kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ বৈশাখ ১৪২৮। ২২ এপ্রিল ২০২১। ৯ রমজান ১৪৪২

জাটকা সংরক্ষণ মৌসুমে জেলেদের কিস্তি বন্ধ!

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

৪ মার্চ, ২০২১ ১৯:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাটকা সংরক্ষণ মৌসুমে জেলেদের কিস্তি বন্ধ!

জাটকা সংরক্ষণ মৌসুমে চাঁদপুরে জেলেদের ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ থাকবে। শুধু তাই নয়, জেলার পদ্মা ও মেঘনায় জাটকা সংরক্ষণ মৌসুমের এই দুই মাস-বেকার এসব জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ জন্য জেলেদের সবধরণের সহযোগিতা দিতে জনপ্রতিনিধিদের পাশে নিয়ে কাজ করতে চান জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক জানান, মার্চ-এপ্রিল এই দুই মাস জাটকা সংরক্ষণের ফলে সরকারি তালিকায় থাকা প্রায় ৫২ হাজার জেলে বেকার। নদীতে মাছ শিকার করতে না পারায় তাদের সিংহভাগ আর্থিক দৈন্যতায় পড়েছে। বিয়য়টি প্রশাসনের নজরে আসার পর জেলের সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করেন তিনি। এ সময় জেলেদের দাবির প্রেক্ষিতে বিভিন্ন এনজিও থেকে তারা যে ঋণ নিয়েছেন। তার কিস্তির টাকা এই দুই মাস সংগ্রহ না করতে সংশ্লিষ্ট এনজিওগুলোতে চিঠি দিয়েছেন। 

শুধু তাই নয়, সরকারি খাদ্য সহায়তা হিসেবে জেলেদের যে চাল দেওয়া হচ্ছে তাও সঠিক পরিমাণে যথাসময় হাতে পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানান, জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ।

চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম দেওয়ান জানান, জেলেদের যৌক্তিক দাবিগুলো জেলা প্রশাসক বিবেচনায় নিয়েছেন। এই জন্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমরাও তাদের সহযোগিতা করতে চাই। জেলেরা যেনো সরকার নির্ধারিত পরিমাণে অর্থাৎ প্রতি মাসে ৪০ কেজি হারে চাল বরাদ্দ পান সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁদপুর সদর, হাইমচর ও মতলব উত্তর উপজেলার প্রায় ৫২ হাজার জেলে রয়েছে। সরকারি তালিকায় থাকা এমন জেলেরা পদ্মা ও মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে বছরের বেশির ভাগ সময় তারা মূল পেশার সঙ্গে জড়িত থাকলেও জাটকা সংরক্ষণের দুই মাস এবং মা ইলিশ সংরক্ষণের ২২ দিন মিলে পৌঁনে তিন মাস পেশা হারিয়ে দুর্বিসহ জীবনযাপন করেন এই জনপদের এসব জেলে। এ সময় সরকারিভাবে প্রণোদনা হিসেবে খাদ্য সহায়তা এবং অতিদরিদ্র জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের নানা উপকরণ দেওয়া হয়। তবে সরকারি এমন কিছু সহায়তা পেলেও জেলেদের বড় একটি অংশ বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যাংক থেকে জাল ও নৌকা তৈরির জন্য ঋণ নিয়ে থাকেন। আবার কেউ কেউ মহাজনের কাছ থেকেও চড়া সুদে ঋণ নেন।

এমন পরিস্থিতিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে বেকার এসব জেলেরা চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়েন। ফলে নানা সমস্যায় থাকা জেলেরা ঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন। আর এই জন্য চরম মাশুল গুণতে হয়তে তাদের। জেলেদের এমন পরিস্থিতি সরেজমিন ঘুরে দেখতে মাঠ পর্যায়ে জেলেদের মুখোমুখি হচ্ছেন জেলা প্রশাসকসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা।

প্রসঙ্গত, জাটকা সংরক্ষণ অভিযান কালে পরিবহন, বিক্রি এবং মজুত নিষিদ্ধ করেছে সরকার। তবে এর সঙ্গে কেউ জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা