছের ক্ষতি বেশি হচ্ছে।

একই উপজেলার দেউন্দি চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক দেবাশীষ দাস জানান, এখনও যদি বৃষ্টি আসে তাহলে ৮-১০ দিনের মাঝেই উৎপাদন শুরু করা যাবে। শনিবার জেলা শহরে ব্যাপক বৃষ্টি হলেও বাগান এলাকায় বৃষ্টির দেখা মেলেনি। 

বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) এর পরিচালক মোহাম্মদ আলী জানান, আগাম বৃষ্টি চা শিল্পের জন্য আনন্দময় প্রাপ্তি। এই সময়ে প্রতিটি বৃষ্টির ফোঁটা যেন আল্লাহর রহমত। নতুন কুঁড়ি গজানো ও চা চারা সুরক্ষার জন্য এই বৃষ্টি আশির্বাদ স্বরূপ। এই বৃষ্টির ফলে চায়ের কুঁড়ি সতেজ ও পুষ্ট হয় এবং চায়ের চারা সতেজ হয়। রোগবালাই থেকে অনেকটা সুরক্ষা পাওয়া যায়। কিন্তু এবার আগাম বৃষ্টি পাওয়া যায়নি কোনো বাগানে। এখন পর্যন্ত বৃষ্টি না হওয়ায় চা শিল্পের জন্য ভয়ানক হুমকি দেখা দিয়েছে। অনেক বাগানের নেই কোনো সেচের সুবিধা। আবার যাদের সুবিধা আছে তাদেরও পানির রিজার্ভার শেষ হয়ে গেছে। এখন আল্লাহর ওপর ভরসা করা ছাড়া কিছু করার নেই।

তিনি আরো জানান, খড়ার কারণে চা বাগানগুলো লাল মাকড়সা বা রেড স্পাইডার রোগে আক্রান্ত হয়েছে। পাশাপাশি হেলোফেলটিস বা মশার আক্রমণও দেখা দেয় পুরো চা বাগান এলাকাজুড়ে। বৃষ্টি আসতে বিলম্ব হলে এই রোগের প্রাদুর্ভাব আরো বেড়ে যেতে পারে।

গত বছর বাংলাদেশে রেকর্ড ৯ কোটি ৬৯ লাখ ৬২ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল। এ বছর এখনো লক্ষ্যমাত্র সেভাবে চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে খড়ার কারণে এবার উৎপাদণের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন চা শিল্প সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা