kalerkantho

বুধবার । ৮ বৈশাখ ১৪২৮। ২১ এপ্রিল ২০২১। ৮ রমজান ১৪৪২

সবুজের বুকে হলুদ রাঙা হাসি

দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

৫ মার্চ, ২০২১ ১৪:৩৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সবুজের বুকে হলুদ রাঙা হাসি

দিগন্ত বিস্তর সবুজ ফসলের মাঠ, তার বুকজুড়ে হলুদে রাঙ্গানো। এ যেন এক নতুন সূর্যের হাসি। এটি কুমিল্লার দেবীদ্বার পৌর এলাকার গুনাইঘর গ্রামের নন্দীবাড়ির পূর্বপাশে ফসলের মাঠের দৃশ্য। দেবীদ্বার সদর থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম কোনে অবস্থিত এই ফসলি মাঠে হলুদ ছড়ানো ‘সূর্যমূখী’ চাষ করা জমিকে ঘিরে এমন দৃশ্য। প্রতিদিন আশপাশ এলাকার নানা বয়সের মানুষ ছুটে আসছেন এই নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে।

পরিবার-পরিজন, প্রেমিক যুগল, বন্ধু-বান্ধব, সাংবাদিক সহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষের পদভারে ওই এলাকা এখন সবার পরিচিত। ছুটির দিন বা কাজের ফাঁকে এক নজর সূর্যের হাসি দেখতে যেয়ে মনোরম পরিবেশের সাথে নিজেকে ক্যামেরা বন্দি, সেলফি তোলার চলে প্রতিযোগিতা।

সূর্যমূখী ক্ষেতের মালিক আবু তাহের (৫০) ওই গ্রামের মৃত. আব্দুল জলিলের ছেল। তিনি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমি পাহারায় থাকেন। তিনি জানান, সকাল থেকে সারা দিন সূর্যমূখী ফসল দেখতে এবং ছবি তুলতে শত শত মানুষ এখানে ভিড় করেন। দিনভর পাহারায় থাকলেও আনন্দও লাগে। কারণ তার এ সূর্যমূখী ক্ষেত দেখার জন্য দূর দূরান্ত থেকে পরিবার পরিজন, বন্ধু বান্ধব সহ নানা বয়সী নানা শ্রেণি পেশার মানুষ ভিড় করছেন। এ ক্ষেতের উছিলায় গ্রামটিও অনেকের কাছে পরিচিতি লাভ করেছে।

তবে এর মধ্যেও আছে শঙ্কা। কৃষক আবু তাহের বলেন, অন্যান্য ফসল নগদ বিক্রি করা যায়। বাজারজাত করার পূর্বেই জমি থেকেও ব্যবসায়িরা ফসল কিনে নেয়। সূর্যমূখী আমাদের এ এলাকায় উৎপাদন কম হয়, কৃষকের মধ্যে এখনো আগ্রহ সৃষ্টি হয়নি। সূর্যমূখীর তৈল সংগ্রহে কৃষি বিভাগের সহযোগিতা নিতে হবে। ফসল ওঠার পর প্রক্রিয়াকরণে সহজ কিংবা লাভের হিসেব থেকেই চিন্তা করব, আগামীতে সূর্যমূখী চাষ করবেন কিনা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইদুজ্জামন জানান, পরীক্ষামূলক 'সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, বিএআর আই কুমিল্লা’র তত্বাবধানে দেবীদ্বারের গুনাইঘর গ্রামে 'সূর্যমূখীর ব্লক' প্রদর্শনী করা হয়েছে। এর বিস্তার বৃদ্ধি, উপযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। ভোজ্য তেল সোয়াবিন নানা প্রক্রিয়াত কারণে অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়ছে। সুর্যমূখী ভোজ্য তৈল হিসেবে স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী। অবশ্য এর ক্রচিং ইন্ডাস্ট্রিজ নোয়াখালীতে আছে। আমাদের এখানকার সূর্যমূখীর বীজ নোয়াখালীর ক্রচিং ইন্ডাস্ট্রিজে পাঠিয়ে ওখান থেকে পিষিয়ে তৈল বের করে আনতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা