kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ বৈশাখ ১৪২৮। ২০ এপ্রিল ২০২১। ৭ রমজান ১৪৪২

জালিয়াতি করে নিয়োগ, নিয়োগ পেয়েও জালিয়াতি!

নীলফামারী প্রতিনিধি   

৪ মার্চ, ২০২১ ১৬:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জালিয়াতি করে নিয়োগ, নিয়োগ পেয়েও জালিয়াতি!

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় শামসুল উলুম দাখিল মাদরাসার সুপার মো. আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ গ্রহণের অভিযোগ করেছেন ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার রণচণ্ডি ইউনিয়নের অবিলের বাজারে মাদরাসাটির মাঠে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তারা।

তাদের অভিযোগ, মেয়াদ উত্তীর্ণ একটি কমিটি ওই নিয়োগ প্রদান করেছেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির স্বীকৃতি না থাকলেও ওই স্বীকৃতির ভুয়া কাগজ তৈরি করে নিয়োগ নেন তিনি। এরপর থেকে জড়িয়ে পড়েন নানা অনিয়মে।

সংবাদ সম্মেলনে ওই মাদরাসার শিক্ষক এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি নবীবুর রহমান লিখিত বক্তব্যে বলেন, সুপার মো. আব্দুল মতিন ২০১৯ সালের ২ মার্চ নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে ওই সালের ১৩ মার্চ যোগদান করেন। তাকে নিয়োগ দেওয়া ওই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছিল ২০১৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির স্বীকৃতির মেয়াদ ছিল ২০১৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। এরপর তার নিয়োগকালীন সময় পর্যন্ত স্বীকৃতি নবায়ন করা হয়নি। বিধিমোতাবেক স্বীকৃতির মেয়াদ শেষ হলে কোনো নিয়োগ বৈধ হবে না। বিষয়টি তিনি জানতেন, এজন্য জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভুয়া স্বীকৃতির কাগজ তৈরি করে নিয়োগ নেন।

তিনি আরো বলেন, অবৈধ পথে প্রতিষ্ঠানটির সুপার পদটি বাগিয়ে নিয়ে তিনি নানা অর্থনৈতিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি। তার কর্মকালীন সময়ে প্রতিষ্ঠানের আয়ের এক লাখ ৬৪ হাজার ৭০০ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ সকল অনিয়মের অভিযোগে সুপার মো. আব্দুল মতিনকে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি সাময়িক বরখাস্ত করেছে বর্তমান কমিটি। এরপরও তিনি অবৈধ্য প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা চালাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটিতে।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির সহকারি সুপারিন্টেনডেন্ট এবিএম আজাহারুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মো. আসাদুল হক, সুজা মিয়া, সমাজ সেবক আফছার আলী।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির সুপার মো. আবুল মতিনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কমিটির ওই সময়ের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন মো. মাহতাব উদ্দিন। তিনি বর্তমান কমিটিতেও একই দায়িত্বে রয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমাকে ভুল বুঝিয়ে কাগজপত্রে আমার স্বাক্ষর নিয়েছিলেন মো. আব্দুল মতিন। পরে তার প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারি। ফলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানের সুপার এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির মধ্যে দ্বন্দ্ব আছে বলে জেনেছি। নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা