kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ বৈশাখ ১৪২৮। ২০ এপ্রিল ২০২১। ৭ রমজান ১৪৪২

বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন তাঁরা?

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি    

৪ মার্চ, ২০২১ ১৩:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন তাঁরা?

যশোরের চৌগাছায় দীর্ঘ ৭ বছর ধরে একই পরিবারের ৪ জনসহ নিখোঁজ হওয়া ৭ ব্যক্তির আজও সন্ধান মেলেনি। মালায়েশিয়ায় যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়ে তাঁরা আর ফিরে আসেননি বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। জীবিত না মৃত তথ্য জানতে সরকারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। 

ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মুক্তদাহ গ্রামের একই পরিবারে ৪ জন মালায়েশিয়া যাওয়ার নাম করে নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁরা হলেন- আতিয়ার রহমানের ছেলে অমিত হাসান মুকুল (৩০), হায়দার আলীর ছেলে আজিজুর রহমান (৪০), মৃত বদরউদ্দিনের ছেলে ফুলজার হোসেন (৪৬), মৃত ছবেদ আলীর ছেলে শরিফুল ইসলাম খোকন (৪০)। এছাড়া একই গ্রামের মৃত আত্তাব হোসেনের ছেলে শফিকুল ইসলাম (২৭), রোস্তমপুর গ্রামের মৃত সেকেন্দার আলীর ছেলে রমজান আলী (৪৫) ও দুর্গাবরকাটি গ্রামের উমসান আলীর ছেলে লিটন হোসেন (২৭) আজও নিখোঁজ। তাঁরা সবাই ২০১৩ সালে ১ জুন মালায়েশিয়ায় যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু কেউ আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। 

নিখোঁজদের পরিবার জানিয়েছে, অল্প টাকায় মালায়েশিয়া যাবার প্রলোভনে পড়ে তারা আদম ব্যাপারীদের খপ্পরে পড়েন। মুক্তদাহ গ্রামের ঘরজামাই সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা রাজু আহমেদ ওরফে ফজলুর রহমান তাদেরকে ফুসলিয়ে পানিপথে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছেন। ২০১৩ সালের ১ জুন তারা বাড়ি থেকে একযোগে বের হন। কিন্তু তখনও পরিবারের সদস্যরা জানে না তাঁরা বিদেশের যেতে বাড়ি ত্যাগ করছেন। জুন মাসের ১২ তারিখে অমিত হাসান মুকুল তাঁর বাড়িতে ফোন করে জানান, আমরা সকলেই পানি পথে মালায়েশিয়ায় যাচ্ছি। ট্রলারে উঠা হয়ে গেছে, এখনই রওনা হবো। ১২ তারিখের ওই কথাই তাদের পরিবারের সাথে শেষ কথা। 

মুকুলের স্ত্রী চামেলী খাতুন কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, যে নম্বর থেকে ফোন দিয়েছিল সেই নম্বর বন্ধ। সাত বছর কেটে গেলেও দালালের সন্ধান পাওয়া যায়নি। অতিকষ্টে দিন কাটে আমাদের। নিখোঁজ শরিফুল ইসলাম খোকনের স্ত্রী রেশমা বেগম, ফুলজার রহমানের স্ত্রী রূপভান বেগম হতাশ কণ্ঠে বলেন, বহু চেষ্টা করেও তাদের স্বজনদের খোঁজ পাননি। তারা এখন দারিদ্রতা আর কষ্টের মধ্যে বসবাস করছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, নিখোঁজের ৩ মাস পর তারা মুক্তদাহ গ্রামের ঘরজামাই আদম ব্যাপারী রাজুর কাছে যান। তাঁদের স্বজনদের ফিরে দিতে চাপ দিতে থাকেন। এ সময় রাজু তার সহযোগী চট্টগ্রামের টেকনাফের অপর আদম ব্যাপারী রাশিদুল ইসলামের সাথে কথা বলার সুযোগ করে দেন। টেকনাফের দালাল রাশিদুল তাদেরকে জানান, কোনো সমস্যা নেই তারা দু’এক দিনের মধ্যে মালায়েশিয়ায় পৌঁছে যাবে। পৌঁছানোর পর চুক্তি মোতাবেক ২ লাখ ১০ হাজার করে টাকা দিতে হবে। কিছুদিন পরেই মুক্তদাহ গ্রামের ঘর জামাই দালাল রাজু তাঁর স্ত্রীকে তালাক দিয়ে রাতের আঁধারে আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে টেকনাফ ও মুক্তদাহ গ্রামের দালালের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। আজ পর্যন্ত তাঁদের স্বজন এমনকি কোনো দালালের সন্ধান পাইনি ওই পরিবারগুলো। 

বর্তমানে এ সকল পরিবারে সীমাহীন দারিদ্রতা নেমে এসেছে। অভাব আর দারিদ্রতার সাথে যুদ্ধ করছেন। অনেকের স্ত্রী এখন গার্মেন্টে শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। নিখোঁজ আজিজুর রহমানের স্ত্রী দুটি সন্তান ফেলে অন্যত্র চলে গেছেন। দাদীর কাছে থেকেই তারা অতিকষ্টে জীবন পার করছে। এ অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা জীবিত না মৃত খবর পেতে সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা